সাউথ আফ্রিকা টি২০ লিগের চতুর্থ রাউন্ডের তৃতীয় ম্যাচে শনিবার সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপ ১৮৬ রানে লক্ষ্য নির্ধারণ করে, পার্ল রয়্যালসকে ৪৯ রানে অলআউট করে পরাজিত করেছে। ডেভিড মিলারের অধীনে পার্ল রয়্যালসের এই পারফরম্যান্স লিগের ইতিহাসে সর্বনিম্ন দলীয় স্কোর হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।
সানরাইজার্স প্রথমে ব্যাটিং করে ২০ ওভারে ১৮৬ রান তৈরি করে, যা প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। তাদের আক্রমণাত্মক শটের মাধ্যমে দ্রুত রানের প্রবাহ বজায় থাকে এবং শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য নির্ধারণের পর্যায়ে পৌঁছে।
পার্ল রয়্যালসের ব্যাটিং শুরুই ভয়ানক হয়ে ওঠে; ১১.৫ ওভারে মাত্র ৪৯ রান সংগ্রহ করে তারা পুরো ইনিংস শেষ করে। এই স্কোরটি ৫০ রানের নিচে শেষ হওয়া প্রথম দলীয় পারফরম্যান্স, যা লিগের সর্বনিম্ন রেকর্ড হিসেবে নথিভুক্ত।
এই রেকর্ডটি পূর্বের সর্বনিম্ন স্কোরকে অতিক্রম করে, যা ২০২৪ সালে সানরাইজার্সের বিপক্ষে ৫২ রানে অলআউট হয়ে প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের হয়ে গড়ে উঠেছিল। উভয়ই সানরাইজার্সের বিরুদ্ধে ঘটেছে, যা তাদের বোলিং শক্তিকে তুলে ধরে।
সানরাইজার্সের জয় ১৩৭ রানের পার্থক্যে, যা লিগের দ্বিতীয় বৃহত্তম জয় হিসেবে রেকর্ড হয়। একমাত্র বড় জয় ছিল ২০২৩ সালে ডারবান সুপার জায়ান্টসের ১৫১ রানের বিজয়, যা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে অর্জিত হয়েছিল।
পার্ল রয়্যালসের ব্যাটিংয়ে মাত্র দুইজন খেলোয়াড়ই দ্বি-অঙ্কে পৌঁছাতে সক্ষম হয়, সর্বোচ্চ স্কোর মাত্র ১৪ রান। বাকি ব্যাটসম্যানদের সংগ্রাম স্পষ্ট, যা দলের সামগ্রিক ব্যাটিং দুর্বলতা প্রকাশ করে।
সানরাইজার্সের বোলিং দলে প্রোটিয়া পেসার আনরিখ নরকিয়া ৩ ওভারে ১৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন, যা তাকে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার এনে দেয়। তার অর্থনীতি এবং উইকেটের সংখ্যা পার্ল রয়্যালসের ব্যাটিংকে সম্পূর্ণভাবে দমিয়ে রাখে।
অন্যান্য বোলারদের পারফরম্যান্সও উল্লেখযোগ্য; অ্যাডাম মিল্নে ২ উইকেটের সঙ্গে মাত্র ৭ রান conced করেন, আর থারিন্দু রাত্নায়েক ২ উইকেটের সঙ্গে ৯ রান দেন। উভয়েরই টেকসই স্পেল পার্ল রয়্যালসের স্কোরকে আরও কমিয়ে দেয়।
পার্ল রয়্যালসের ব্যাটিংয়ে জর্ডান হারম্যান ২৮ বলে ৬২ রান না-আউট করেন, যার মধ্যে ৫টি চার এবং ৪টি ছক্কা রয়েছে। তার উচ্চ স্ট্রাইক রেট সত্ত্বেও দলটি মোট স্কোরে পৌঁছাতে পারেনি।
কুইন্টন ডি ককও দ্রুতগতিতে ২৪ বলে ৪২ রান যোগ করেন, যা দলের একমাত্র বড় ইনিংস ছিল। তার আক্রমণাত্মক শটের মাধ্যমে কিছুটা রিফ্লেকশন তৈরি হলেও মোট স্কোরে তা যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে পারেনি।
কোচ ডেভিড মিলার ম্যাচের পর দলের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন, তবে তিনি বললেন যে ব্যাটসম্যানরা শুরুতে ভালো শুরুর সুযোগ পায়নি, তবে বোলিং পারফরম্যান্স প্রশংসনীয়। তিনি উল্লেখ করেন দলের মধ্যে অনেক তরুণ খেলোয়াড় রয়েছে, যারা দ্রুত শিখে উন্নতি করবে এবং সবাই একসঙ্গে শিখতে থাকবে।
মিলার আরও যোগ করেন, “আজ রাতের জন্য খুবই হতাশ, তবে আমাদের সামনে এখনও অনেক ম্যাচ বাকি আছে, সেখান থেকে আত্মবিশ্বাস নিয়ে আমরা ফিরে আসব।” দলটি টুর্নামেন্টের বাকি অংশে পুনরুদ্ধার করে শীর্ষে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে।



