২৭ ডিসেম্বর, ঢাকা শহরের একটি হোটেলে NRBC ব্যাংক পিএলসি তার বার্ষিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্মেলন আয়োজন করে। সম্মেলনটি হাইব্রিড ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি উপস্থিতি ও জুমের মাধ্যমে যুক্ত হতে পারেন। মূল লক্ষ্য ছিল ঝুঁকি শাসন শক্তিশালী করা এবং টেকসই ব্যাংকিং চর্চা প্রচার করা।
সম্মেলনের প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে NRBC ব্যাংকের স্বাধীন পরিচালক ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান মো. নুরুল হক অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও মো. তৌহিদুল আলম খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল হাই ও আহমেদ জুবেয়ার মাহবুব, NRBC ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম খান এবং চিফ রিস্ক অফিসার সেরাজুল আমিন আহমদও সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
বিভাগীয় প্রধান, আঞ্চলিক প্রধান, শাখা ব্যবস্থাপক, অপারেশন ম্যানেজার, ক্রেডিট ইন-চার্জ, সাব-শাখা ইন-চার্জ এবং হেড অফিস, শাখা ও সাব-শাখার বিভিন্ন কর্মকর্তা এই একদিনের সেশনে শারীরিকভাবে অথবা জুমের মাধ্যমে অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা দেশব্যাপী বিস্তৃত, যা ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নেটওয়ার্কের ব্যাপকতা নির্দেশ করে।
সম্মেলনের মূল থিম ছিল অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি, সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং আধুনিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির মাধ্যমে টেকসই বৃদ্ধি। সেশনগুলোতে ক্রেডিট, মার্কেট, অপারেশনাল ও কমপ্লায়েন্স ঝুঁকি, ঝুঁকি পূর্বাভাস, প্রযুক্তি-চালিত ব্যাংকিং সেবা এবং সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা করা হয়। বিশেষজ্ঞ প্যানেল ও ব্যাংকিং কর্মকর্তারা বাস্তব উদাহরণ ও সমাধান উপস্থাপন করে, যা শিল্পের ঝুঁকি সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক।
বক্তব্যে, নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জোর দিয়ে বলেন যে ব্যাংকিং কার্যক্রমে ঝুঁকি অনিবার্য এবং আন্তর্জাতিক মান অনুসারে তা পরিচালনা করা দরকার, যাতে আর্থিক স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা এবং গ্রাহকের আস্থা বজায় থাকে। তিনি উল্লেখ করেন যে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কেবল নিয়ম মেনে চলা নয়, বরং গ্রাহক সেবার গুণগত মান উন্নত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
নুরুল হক ঝুঁকি শাসন কাঠামোর দৃঢ়তা ও স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন, বলেন যে শক্তিশালী শাসনব্যবস্থা না থাকলে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা দেখা দিতে পারে। তিনি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নীতি ও প্রক্রিয়ার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেন, যাতে ঝুঁকি সনাক্তকরণ ও মোকাবিলা দ্রুততর হয়।
মো. তৌহিদুল আলম খান উল্লেখ করেন যে NRBC ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিকা অনুসারে প্রধান ঝুঁকি ক্ষেত্রগুলোতে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং ঋণ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া শক্তিশালী করেছে। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপগুলো ঋণদাতা ও গ্রাহকের মধ্যে বিশ্বাস পুনর্স্থাপন করবে এবং সামগ্রিক আর্থিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাবে।
সম্মেলনের ফলস্বরূপ, অংশগ্রহণকারীরা আধুনিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ টুল, ডেটা-চালিত পূর্বাভাস মডেল এবং সাইবার হুমকির মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সাইবার নিরাপত্তা প্রোটোকল সম্পর্কে আপডেটেড জ্ঞান অর্জন করেন। এই জ্ঞান ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি সনাক্তকরণ, মূল্যায়ন ও হ্রাসের ক্ষমতা বাড়াবে, যা দেশের আর্থিক সেক্টরের স্থিতিশীলতা ও বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে, এই ধরনের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উদ্যোগের ধারাবাহিকতা ব্যাংকিং শিল্পে ঝুঁকি সচেতন সংস্কৃতি গড়ে তুলবে এবং আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখবে। ফলে, ঋণ ডিফল্ট হার কমে যাবে, বাজারের অস্থিরতা হ্রাস পাবে এবং গ্রাহকের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।
একই সময়ে, চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থা জটিল হিসেবে রিপোর্ট করা হয়েছে; তিনি সংকটময় মুহূর্ত পার করছেন। এই তথ্যটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের বর্তমান অবস্থা নির্দেশ করে।



