২৭ ডিসেম্বর ভোরবেলায় পঞ্চবিবি উপজেলার ঘোনাপাড়া গ্রামাঞ্চলে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে কাঁটাতারের বেড়া গড়ার কাজ শুরু করে। কাজটি ২৮১ নম্বর সীমান্ত পিলারের সাব‑পিলার ৪৭, ৪৮ ও ৪৯ নম্বর এলাকায় শূন্যরেখার নিকটবর্তী স্থানে চালু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিএসএফ সদস্যরা দ্রুতই কাজটি চালু করে, তবে একই সময়ে কায়া ক্যাম্পের বিজিবি (বিজিবি) সৈন্যদের কাছে জানিয়ে দেয়।
বিজিবি সৈন্যরা তৎক্ষণাৎ উপস্থিত হয়ে কাজটি থামিয়ে দেয় এবং বিএসএফকে স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য করে। ফলে, কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং বিএসএফ দলটি ফিরে যায়। এই ঘটনায় দেখা যায় যে সীমান্তে দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে তীব্র পারস্পরিক পর্যবেক্ষণ ও তাড়া-ধরা চলছে।
বিএসএফের এই প্রচেষ্টা পূর্বে দু’বারও পঞ্চবিবি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া গড়ার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে প্রতিবারই বিজিবি বাহিনীর হস্তক্ষেপে কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। এই পুনরাবৃত্তি ঘটনা উভয় দেশের সীমান্ত নীতি ও সমন্বয় প্রক্রিয়ার দুর্বলতা নির্দেশ করে।
বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে ঘটনার পরপরই একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ অবিলম্বে বন্ধ করার এবং ইতিমধ্যে গড়া কাঠামো সরিয়ে নেওয়ার দাবি করে। বিএসএফ পক্ষ থেকে কাজ বন্ধ রাখার এবং স্থাপিত বেড়া অপসারণের প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করা হয়।
বিজিবি সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইমরান হোসেন সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর অবস্থান বজায় রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভবিষ্যতে এমন কোনো অনধিকারিক কাজের পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ঘটনা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ, বিশেষত কাঁটাতারের বেড়া ও সুরক্ষা গড়ে তোলার বিষয়টি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উভয় পক্ষই সীমান্তে অবৈধ কাঠামো গড়ে তোলার অভিযোগে একে অপরকে সমালোচনা করেছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপর চাপ বাড়িয়ে দেয়।
অঞ্চলীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, সীমান্তে অবৈধ কাঠামো গড়ে তোলা কেবলমাত্র ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ায় না, বরং স্থানীয় জনগণের জীবনের ওপরও প্রভাব ফেলে। তারা পরামর্শ দেন যে, উভয় দেশই সীমান্তে সমন্বিত নজরদারি ও যৌথ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে এমন সংঘর্ষের সম্ভাবনা কমাতে পারে।
দুই দেশের কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো ইতিমধ্যে এই বিষয়টি উঁচু পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে, উভয় পক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে সীমান্তে অবৈধ কাঠামো গড়ে তোলার প্রতিরোধে নতুন প্রোটোকল তৈরি করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, ঘোনাপাড়া সীমান্তে বিএসএফের কাঁটাতারের বেড়া গড়ার প্রচেষ্টা বিজিবির সক্রিয় হস্তক্ষেপে ব্যর্থ হয়েছে এবং এই ঘটনা দুই দেশের সীমান্ত নীতি ও কূটনৈতিক সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় উন্মোচিত করেছে। ভবিষ্যতে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও পারস্পরিক সম্মতির মাধ্যমে এ ধরনের সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।



