বিএনপি গতকাল একটি বিবৃতি জারি করে তরিক রহমানের বিরুদ্ধে ‘অপমানজনক মন্তব্য’ করার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া এ.কে.এম. শাহিদুল ইসলামের অবিলম্বে ও শর্তহীন মুক্তি দাবি করেছে। শহিদুলের গ্রেফতারের পেছনে তরিকের জাতীয় কবি কাজী নাজরুল ইসলাম ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির সমাধি পরিদর্শনের সময় করা মন্তব্যের অভিযোগ।
পুলিশ শহিদুলকে অপরাধ সংহিতা ধারা ৫৪ অনুযায়ী আটক করে এবং সংশ্লিষ্ট আদালত তাকে জেলখানায় পাঠায়। ধারা ৫৪ সাধারণত ‘অশোভন মন্তব্য’ বা ‘অবমাননাকর কথা’ সংক্রান্ত অভিযোগে ব্যবহৃত হয়।
বিএনপি এই গ্রেফতারের নিন্দা করে এটিকে মত প্রকাশের স্বাধীনতার লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। দলটি জোর দিয়ে বলেছে যে, গণতান্ত্রিক সমাজে প্রত্যেক নাগরিকের মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে এবং তা কোনো ভয় ছাড়াই ব্যবহার করা উচিত।
বিএনপি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “গণতান্ত্রিক দেশে প্রত্যেকের মত প্রকাশের স্বাধীনতা মৌলিক মানবাধিকার। তাই শহিদুলের মতামত প্রকাশের জন্য তাকে গ্রেফতার ও কারাবন্দি করা ভুল।” এই বক্তব্যে দলটি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যে, তারা দ্রুত শহিদুলের মুক্তি নিশ্চিত করবে।
দলটি তরিকের সমাধি সফরের সময় করা মন্তব্যের বিষয়টি স্পষ্ট করে না দিলেও, গ্রেফতারকে রাজনৈতিক দমনমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গণতান্ত্রিক নীতি মেনে চলতে আহ্বান জানিয়েছে।
তরিকের সমাধি সফরে জাতীয় কবি কাজী নাজরুল ইসলামের সমাধি এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির সমাধি পরিদর্শন অন্তর্ভুক্ত ছিল। উক্ত সফরটি তরিকের রাজনৈতিক উপস্থিতি ও ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে গণ্য হয়।
শরিফ ওসমান হাদি, যিনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র, তার ওপর একটি হত্যাকাণ্ডের মামলা চলছে। তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগের মতে, ওই মামলার চার্জশিট আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে দাখিল করা হবে এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বিষয়টি জানিয়েছেন।
শহিদুলের গ্রেফতার ও আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে, আইনগত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন। তবে, দলটি ইতিমধ্যে এই বিষয়টি রাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করে দেখাচ্ছে।
বিএনপি এই ঘটনার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার সংরক্ষণের গুরুত্ব পুনরায় তুলে ধরেছে। দলটি ভবিষ্যতে এধরনের গ্রেফতার ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সংলাপের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
এই বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে যখন তরিকের মত উচ্চপদস্থ নেতার বিরুদ্ধে মন্তব্যের জন্য গ্রেফতার করা হয়। এ ধরনের ঘটনা পার্টির মধ্যে ও সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির সময়ে অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি করতে পারে।
বিএনপি এখন পর্যন্ত শহিদুলের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নজর রাখবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছে। দলটি দাবি করে যে, দ্রুত মুক্তি না হলে তা গণতান্ত্রিক নীতির বিরোধিতা হিসেবে গণ্য হবে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপের জন্য আদালতের রায় ও সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা হচ্ছে, যেখানে বিএনপি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে মতবিরোধের সমাধানই মূল বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।



