বাংলাদেশের ফুটবল জগতে ২০২৫ সালকে আশা, উন্মাদনা এবং শেষমেশ হতাশার বছর হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। একই বছরে তরিক রহমান ১৯ বছর পর তার পিতার সমাধিতে প্রার্থনা করেন, যা দেশের ক্রীড়া আলোচনার সঙ্গে অনিচ্ছাকৃতভাবে যুক্ত হয়েছে।
গত দশকে ঢাকায় বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি পাওয়া প্রায় ধন অনুসন্ধানের মতো ছিল। শপের শেল্ফে ইউরোপীয় ক্লাবের জার্সি ও ক্রিকেটের শার্টের আধিক্য থাকলেও, দেশের নিজস্ব জার্সি কোণায় লুকিয়ে থাকত।
২০২৫ সালের শেষের দিকে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। সাদা শার্টে সবুজ প্যাচ ও লাল ট্রিমের জাতীয় জার্সি এখন স্পোর্টস শপ, রাস্তার স্টলসহ নানা স্থানে সহজলভ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, কখনো কখনো ক্রিকেট ও ইউরোপীয় জার্সির চেয়েও বেশি দেখা যায়।
এই পরিবর্তন দেশের ক্রীড়া চেতনায় ফুটবলের স্থানকে পুনরায় উঁচুতে নিয়ে আসে। পুরুষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে দর্শকসংখ্যা বেড়েছে, সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার তীব্রতা বাড়েছে এবং প্রধান মিডিয়ার দৃষ্টিও ফুটবলের দিকে ঘুরে এসেছে।
এই উত্থানের মূল চালিকাশক্তি ছিল লেস্টার সিটির মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর দেশে আসা। তার পরপরই ক্যাভাল্রি এফসির শামিত শোমে এবং তরুণ প্রতিভা ফাহামেদুল ইসলাম, জয়ান হাকিম, কিউবা মিচেল দলের সঙ্গে যুক্ত হন।
নতুন খেলোয়াড়দের আগমন সঙ্গে সঙ্গে আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার ঘটায়; দেশের ফুটবল এখন একটি নতুন মোড়ে পৌঁছেছে বলে ধারণা তৈরি হয়। ফলস্বরূপ জাতীয় দলকে বাজারজাত করা সহজ হয়ে ওঠে, স্পনসরদের আগ্রহ বাড়ে এবং মার্চেন্ডাইজ বিক্রিতে উত্থান দেখা যায়।
জাতীয় স্টেডিয়াম আবার ফুটবলের উত্সাহে গুঞ্জরিত হতে শুরু করে, যেখানে পূর্বে ক্রিকেটের গর্জন শোনা যেত। তবে মাঠে ফলাফল সেই উন্মাদনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়ে দাঁড়ায়।
বছরের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশকে এশিয়ান কাপের ফাইনালে প্রথমবারের মতো প্রবেশের বিরল সুযোগ দেওয়া হয়, যা ১৯৮০ সালের প্রথম উপস্থিতি থেকে পরবর্তী বড় সাফল্য হতে পারত। টুর্নামেন্টটি ২৪ দল পর্যন্ত সম্প্রসারিত হওয়ায় গ্রুপ সি-তে ভারত, হংকং ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।
কোচ জাভিয়ার ক্যাব্রেরা ও তার স্কোয়াডের কাছে এই চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ করার যথেষ্ট কারণ ছিল। তবে মাঠে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না দেখাতে পারা দলকে আবার প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়।
এই পরিস্থিতিতে আগামী ম্যাচের সূচি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়; দলকে গ্রুপ সি-র প্রতিপক্ষের সঙ্গে ফলপ্রসূ খেলা প্রয়োজন। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ফলাফল নির্ধারণ করবে যে বাংলাদেশ এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এশিয়ান কাপের ফাইনালে পৌঁছাতে পারবে কি না।
সারসংক্ষেপে, ২০২৫ সাল বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য উচ্ছ্বাসের বছর ছিল, যেখানে জার্সির দৃশ্যমানতা, নতুন খেলোয়াড়ের আগমন এবং মিডিয়ার মনোযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে মাঠে ফলাফল সেই উন্মাদনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত, তবে গ্রুপ সি-র পরবর্তী ম্যাচগুলোই দেশের ফুটবলের নতুন দিগন্ত নির্ধারণ করবে।



