চট্টগ্রাম বন্দর, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, ২০২৩ সালের শেষের দিকে রেকর্ড ভাঙে। ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্দর মোট ৩৩.৬৪ লক্ষ টিইইউ (২০ ফুট সমমানের কন্টেইনার) হ্যান্ডেল করেছে, যা গত বছরের তুলনায় ২.৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি। এ রেকর্ডের পেছনে বিদেশি বাণিজ্যের ধারাবাহিক বৃদ্ধি এবং বন্দর পরিচালনায় গৃহীত সংস্কারগুলো মূল ভূমিকা পালন করেছে।
বন্দরের রেকর্ডে অবদান রেখেছে ১৮.৩২ লক্ষ টিইইউ আমদানি এবং ১৫.৩১ লক্ষ টিইইউ রপ্তানি কন্টেইনার। বছরের শেষের দিকে বাকি সময়ে অতিরিক্ত প্রায় ৪৫,০০০ টিইইউ হ্যান্ডেল করার প্রত্যাশা রয়েছে। এই পরিসংখ্যান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) তথ্য অনুযায়ী সংগ্রহ করা হয়েছে, যেখানে মূল জেটি, পাঙ্গাওয়ান ইনল্যান্ড কন্টেইনার টার্মিনাল (কেরানিগঞ্জ) এবং কামালাপুর ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো (ঢাকা) থেকে গৃহীত ও বহির্গত কন্টেইনারের হিসাব অন্তর্ভুক্ত।
কন্টেইনারের পাশাপাশি বন্দর মোট ১৩.৬৩ কোটি টন পণ্য হ্যান্ডেল করেছে, যা গত বছরের ১২.৪০ কোটি টনের রেকর্ডকে অতিক্রম করেছে। মোট জাহাজের সংখ্যা ৪,৩৯৬, যা ২০২৪ সালে ৩,৮৬৭ ছিল এবং নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে। এই বৃদ্ধির পেছনে বর্ধিত ডকিং সুবিধা এবং আধুনিকীকৃত লজিস্টিক সিস্টেমের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
বছরের প্রথমার্ধে বন্দর বিভিন্ন ধরণের অপারেশনাল বাধার সম্মুখীন হয়। ইয়ার্ডে জ্যাম, জাহাজের কিউ এবং দীর্ঘ অপেক্ষার সময় বিভিন্ন সময়ে দেখা যায়। তবে ডিজিটাল রূপান্তর, ইয়ার্ডের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের প্রয়োগের ফলে শেষ ত্রৈমাসিকে অপেক্ষার সময় প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা ধারাবাহিক বৃদ্ধিকে সমর্থন করেছে।
মে ও জুন মাসে জাতীয় বোর্ড অফ রেভিনিউ (এনবিআর) কর্মকর্তাদের সামগ্রিক পেন-ডাউন স্ট্রাইকের ফলে পণ্য হ্যান্ডেলিং ও ডেলিভারিতে গুরুতর বিঘ্ন ঘটেছিল। এই সময়ে কন্টেইনারের সঞ্চয় এবং জাহাজের কিউ বৃদ্ধি পায়, যা পরবর্তীতে আগস্ট পর্যন্ত চলতে থাকে।
অন্যদিকে, জুন মাসে ঈদ-উল-আজহা ছুটির দশ দিন, জুলাই মাসে কাস্টমস সার্ভারের এক সপ্তাহের ব্যাঘাত এবং পরিবহন কর্মীদের পুনরাবৃত্তি কাজ বন্ধের ফলে বন্দর কার্যক্রমে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। এসব বাধা সত্ত্বেও বন্দর পরিচালনা দল দ্রুত সমস্যার সমাধানে কাজ করে, ফলে শেষের দিকে অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
বন্দরের এই সাফল্য দেশের বাণিজ্যিক পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। কন্টেইনার ও পণ্যের দ্রুত হ্যান্ডেলিং রপ্তানি-আমদানি ব্যবসায়ীর জন্য লজিস্টিক খরচ কমাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা বাড়াবে। এছাড়া, জাহাজের দ্রুত টার্নারাউন্ড সময় বন্দর ব্যবহারকারীদের সন্তুষ্টি বাড়াবে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক জগতে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। তরিক রহমান, দেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ১৯ বছর পর তার পিতার সমাধিতে প্রার্থনা করেছেন। এই সফরটি তার পরিবারের শেষ সমাধি পরিদর্শনের পর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং দেশীয় মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তরিকের এই সফরটি তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যক্তিগত দিকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সমাধি পরিদর্শনের সময় তিনি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন এবং পিতার স্মৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বন্দর ও রাজনৈতিক দু’টি ক্ষেত্রেই এই ঘটনাগুলি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সামাজিক গতিবিধির প্রতিফলন ঘটায়। বন্দর রেকর্ডের ধারাবাহিকতা দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সূচক, আর তরিকের সমাধি সফর তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, বন্দর পরিচালনায় গৃহীত ডিজিটাল ও অবকাঠামোগত সংস্কারগুলো ভবিষ্যতে আরও বড় পরিমাণ কন্টেইনার ও পণ্য হ্যান্ডেল করতে সক্ষম হবে। তবে, নিয়মিত কর্মী বিরতি, সিস্টেম ব্যাঘাত এবং মৌসুমী ছুটির সময়সূচি যেন পুনরায় বাধা না সৃষ্টি করে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
সামগ্রিকভাবে, চট্টগ্রাম বন্দর রেকর্ড ভাঙার মাধ্যমে দেশের বাণিজ্যিক সক্ষমতা বাড়িয়ে তুলেছে, আর তরিক রহমানের সমাধি সফর তার ব্যক্তিগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক চিহ্নিত করেছে। উভয়ই দেশের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে।



