টটেনহ্যাম হটস্পোর নতুন প্রধান কোচ টমাস ফ্র্যাঙ্ক, তার পূর্ববর্তী দুই ক্লাবের সফলতা পুনরাবৃত্তি হবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ব্র্যান্ডফোর্ডে ধীর সূচনা ও ব্রন্ডবিতে প্রথম আট ম্যাচে জয় না পাওয়া সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিক অপ্রতিদ্বন্দ্বী রেকর্ড গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা টটেনহ্যামকে একই পথে চালিত করবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
প্রিমিয়ার লিগে টটেনহ্যামের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স উদ্বেগজনক; শেষ দশটি ম্যাচে ছয়বার পরাজয় এবং মাত্র দুইবার জয় অর্জন করেছে দল। এই ধারাবাহিক হারে দলটি আগামী রবিবার ক্রিস্টাল প্যালেসের মুখোমুখি হবে, যেখানে একটি জয়মূলক উত্তেজনা প্রত্যাশিত। ফ্র্যাঙ্কের মতে, এই ম্যাচটি দলের আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ টনিকের কাজ করবে।
টটেনহ্যাম এই মৌসুমে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। যদিও দলটি নকআউট রাউন্ডে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, তবে অতিরিক্ত গেমের চাপকে “বিষাক্ত গ্লাস” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। মিডউইক ইউরোপীয় ম্যাচের পর দলটি নটিংহাম ফরেস্টের কাছে ৩-০ হারে পরাজিত হওয়ায়, শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ফ্র্যাঙ্কের প্রথম কোচিং দায়িত্ব ছিল ডেনমার্কের ব্রন্ডবিতে, যেখানে তিনি ২০১৩ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম আটটি গেমে জয় না পেয়ে পরে নয়টি ম্যাচে অপ্রতিদ্বন্দ্বী রেকর্ড গড়ে তোলেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে শিখিয়েছে যে প্রাথমিক ব্যর্থতা শেষের সাফল্যের বাধা নয়, বরং দলকে পুনর্গঠন ও মানসিক দৃঢ়তা গড়ে তোলার সুযোগ।
এরপর ২০১৮ সালে তিনি ইংলিশ ক্লাব ব্রেন্টফোর্ডে পদ গ্রহণ করেন। সেখানে দলটি দশটি গেমে আটবার পরাজয় পায়, তবে পরের দশটি গেমে কোনো পরাজয় না করে ধারাবাহিক জয় অর্জন করে। এই উল্টো প্রবণতা ফ্র্যাঙ্কের কোচিং দর্শনের মূল ভিত্তি, যেখানে তিনি ধারাবাহিকতা ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে দলকে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হন।
এই দুই উদাহরণকে ভিত্তি করে ফ্র্যাঙ্ক টটেনহ্যামের জন্য একই রকম রূপান্তর প্রত্যাশা করছেন। তিনি বলেন, “আমি জানি কীভাবে প্রতিযোগিতামূলক দল গড়ে তোলা যায় এবং এখানে আমরা একই লক্ষ্য অনুসরণ করব।” তার মতে, টটেনহ্যামের বর্তমান স্কোয়াডে যথেষ্ট গুণগত মান রয়েছে, তবে তা সঠিকভাবে ব্যবহার করা দরকার।
ফ্র্যাঙ্কের মতে, টটেনহ্যামের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল গেমের ঘনত্ব। সপ্তাহে একাধিক ম্যাচ, রোটেশন, শারীরিক ও মানসিক চাপ—এগুলো সবই দলকে প্রভাবিত করে, বিশেষ করে যদি খেলোয়াড়রা এই রকম সূচি অভ্যস্ত না হয়। তিনি জোর দেন, রোটেশন নীতি সঠিকভাবে প্রয়োগ না করলে পারফরম্যান্সে অবনতির ঝুঁকি বাড়ে।
প্রশ্ন করা হয়েছিল, পরাজয় কি অভ্যাসে পরিণত হতে পারে কিনা। ফ্র্যাঙ্কের উত্তর ছিল, ধারাবাহিক পরাজয়কে ভয় না করে, দলকে আরও স্থিতিশীল ও দৃঢ় করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা এবং হার মানা না করা—এগুলোই টটেনহ্যামকে পুনরায় শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার মূল চাবিকাঠি।
আগামী সপ্তাহে টটেনহ্যাম ক্রিস্টাল প্যালেসের সঙ্গে লিগ ম্যাচে মুখোমুখি হবে, এরপর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট রাউন্ডের প্রস্তুতি নিতে হবে। ফ্র্যাঙ্কের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোটেশন ও প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা পুনর্গঠন করে দলকে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করা হবে, যাতে উভয় প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায়। টটেনহ্যাম কি ব্র্যান্ডফোর্ডের মতো উত্থান দেখাবে, তা এখনো অনিশ্চিত, তবে কোচের আত্মবিশ্বাস ও পূর্বের সাফল্য দলকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে।



