নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা ৩৬ কোটি টাকার ঋণ সমস্যার কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তিনি গত শনিবার দুপুরে তোপখানা রোডে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়টি তুলে ধরেন।
মান্না জানান, ২০০৭‑২০০৮ সালে নিজ এলাকায় ঋণ নিয়ে একটি হিমাগার প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রাথমিকভাবে ১০‑১২ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। তবে ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিরোধের পর তিনি জেলে যান, ফলে তার ব্যবসায়িক অংশীদার, যিনি তখন ইউনিয়ন পর্যায়ের এক আওয়ামী লীগ নেতা, ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং পরে কোম্পানির এমডি হন।
ঋণ পরিমাণ বর্তমানে ৩৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ৫ আগস্টের পর ওই এমডি বিরুদ্ধে হত্যার মামলা এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়; ফলে তিনি স্ত্রীসহ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। মান্না বলেন, এই এমডি আদালতে হাজির না হলে তিনি নিজে ঋণখেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন।
ঋণখেলাপি তালিকা থেকে নিজেকে বাদ দিতে মান্না আদালতে ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদন করেন। প্রাথমিকভাবে আদালত তাকে এমন আদেশ দেয় যে তার নাম তালিকায় থাকবে না, তবে সন্ধ্যায় সেই আদেশ স্থগিত করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, একটি নির্দিষ্ট শ্রেণি (কোর্টের বিভাগ) তার নির্বাচনী অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করেছে।
বগুড়ার বিএনপি স্থানীয় সভাপতি, যিনি সংসদীয় প্রার্থী, তার প্রভাব ব্যবহার করে মান্নার ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন বলে তিনি জানান। দলের কিছু সদস্যও আদালতে একই প্রভাব প্রয়োগের চেষ্টা করছেন। অভ্যুত্থানের পর থেকে বিচারব্যবস্থা এখনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের শিকার, এ কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
মান্না আদালতের কাছে কিছু সময়ের অনুরোধ করেন, যাতে তিনি নির্বাচনী মনোনয়ন ফরম জমা দিতে পারেন। তিনি সিআইবিতে (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) ঋণখেলাপি তালিকা স্থগিত করার এবং তার নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করেন।
আজ রোববার চেম্বার আদালতে রায় শোনার কথা, যেখানে তিনি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। রায় যদি তার পক্ষে না আসে, তবে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে না পারার সম্ভাবনা বাড়বে।
এই পরিস্থিতি নাগরিক ঐক্যের রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে, কারণ মান্না সংগঠনের মুখপাত্র এবং তার কণ্ঠস্বর নির্বাচনী মঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার অংশগ্রহণ না হলে সংগঠনের ভোটার ভিত্তি ও প্রভাব কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থী ও তার সমর্থকরা মান্নার উপর চাপ বাড়িয়ে তাদের নিজস্ব নির্বাচনী কৌশলকে শক্তিশালী করতে চাইছেন। এই দ্বন্দ্বের ফলে দু’পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে।
মহামারী পরবর্তী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং ঋণ সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মান্নার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতই রয়ে যাবে। তিনি আর্থিক সহায়তা চেয়ে পরিচিত ব্যক্তিদের কাছে আবেদন করেছেন, যাতে ঋণখেলাপি তালিকা থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়।
সংগঠনের অন্যান্য নেতারা এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন এবং মান্নার পক্ষে আদালতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ওপর নির্ভর করে তার নির্বাচনী দায়িত্বের শেষ সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হবে।
সামগ্রিকভাবে, মান্নার ঋণ সমস্যার সমাধান না হলে তার পার্টির নির্বাচনী কৌশল, ভোটার সমর্থন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এই বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



