20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeব্যবসারিহ্যাব ফেয়ার ২০২৫-এ ৩০১ কোটি টাকার সম্পত্তি বিক্রি ও বুকিং সম্পন্ন

রিহ্যাব ফেয়ার ২০২৫-এ ৩০১ কোটি টাকার সম্পত্তি বিক্রি ও বুকিং সম্পন্ন

ঢাকার আগারগাঁওতে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের মেলাস্থলে গতকাল রিহ্যাব ফেয়ার ২০২৫ের শেষ দিন শেষ হয়। ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ট্রাভেল এজেন্সি চালিয়ে আসা আলী আহসান, যিনি প্রায় ৪০ লাখ টাকা সঞ্চয় করেছেন, নিজের স্বপ্নের বাসস্থান খুঁজতে মেলায় উপস্থিত হন। তিনি মেলাস্থলে নিজের কথা বলেন, যে সঞ্চিত অর্থে ফ্ল্যাট কেনা কঠিন, তাই বিভিন্ন আবাসন কোম্পানি ও ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করার আশা রাখেন।

মেলায় মোট ৩০১ কোটি ৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকার সমমানের ফ্ল্যাট, প্লট ও বাণিজ্যিক স্পেস বিক্রি ও বুকিং করা হয়েছে। এর মধ্যে ফ্ল্যাটের বিক্রয় ১৭২ কোটি টাকা, প্লটের জন্য ৭৪ কোটি টাকা এবং বাণিজ্যিক স্পেসের জন্য ৫৮ কোটি ১১ লাখ ৫১ হাজার টাকা রেকর্ড হয়েছে। এই পরিমাণ দেশের আবাসন খাতের সর্ববৃহৎ একক ইভেন্টের আয়তনকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।

মেলায় অংশগ্রহণকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মোট ৭৭৮ কোটি টাকার ব্যাংক কমিটমেন্ট প্রদান করেছে। এই আর্থিক সমর্থন ক্রেতাদের আবাসন বাজারের প্রতি আস্থা ও ঋণপ্রাপ্তির সহজতাকে নির্দেশ করে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, এই পরিমাণের কমিটমেন্ট বাজারের তরলতা বাড়িয়ে দেবে এবং ভবিষ্যৎ প্রকল্পের বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।

কেনার আগ্রহী ক্রেতাদের মধ্যে রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী শহর, পাশাপাশি বিভাগীয় শহর এবং নতুন উন্নয়ন এলাকার বাসিন্দা বিশেষভাবে সক্রিয় ছিলেন। মধ্যবিত্ত পরিবার ও প্রথমবারের বাড়ি কেনা গ্রাহকরা সাশ্রয়ী মূল্যের ফ্ল্যাট, দীর্ঘ কিস্তি সুবিধা এবং বুকিং মানি ছাড়ের কারণে মেলায় বেশি সময় ব্যয় করেন। ফলে প্লট, রেডি ফ্ল্যাট এবং নির্মাণাধীন ফ্ল্যাটের স্টলগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়।

লালবাগের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আজাদুর রহমান মেলায় একাধিক স্টল পরিদর্শন করে দাম, অবস্থান, হস্তান্তরের সময় এবং পার্কিং সুবিধা তুলনা করেন। তিনি বলেন, মেলায় আসার মূল উদ্দেশ্য হল ফ্ল্যাট ও প্লটের দামের ব্যাপারে ধারণা নেওয়া এবং সরাসরি বিক্রেতা ও ব্যাংকের সঙ্গে শর্তাবলি আলোচনা করা। তার মতামত মেলায় উপস্থিত বহু ক্রেতার সাধারণ লক্ষ্যকে প্রতিফলিত করে।

আলী আহসানও মেলায় একই লক্ষ্য নিয়ে ছিলেন। তিনি ১৫ বছরের বেশি সময় ট্রাভেল এজেন্সি চালিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকা সঞ্চয় করেছেন, তবে সেই অর্থে স্বপ্নের ফ্ল্যাট কেনা কঠিন বলে মনে করেন। মেলায় তিনি বিভিন্ন আবাসন কোম্পানি ও ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে ভবিষ্যৎ বাড়ি কেনার পরিকল্পনা গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়, মেলাটি প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতা ও মাঝারি আয়ের পরিবারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও আর্থিক সমর্থন কেন্দ্র।

বিশ্লেষকরা মেলায় রেকর্ডকৃত বিক্রয় ও ব্যাংক কমিটমেন্টকে দেশের আবাসন বাজারের পুনরুজ্জীবনের সূচক হিসেবে দেখছেন। উচ্চ বিক্রয় সংখ্যা এবং বড় আর্থিক সমর্থন ভবিষ্যতে নতুন প্রকল্পের সূচনা, নির্মাণের গতি বৃদ্ধি এবং রিয়েল এস্টেটের মূল্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে ক্রেতাদের ঋণভার এবং বাজারের অতিরিক্ত গরম হওয়ার ঝুঁকিও নজরে রাখতে হবে।

রিহ্যাব ফেয়ার ২০২৫ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবাসন খাতের বিক্রয় ও আর্থিক প্রবাহের এই বিশাল পরিসংখ্যান বাজারের স্বাস্থ্যের ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে। মেলায় অংশগ্রহণকারী ক্রেতা, বিক্রেতা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যৎ প্রকল্পের জন্য আত্মবিশ্বাসী এবং নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বাসস্থান সমস্যার সমাধানে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব দেখা যাবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments