বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমান আজ শনিবার ঢাকার ১৭ নং সংসদীয় আসন থেকে ভোটার তালিকায় নাম লেখিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। একই সময়ে তিনি বগুড়া‑৬ আসন থেকে পুনরায় নির্বাচনে অংশ নেবেন এবং ভোলা‑১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না রেখে নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
বিএনপি দল ঢাকা‑১৭ আসনকে জোটের অংশীদারদের জন্য ফাঁকা রেখে চলেছে; গুলশান‑বনানী, বারিধারা ইত্যাদি সমৃদ্ধ এলাকা অন্তর্ভুক্ত এই আসনটি জোটের কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। পূর্বে জোটের মধ্যে আন্দালিভ রহমান পার্থকে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মনোনয়নের কথা শোনা গিয়েছিল, তবে তারেকের আবেদন পাওয়ার পর পার্থকে ভোলা‑১ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী না করার সম্মান জানিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
তারেকের ভোলা‑১ আসন থেকে প্রত্যাহারের পর, বিজেপি পার্টি তারেকের প্রতি সম্মানসূচকভাবে ভোলা‑১ থেকে তার প্রার্থীকে সমর্থন করার প্রস্তাব দেয়। তবে পার্থ এই প্রস্তুকে গ্রহণ না করে, নিজের দলের প্রার্থী হিসেবে ভোলা‑১ থেকে নির্বাচনে লড়াই করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি ইতিমধ্যে ভোলা‑১ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
ভোলা‑১ আসনে পূর্বে বিএনপি গুলাম নবী আলমগীরকে প্রাথমিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল, তবে পার্থের পদক্ষেপের পর দলটি এই আসনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। পার্থ ২০০৮ সালে একই আসন থেকে বিএনপি সমর্থনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন; তার বাবা, প্রয়াত নাজিউর রহমান মঞ্জু, পূর্বে এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
এই নির্বাচনী পরিবর্তন জোটের মধ্যে সমন্বয় ও কৌশলগত সমঝোতার প্রতিফলন বলে বিশ্লেষকরা দেখছেন। ঢাকা‑১৭ আসনের ফাঁকা রাখা জোটের অন্যান্য শক্তিশালী প্রার্থীকে সমর্থন করার সুযোগ তৈরি করবে, আর ভোলা‑১ থেকে পার্থের প্রত্যাশা তার পার্টির ভিত্তি শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
ভবিষ্যতে, জোটের এই সমন্বয় নির্বাচনী ফলাফলে কী প্রভাব ফেলবে তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। যদি পার্থ ভোলা‑১ থেকে জয়লাভ করেন, তবে বিজেপি পার্টির স্থানীয় শক্তি পুনরুদ্ধার হবে এবং জোটের মধ্যে পারস্পরিক সমর্থন বাড়বে। অন্যদিকে, যদি অন্য কোনো দল এই আসনে জয়ী হয়, তবে জোটের কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।
বিএনপি ও বিজেপি উভয়ই এখন নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে তারা নিজেদের ভিত্তি গড়ে তোলার পাশাপাশি জোটের সমন্বয় বজায় রাখার চেষ্টা করছে। পার্থের ভোলা‑১ থেকে নির্বাচনী প্রচার এবং তারেকের বগুড়া‑৬ ও ঢাকা‑১৭ থেকে প্রত্যাহার জোটের সমন্বয়কে দৃঢ় করার লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই পরিবর্তনগুলো দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন গতিপ্রকৃতি তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে, বিশেষ করে ঢাকা ও ভোলা অঞ্চলের ভোটারদের মধ্যে পার্টির জনপ্রিয়তা ও সমর্থনকে প্রভাবিত করবে। জোটের ভবিষ্যৎ কৌশল, প্রার্থী নির্বাচন এবং ভোটার সংযোগের দিক থেকে এই ধাপটি গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।



