ঢাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর ত্রিশজন নেতা পার্টি সমাবেশকারী নাহিদ ইসলামকে চিঠি লিখে জামায়াত‑ই‑ইসলামির সঙ্গে কোনো জোট গঠন না করার দৃঢ় অনুরোধ জানিয়েছেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঐতিহাসিক দায়িত্ব এবং সাম্প্রতিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে এই জোটের কোনো সম্ভাবনা পার্টির নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
চিঠির যৌথ সচিব মুশফিক উস স্যালেহিন উল্লেখ করেন, “মেমোরেন্ডামটি স্পষ্টভাবে জামায়াতের সঙ্গে সিট‑শেয়ারিং বা জোটের কোনো আলোচনা বিরোধিতা করে”। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, পার্টির স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপটি অপরিহার্য।
নেতারা জামায়াতের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ের অবস্থানকে প্রধান উদ্বেগের বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন। ঐ সময়ে জামায়াত স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এবং গৃহযুদ্ধের সময় গৌরবহীন সহিংসতায় অংশগ্রহণের অভিযোগ রয়েছে, যা দেশের স্বাধিনতা সংগ্রামের মূল নীতির সঙ্গে সম্পূর্ণ বিরোধপূর্ণ।
এই ঐতিহাসিক দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, এনসিপি পার্টি নিজেকে গণতান্ত্রিক ও জনপ্রিয় আন্দোলন থেকে উদ্ভূত একটি সংগঠন হিসেবে উপস্থাপন করে। পার্টি মানবাধিকার, ধর্মীয় সহনশীলতা, লিঙ্গ সমতা, সংখ্যালঘু সুরক্ষা, নাগরিক স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দেয়।
চিঠিতে জামায়াতের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের ওপরও আলোকপাত করা হয়েছে। পার্টি নেতারা উল্লেখ করেন, জামায়াত অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হস্তক্ষেপ, মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া, এনসিপি ও তার ছাত্র শাখার নারী সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করা এবং ধর্মীয় উগ্রতাবাদকে উত্সাহিত করা—এগুলো সবই সমাজের ঐক্য ও গণতান্ত্রিক নীতির জন্য হুমকি স্বরূপ।
এনসিপি এই ধরনের জোটের ফলে তার নৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে যাবে এবং সমর্থকদের, বিশেষ করে তরুণ ও সংস্কারপ্রিয় নাগরিকদের বিশ্বাস ক্ষয়প্রাপ্ত হবে বলে সতর্ক করেছে। জোটের মাধ্যমে কয়েকটি আসন অর্জনের চেষ্টা পার্টির মূল আদর্শকে অস্পষ্ট করে তুলতে পারে এবং ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
নেতারা পার্টি নেতৃত্বকে কৌশলগত স্বার্থের চেয়ে নৈতিক দিককে অগ্রাধিকার দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তারা জোর দিয়ে বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে কোনো সহযোগিতা না করা পার্টির স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এছাড়াও, পার্টির অভ্যন্তরে মতবৈচিত্র্যকে সম্মান করে শৃঙ্খলা ও ঐক্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। নীতিগত পার্থক্যগুলোকে সঠিকভাবে পরিচালনা করলে পার্টি শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতে কোনো অপ্রয়োজনীয় জোটের প্রলোভন থেকে দূরে থাকবে।
চিঠির স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছে যৌথ সচিব মুশফিক উস স্যালেহিন, কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসেন এবং যৌথ সমন্বয়কারী খালেদ সাইফুল্লাহ। তাদের সঙ্গে আরও বহু নেতা এই মেমোরেন্ডামকে সমর্থন করেছেন, যা পার্টির অভ্যন্তরে ব্যাপক সমঝোতা নির্দেশ করে।
একই সময়ে, এনসিপি’র প্রাক্তন নেতা তরিক রহমান ১৯ বছর পর তার পিতার সমাধিতে প্রার্থনা করেছেন। এই ঘটনা পার্টির অভ্যন্তরে অতীতের সঙ্গে সংযোগ ও বর্তমান রাজনৈতিক গতিবিধির মধ্যে একটি প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এনসিপি এখন নাহিদ ইসলামকে অনুরোধ করছে, যেন তিনি জামায়াতের সঙ্গে কোনো জোটের সম্ভাবনা বাদ দিয়ে পার্টির নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেন। ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্ত পার্টির গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সমর্থকদের আস্থা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



