20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্প প্রশাসন ইমরান আহমেদকে গ্রেপ্তার ও দেশত্যাগ থেকে রোধের আদেশে ফেডারেল জজের...

ট্রাম্প প্রশাসন ইমরান আহমেদকে গ্রেপ্তার ও দেশত্যাগ থেকে রোধের আদেশে ফেডারেল জজের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা

ফেডারেল আদালত ট্রাম্প সরকারের ইমরান আহমেদকে গ্রেপ্তার ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশত্যাগের প্রচেষ্টা থামাতে সাময়িক আদেশ জারি করেছে। আহমেদ হলেন সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিজিটাল হেট (CCDH) এর সিইও, যিনি অনলাইন ঘৃণামূলক কন্টেন্ট ও ভুয়া তথ্যের গবেষণায় যুক্ত। এই সিদ্ধান্তটি নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্টের পর প্রকাশিত হয়।

আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকার আহমেদকে আটক বা দেশত্যাগের জন্য কোনো কার্যক্রম চালাতে পারে না, যতক্ষণ না মামলায় চূড়ান্ত রায় আসে। জজের এই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আহমেদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করে এবং তার বর্তমান অবস্থানকে স্থিতিশীল রাখে।

ইমরান আহমেদ যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন, তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারী এবং এখানে বসবাস করেন। তার স্ত্রী ও সন্তানও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত, যা তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত স্থিতি উভয়কেই প্রভাবিত করে। তিনি CCDH-র মাধ্যমে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ঘৃণামূলক বার্তা ও মিথ্যা তথ্যের বিস্তার রোধে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট এই সপ্তাহে পাঁচজন গবেষক ও নিয়ন্ত্রককে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধের তালিকায় যুক্ত করেছে। এই তালিকায় আহমেদসহ চারজনের নাম রয়েছে, যারা অনলাইন অপব্যবহার ও ভুয়া তথ্যের গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। সরকার তাদের কাজকে জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে দেখেছে।

রাষ্ট্র সচিব মারকো রুবিও এই ব্যক্তিদেরকে “উগ্র কর্মী ও অস্ত্রায়িত এনজিও” হিসেবে বর্ণনা করেন এবং যুক্তি দেন যে তারা আমেরিকান প্ল্যাটফর্মকে দমন, মনিটাইজেশন বন্ধ এবং বিরোধী মতামত দমন করতে চাপিয়ে দিয়েছে। রুবিওর মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

আহমেদ এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সরকারী পদক্ষেপটি বড় কর্পোরেশনগুলোর রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর প্রচেষ্টার একটি উদাহরণ। তিনি উল্লেখ করেন যে মেটা, ওপেনএআই এবং এলন মাস্কের এক্সের মতো কোম্পানিগুলো তাদের আর্থিক শক্তি ব্যবহার করে নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে চায়।

এই প্রসঙ্গে আহমেদ উল্লেখ করেন যে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে তাদের দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেতে আর্থিক লিভারেজ ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি যুক্তি দেন যে এই ধরনের আচরণ তথ্যের স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করে এবং জনমতকে বিকৃত করে।

এক্স (পূর্বে টুইটার) কোম্পানি গত বছর CCDH-র বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি বাতিল করেছে, তবে তাৎক্ষণিক আপিল প্রক্রিয়া এখনও চলমান। আদালতের রায়ে এক্সের দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল, তবে উভয় পক্ষেরই আপিলের অধিকার রয়ে গেছে।

এই আইনি লড়াইয়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে অনলাইন ঘৃণার গবেষণা ও নিয়ন্ত্রণের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সরকার যদি গবেষকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তবে স্বাধীন গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণের স্বাধীনতা কীভাবে রক্ষিত হবে, তা নিয়ে বিতর্ক বাড়বে।

বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করছেন যে, এই ধরনের আইনি পদক্ষেপের ফলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের স্ব-নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বাড়তে পারে, তবে একই সঙ্গে নাগরিক সমাজের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাও কমে যেতে পারে। ভবিষ্যতে কী ধরনের নীতি গৃহীত হবে, তা নির্ভর করবে আদালতের চূড়ান্ত রায় ও আপিলের ফলাফলের ওপর।

পরবর্তী ধাপে, ফেডারেল আদালত আপিল শুনানি নির্ধারণের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। যদি আপিলে সরকারী দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থিত হয়, তবে আহমেদসহ অন্যান্য গবেষকের ওপর আরও কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপিত হতে পারে। অন্যদিকে, যদি আপিলে গবেষকদের পক্ষে রায় আসে, তবে অনলাইন ঘৃণার মোকাবেলায় স্বাধীন গবেষণার স্থান পুনরুদ্ধার হতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: TechCrunch
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments