27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকরাশিয়ার রাতারাতি কিয়েভে ক্ষিপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা দুইজনের মৃত্যু ঘটায়

রাশিয়ার রাতারাতি কিয়েভে ক্ষিপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা দুইজনের মৃত্যু ঘটায়

রাশিয়ার সামরিক বাহিনী কিয়েভের উপর রাতারাতি এক দশ ঘণ্টা দীর্ঘ ক্ষিপণাস্ত্র ও ড্রোন বোমাবর্ষণ চালায়, যার ফলে দুইজন নাগরিক প্রাণ হারায় এবং ৩২ জন আহত হয়। এই আক্রমণকে নিয়ে ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেনস্কি রাশিয়া শান্তি চায় না, এমন মন্তব্য করেন। তিনি এই মন্তব্যটি ফ্লোরিডায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকের পথে টেলিগ্রাম মাধ্যমে প্রকাশ করেন।

বোমাবর্ষণের সময় ১০ ঘণ্টা ধরে চলা এই ধারাবাহিকতা শহরের বিভিন্ন অংশে ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি করে, বিশেষ করে বাসাবাড়ি ও সরকারি ভবনে গর্তের মতো ক্ষতি দেখা যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী দুইজনের মৃত্যু এবং ৩২ জনের আঘাত নিশ্চিত হয়েছে।

আক্রমণের ফলে কিয়েভ ও পার্শ্ববর্তী জেলার প্রায় ৪০ শতাংশ আবাসিক ভবনে তাপ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, যা শীতল মাসে গৃহস্থালীর জন্য বড় সমস্যার সৃষ্টি করে। ইউক্রেনের উন্নয়ন মন্ত্রী অলেক্সি কুলেবা জানান, এই বিদ্যুৎ ক্ষতি গৃহস্থালির হিটিং সিস্টেমকে অচল করে দিয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করে যে তারা দীর্ঘ-পরিসরের সুনির্দিষ্ট অস্ত্র ব্যবহার করে শক্তি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, যা ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী ও সামরিক-শিল্প সংস্থার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। মন্ত্রণালয় এই আক্রমণকে ইউক্রেনের সামরিক কার্যক্রমের প্রতিক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

জেলেনস্কি টেলিগ্রাম বার্তায় উল্লেখ করেন, রাশিয়া প্রায় ৫০০টি ড্রোন এবং ৪০টি ক্ষিপণাস্ত্র কিয়েভের দিকে পাঠিয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল শক্তি সরবরাহ এবং নাগরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা। তিনি বলেন, এই ধরনের আক্রমণ শান্তি প্রক্রিয়ার কোনো অংশ নয় এবং তা রাশিয়ার যুদ্ধের ইচ্ছা প্রকাশ করে।

আক্রমণের পর শহরের বিভিন্ন স্থানে গৃহগুলিতে বড় গর্ত এবং আগুনের চিহ্ন দেখা যায়। ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু উচ্চমাধ্যমিক ভবনের উপরের তলা জ্বলছে, যেখানে বাসিন্দারা আতঙ্কে পালিয়ে যাচ্ছে।

বিবিসি সাংবাদিক অ্যানাস্টাসিয়া গ্রিবানোভার বাসা হওয়া অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকেও আঘাত লেগেছে; যদিও তিনি লিফটে ছিলেন, তবু তিনি নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। উচ্চতর তলায় অবস্থিত কিছু বাড়ি আগুনে জ্বলে উঠলেও তার কোনো শারীরিক ক্ষতি হয়নি।

ইউক্রেনের স্টেট ইমারজেন্সি সার্ভিস জানায়, ডার্নিত্স্কি জেলায় অবস্থিত একটি বয়স্কদের হোম থেকে ৬৮ জনকে নিরাপদে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি আক্রমণের পরপরই নেওয়া হয়, যাতে বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, রাশিয়ার প্রতিনিধিরা দীর্ঘ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে বাস্তবে ড্রোন ও ক্ষিপণাস্ত্রই তাদের কথা বলছে। তিনি যুক্তি দেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধ শেষ করতে ইচ্ছুক নন এবং এই ধরনের আক্রমণকে কঠোরভাবে মোকাবেলা করা দরকার। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদেরকে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।

এই সময়ে জেলেনস্কি ফ্লোরিডা যাচ্ছেন, যেখানে তিনি রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নতুন ২০ পয়েন্টের শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করবেন। এই পরিকল্পনা পূর্বে আমেরিকান ও ইউক্রেনীয় কূটনীতিকদের দ্বারা গৃহীত হয় এবং যুদ্ধের সমাপ্তি লক্ষ্য করে। জেলেনস্কি এই বৈঠকে রাশিয়ার সামরিক চাপের মুখে শান্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার আশা প্রকাশ করেছেন।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই আক্রমণকে রাশিয়ার যুদ্ধবিরতি চাওয়ার দাবির বিপরীতে একটি শক্তিশালী সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো দেশগুলো ইতিমধ্যে রাশিয়ার সামরিক কার্যক্রমের প্রতি তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ইউক্রেনকে অতিরিক্ত সামরিক সহায়তা প্রদান করার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। ভবিষ্যতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে নতুন শান্তি আলোচনার সময়সূচি কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর নির্ভরশীল থাকবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments