19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিলটারি ভিত্তিক পোস্টিংয়ে নির্বাচনী প্রশাসন গঠন ও বিতর্ক

লটারি ভিত্তিক পোস্টিংয়ে নির্বাচনী প্রশাসন গঠন ও বিতর্ক

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার মাঠ প্রশাসন পুনর্গঠন করেছে। লটারি পদ্ধতিতে ৬৪টি জেলার পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট, ৫২৭টি থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) এবং ১৬৬ জন ইউনিয়ন নোংরা অফিসার (ইউএনও) নতুন পোস্টে নিয়োগ করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে কিনা, তা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গোষ্ঠীর মধ্যে মতবৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনার তাহমিনা আহমদ ডয়চে ভেলেকের মতে, বর্তমান লটারি-নির্ধারিত প্রশাসনেই নির্বাচন পরিচালনা করা হবে এবং কোনো অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার যে লটারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বদলি সম্পন্ন করেছে, তা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াবে বলে তিনি আশাবাদী। এছাড়া, যদি কোনো পদে দুর্বলতা ধরা পড়ে, কমিশন তা দ্রুত পরিবর্তন করে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী লটারি-নির্ভর বদলির পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দলটি দাবি করে যে তফশিল ঘোষণার পর সমস্ত প্রশাসনিক ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে চলে যায় এবং তাই লটারি মাধ্যমে বদলি করা সবচেয়ে নিরপেক্ষ পদ্ধতি। জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে মাত্র এক মাসেরও কম সময়ে একাধিক জেলা প্রশাসক ও পুলিশ অফিসার হঠাৎ বদলি হয়েছে, যা কোনো পরিকল্পনা বা ডিজাইনের ইঙ্গিত হতে পারে। তিনি এই বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করার সময় স্পষ্ট উত্তর না পেয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।

প্রশাসনিক পরিবর্তনের পেছনে কী ধরনের উদ্দেশ্য রয়েছে, তা নিয়ে বিশ্লেষণ করা কঠিন হলেও, নির্বাচন কমিশনের একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য সংস্থা হিসেবে তফশিলের পরের সময়ে তার ভূমিকা স্পষ্ট। লটারি পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রশাসনের রদবদল স্বচ্ছতা বাড়াবে কি না, তা এখনো বিচারাধীন। তবে, নির্বাচনী সময়ে দ্রুত ও স্বচ্ছ পদোন্নতি নিশ্চিত করতে লটারি ব্যবস্থার ব্যবহার একটি নতুন পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সাবেক সচিব ও সাবেক মহাপরিদর্শক সহ কিছু অভিজ্ঞ প্রশাসনিক ব্যক্তিরা লটারি-নির্ভর বদলির কার্যকারিতা নিয়ে দ্বিধা প্রকাশ করেছেন। তারা যুক্তি দেন, অভিজ্ঞতা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে পদবিন্যাস করা অধিক কার্যকর হতে পারে, তবে লটারি পদ্ধতি স্বল্প সময়ে বড় সংখ্যক বদলি সম্পন্ন করতে সহায়তা করে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক কাঠামোর স্থিতিশীলতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভবিষ্যৎ প্রভাব সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করছেন। যদি লটারি-নির্ভর বদলি প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়, তবে তা নির্বাচনের প্রতি জনসাধারণের আস্থা বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, যদি বদলির পেছনে কোনো গোপন পরিকল্পনা ধরা পড়ে, তবে তা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

নির্বাচন কমিশন তফশিল ঘোষণার পরই সকল প্রশাসনিক ক্ষমতা নিজের হাতে নেবে এবং লটারি-নির্ভর বদলির মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চেষ্টা করবে। তবে, এই পদ্ধতির কার্যকারিতা এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো সময়ের সাথে প্রকাশ পাবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, লটারি-নির্ধারিত প্রশাসন কীভাবে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনায় অবদান রাখবে, তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে দাঁড়াবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments