বেবি জন, যার প্রধান চরিত্রে ভরুণ ধাওন, ২৫ ডিসেম্বর বুধবার মুক্তি পায় এবং প্রথম দিনে ১১.২৫ কোটি টাকার সংগ্রহ রেকর্ড করে। তবে পরের দিন বৃহস্পতিবারের সংগ্রহ মাত্র ৫.১৩ কোটি টাকায় নেমে আসে, যা প্রত্যাশার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম। শুক্রবারেও সংগ্রহের হ্রাস অব্যাহত থাকে, ফলে সপ্তাহান্তের মোট সংগ্রহ ৩০ কোটি টাকার নিচে নামার সম্ভাবনা দেখা দেয়।
বিক্রয় হ্রাসের ফলে সিনেমা হলগুলোতে বেবি জনের শো সংখ্যা দ্রুত কমতে শুরু করে। এক্সহিবিশন সূত্র অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারের বড় পতনটি হলের মালিকদেরকে স্পষ্ট সংকেত দেয় যে শুক্রবারেও দর্শকসংখ্যা বাড়বে না, ফলে দেশের বিভিন্ন থিয়েটারে শো সংখ্যা হ্রাস পায়।
এদিকে, মালয়ালম চলচ্চিত্র মারকোর হিন্দি ডাব সংস্করণটি ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। স্যান্ডিপ রেড্ডি ভাঙ্গার ‘অ্যানিমাল’ (২০২৩) এর অতিরিক্ত হিংসাত্মক দৃশ্যের তুলনায় মারকোকে অধিক পরিবারিক বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই চাহিদা পূরণে বেবি জনের শোগুলোকে মারকো, পুশ্পা ২ এবং মুফাসা: দ্য লায়ন কিংয়ের শো দিয়ে বদলানো হচ্ছে।
মুম্বাইয়ের নিকটবর্তী থেনের মুভি ম্যাক্স ওয়ান্ডার মলে রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর, মারকোর হিন্দি সংস্করণে ৫টি শো নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে বেবি জনের শো মাত্র ৩টি থাকবে। এই পরিবর্তনটি দর্শকদের পছন্দের পরিবর্তনকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে।
মুম্বাইয়ের জনপ্রিয় জি৭ মাল্টিপ্লেক্সে বেবি জন প্রথমে ১০০০ সিটের গাইটি থিয়েটারে এবং গসিপ থিয়েটারে দু’টি শোতে চলছিল। তবে এখন গাইটি থিয়েটারের বদলে গ্যালাক্সি থিয়েটারে স্থানান্তরিত হয়েছে, যেখানে সিটের সংখ্যা প্রায় ২০০ কম। একই সময়ে পুশ্পা ২ গাইটি থিয়েটারে পুনরায় ফিরে এসেছে।
সপ্তাহের মধ্যভাগে বেবি জনের শো সংখ্যা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে, যা চলচ্চিত্রের মোট সংগ্রহে প্রভাব ফেলবে। থিয়েটার মালিকদের মতে, দর্শকসংখ্যা কমে যাওয়ায় শো সময়সূচি পুনর্বিন্যাস করা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে।
বেবি জনের বিতরণকারী পিভিআর‑ইনক্স পিকচার্সের বিতরণ কৌশলও সমালোচনার মুখে। চলচ্চিত্রের প্রত্যাশিত পারফরম্যান্সের তুলনায় সংগ্রহের হ্রাস এবং শো সংখ্যা কমে যাওয়া নিয়ে বিতরণকারীকে প্রশ্ন করা হচ্ছে।
বিভিন্ন মিডিয়া সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে পিভিআর‑ইনক্সের পরিকল্পনা হয়তো প্রাথমিকভাবে বড় স্ক্রিনে উচ্চ সংগ্রহের লক্ষ্য রাখে, তবে বাস্তবে দর্শক আগ্রহের পরিবর্তন দ্রুত শো পরিবর্তনে বাধ্য করেছে।
বেবি জনের সংগ্রহের পতন এবং শো পরিবর্তনটি শিল্পের জন্য সতর্কতা স্বরূপ। বড় বাজেটের চলচ্চিত্রগুলোও দর্শকের স্বাদ ও পছন্দের পরিবর্তনের মুখে সংবেদনশীল হতে পারে, যা বিতরণ ও শো পরিকল্পনায় নমনীয়তা দাবি করে।
এই পরিস্থিতিতে অন্যান্য চলচ্চিত্রের শো বাড়ছে। মারকোর হিন্দি সংস্করণ, পুশ্পা ২ এবং মুফাসা: দ্য লায়ন কিংয়ের শো সংখ্যা বাড়ছে, যা থিয়েটারগুলোকে বিকল্প প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে দর্শক আকর্ষণে সহায়তা করছে।
সিনেমা হলগুলোতে শো পরিবর্তনের ফলে দর্শকদের জন্য নতুন বিকল্প তৈরি হয়েছে, তবে বেবি জনের ভক্তদের জন্য শো কমে যাওয়া একটি হতাশার বিষয়। চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ সপ্তাহান্তের পারফরম্যান্স এখনো অনিশ্চিত, তবে বর্তমান প্রবণতা অনুসারে সংগ্রহের পরিমাণ সীমিত থাকতে পারে।
শিল্পের বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, বেবি জনের মতো উচ্চ প্রত্যাশিত চলচ্চিত্রের জন্য সঠিক সময়ে সঠিক স্ক্রিনে শো নিশ্চিত করা জরুরি, নতুবা দ্রুত শো কমে যাওয়া এবং সংগ্রহের ক্ষতি হতে পারে। পিভিআর‑ইনক্সের বিতরণ কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করা এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সহায়ক হতে পারে।



