ঢাকা শহরের দক্ষিণ কেরানিগঞ্জের কেরানিগঞ্জের সাউথ কেরানিগঞ্জে অবস্থিত উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় শুক্রবার সকাল প্রায় দশটায় বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনাস্থলে মাদ্রাসা ভবন ও পার্শ্ববর্তী দোকানপাটে ব্যাপক ক্ষতি হয়। তৎকালীন তদন্তে পুলিশ চারটি কাঁচা বোমা-সদৃশ বস্তু এবং প্রায় চারশো লিটার রাসায়নিক পদার্থ জব্দ করে।
বিস্ফোরণের ফলে মাদ্রাসার দু’টি কক্ষ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং আশেপাশের কিছু বাড়ি-দোকানেও গৃহহানি হয়। ধ্বংসাবশেষের মধ্যে ধোঁয়া ও গন্ধের তীব্রতা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত বজায় থাকে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করে।
বিস্ফোরণে আল-আমিন শেইখের দুই সন্তান আহত হয়। প্রথমে তারা আদ-দিন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়, পরে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল না হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তীব্র সেবায় স্থানান্তর করা হয়। আহতদের চিকিৎসা চলমান রয়েছে।
বিস্ফোরণের পরপরই পুলিশ দল现场ে সম্পূর্ণ অনুসন্ধান চালায়। অনুসন্ধানে একটি ল্যাপটপ, দুইটি মনিটর, বিস্ফোরক সামগ্রী, ড্রামে সংরক্ষিত রাসায়নিক এবং চারটি কাঁচা বোমা-সদৃশ বস্তু পাওয়া যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে এই সামগ্রীগুলো উদ্ধার করা হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে তিনজন নারী গ্রেফতার করা হয়। আল-আমিনের স্ত্রী আসিয়া (২৮), হসনাবাদের বাসিন্দা ইয়াসমিন আখতার (৩০) এবং বাসাবোরের আসমানি খাতুন (৩৪)কে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। ইয়াসমিন আখতার আসিয়ার বড় ভাই হারুন ও রশিদের স্ত্রী, তাই পরিবারিক সংযোগের ভিত্তিতে তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
আল-আমিন শেইখ, ৩৩ বছর বয়সী, মাদ্রাসার পরিচালক এবং পূর্বে সন্ত্রাসী অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন, তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পুলিশ এখন তার অবস্থান অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে এবং তার সঙ্গে যুক্ত অন্য সন্দেহভাজনদের সন্ধানে কাজ করছে।
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারইন্টেনডেন্ট মিজানুর রহমানের মতে, জব্দকৃত ৪০০ লিটার রাসায়নিকের মধ্যে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড এবং অন্যান্য দাহ্য তরল থাকতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদার্থগুলো কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে এবং পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে এই বিষয়টি স্পষ্ট করা হবে।
বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা হল, রাসায়নিক ও কাঁচা বোমা-সদৃশ বস্তুগুলোর সংমিশ্রণে কোনো রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া ঘটেছে, যা বিস্ফোরণের মূল কারণ হতে পারে। ঘটনাস্থলে বোমা নিষ্কাশন ইউনিট, অ্যান্টি-টেরর ইউনিট এবং সিআইডি ক্রাইম সীন ইউনিটকে অবহিত করা হয়েছে। সিআইডি বর্তমানে জব্দকৃত সামগ্রীর তালিকা প্রস্তুত করছে।
প্রতিবেদন শেষ হওয়ার সময় সন্ধ্যা আটটায় ঘটনাস্থলে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী অপরাধের অভিযোগে মামলা দায়েরের সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে আদালতে এই মামলার বিচার কীভাবে হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত গশ্বর ও গশ্বরদার নিয়োগ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে।



