ইথিওপিয়ান জ্যাজের অগ্রদূত মুলাতু আস্তাক, বয়স ৮২, গত মাসে লন্ডনের একটি পশ্চিম এন্ড ভেন্যুতে তার শেষ লাইভ পারফরম্যান্স উপস্থাপন করেন। এই কনসার্টটি তার ছয় দশকের সঙ্গীত ক্যারিয়ারের সমাপ্তি চিহ্নিত করে।
শীতল নভেম্বরের সন্ধ্যায় ভেন্যুর ভিতরে উষ্ণ উল্লাসের পরিবেশ গড়ে ওঠে, যেখানে দর্শকরা শেষবারের মতো তার সুরের জাদু অনুভব করতে চায়। মঞ্চে প্রবেশের সময় তিনি এফেওয়ার্ক টেকলে নামের ইথিওপিয়ান শিল্পীর চিত্রাঙ্কিত শার্ট পরেছিলেন, যা তার সাংস্কৃতিক গর্বকে প্রকাশ করে।
মঞ্চে পৌঁছে তিনি কংগাসের পাশে তার স্বাক্ষর যন্ত্র – ভিব্রাফোন – হাতে নেন। ডান হাতে দুটি গোলাপি রঙের ফেল্ট ম্যালেট, বাম হাতে একটি ম্যালেট নিয়ে তিনি ধীরে ধীরে সুরের জাল বুনতে শুরু করেন। তার আঙুলের স্পর্শে ধাতব বারগুলো মৃদু ও প্রতিধ্বনিত সুর উৎপন্ন করে।
প্রথম গীতটি ইথিওপিয়ান অর্থোডক্স চার্চের চতুর্থ শতাব্দীর একটি সুরের উপর ভিত্তি করে তৈরি, যা তার ঐতিহ্যবাহী পেন্টাটোনিক স্কেলকে জ্যাজের সাথে মিশ্রিত করে অনন্য স্বাদ দেয়। এই সংমিশ্রণই তার সঙ্গীতকে বিশ্বব্যাপী আলাদা করে তুলেছে।
আস্তাক দীর্ঘদিন ধরে স্টুডিও ও রিহার্সাল রুমকে পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন সঙ্গীত শৈলীর সমন্বয় করেছেন, যা তিনি “ইথিও-জ্যাজের বিজ্ঞান” বলে অভিহিত করেন। তার এই পদ্ধতি সঙ্গীতের সীমানা প্রসারিত করেছে।
কনসার্টের পর তিনি প্রকাশ্যে বললেন, অনুষ্ঠানটি সুন্দর ছিল এবং তিনি তা উপভোগ করেছেন। তবে আন্তর্জাতিক ভক্তদের সঙ্গে বিদায়ের অনুভূতি নিয়ে তিনি কোনো বিশদ মন্তব্য করেননি।
মঞ্চে সহ-প্রদর্শক মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী ডেক্সটার স্টোরি গানের পরিবেশকে “উজ্জ্বল, প্রাণবন্ত এবং পূর্ণ সম্মানজনক শক্তি” হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি এই পারফরম্যান্সকে মিষ্টি-তিক্ত অনুভূতি হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে তার ট্যুর না হওয়ার দুঃখ প্রকাশ করেন।
মুলাতুর আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়ে ২০০৫ সালের হলিউড চলচ্চিত্র “ব্রোকেন ফ্লাওয়ারস”-এর সাউন্ডট্র্যাকে তার সুর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর, এবং পরের বছর “নিকেল বয়েজ” ছবিরও সাউন্ডট্র্যাকে ব্যবহার হওয়ার ফলে। এই চলচ্চিত্রগুলো তার সঙ্গীতকে নতুন শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেয়।
এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ইথিওপিয়ান জ্যাজের অনন্য রঙ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পায়, যা তার সৃষ্টিশীলতা ও সাংস্কৃতিক মিশ্রণের ফল। তার সুরগুলো এখন বিভিন্ন দেশের সঙ্গীতপ্রেমীর প্লেলিস্টে স্থান পেয়েছে।
ছয় দশকের সঙ্গীত যাত্রায় তিনি স্টুডিও ও রিহার্সাল রুমকে গবেষণাগার হিসেবে ব্যবহার করে ঐতিহ্যবাহী ইথিওপিয়ান সুরকে জ্যাজের স্বতঃস্ফূর্ততা ও রিদমের সঙ্গে মিশ্রিত করেছেন। এই পদ্ধতি তাকে “ইথিও-জ্যাজের পিতা” হিসেবে গড়ে তুলেছে।
তার সৃষ্টিকর্ম বহু তরুণ সঙ্গীতশিল্পীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস, যারা তার উদ্ভাবনী পদ্ধতি অনুসরণ করে নিজস্ব সুরের অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
শেষ কনসার্টটি তার সঙ্গীত যাত্রার একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে রেকর্ড হয়, যেখানে দর্শকরা তার সুরের আলকেমি উপভোগ করে এক অনন্য অভিজ্ঞতা অর্জন করে।
এই বিদায়ের মুহূর্তে ই



