মেলবোর্নের মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত চতুর্থ অ্যাশ টেস্টে ইংল্যান্ড দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৫ বছরের বেশি সময়ের পর প্রথম টেস্ট জয় অর্জন করে। এই ম্যাচটি ১০ মিমি ঘাস রেখে প্রস্তুত করা পিচে খেলা হয় এবং ছয়টি সেশনেরও কম সময়ে ৩৬টি উইকেট নেমে আসে, ফলে টেস্টটি দুই দিনের মধ্যে শেষ হয়।
মেলবোর্নের তৃতীয় তলায় গ্লাস কেসে রবিরি উইলিয়ামসের ২০২২ AFL গ্র্যান্ড ফাইনালের সময় পরা নীয়ন গোলাপী স্যুটটি প্রদর্শিত হয়, যা স্টেডিয়ামের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে দর্শকদের নজর কেড়েছে।
অ্যাশ সিরিজের এই চতুর্থ টেস্টে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়া পিচের অবস্থা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পিচে মাত্র ১০ মিমি ঘাস রেখে প্রস্তুত করা হয়, যা দ্রুত ভেজা হয়ে গিয়ে বোলারদের জন্য অনুকূল শর্ত তৈরি করে। ফলস্বরূপ, ব্যাটসম্যানদের জন্য স্কোর গড়ে তোলা কঠিন হয়ে ওঠে এবং শীঘ্রই ৩৬টি উইকেট নেমে আসে।
এই শর্তে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন‑আপের মধ্যে ব্রাইডন কার্সে তৃতীয় নম্বরে অবস্থান নেন, যা তার অপ্রত্যাশিত ব্যাটিং সুযোগকে নির্দেশ করে। পিচের দ্রুত ভেজা হওয়া এবং বোলারদের প্রভাবশালী পারফরম্যান্সের ফলে ম্যাচটি দুই দিনের মধ্যে সমাপ্তি পায়, যা টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহ্যবাহী দীর্ঘ সময়ের গেমের তুলনায় অস্বাভাবিক।
ইংল্যান্ডের এই জয় অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট জয়ের দীর্ঘ শূন্যতা ভাঙে; শেষবারের মতো ১৫ বছরের বেশি সময়ের পর ইংল্যান্ড মাটিতে জয়লাভ করে। সিরিজের মোট পাঁচটি টেস্টের মধ্যে এটি দ্বিতীয়টি, যা দুই দিনের টেস্ট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ম্যাচের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট ৩৬টি উইকেট ছয়টি সেশনেরও কম সময়ে নেমে আসে, যা পিচের তীব্রতা এবং বোলারদের দক্ষতা উভয়ই প্রকাশ করে। পিচের অবস্থা, সময়ের পরিবর্তন এবং শর্তের প্রভাব টেস্ট ক্রিকেটের জটিলতা ও গভীরতা তুলে ধরে।
এই ম্যাচের ফলাফল অ্যাশ সিরিজের সামগ্রিক গতি পরিবর্তন করে এবং পরবর্তী টেস্টের জন্য উভয় দলের কৌশল পুনর্বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে। সিরিজের শেষ টেস্টের সময়সূচি ও স্থান এখনও নির্ধারিত, যা ভক্তদের আগ্রহ বাড়িয়ে তুলেছে।
মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত এই টেস্টের বিশেষত্ব হল পিচের অনন্য প্রস্তুতি এবং দ্রুত ফলাফল, যা টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহ্যবাহী ধীরগতির গেমের সঙ্গে বৈপরীত্য সৃষ্টি করে। তবে, এই ধরনের শর্তেও উভয় দলের খেলোয়াড়রা নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন করে, যা ক্রিকেটের বহুমুখিতা ও আকর্ষণকে জোরদার করে।
অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের এই টেস্টের পর, অ্যাশ সিরিজের পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি ও কৌশল নির্ধারণে উভয় দলের কোচিং স্টাফের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। পিচের অবস্থা, আবহাওয়া এবং সময়ের পরিবর্তন ভবিষ্যৎ গেমে কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে এই ম্যাচের ফলাফল ইতিমধ্যে সিরিজের গতি পরিবর্তন করেছে।
সারসংক্ষেপে, মেলবোর্নের চতুর্থ অ্যাশ টেস্টে ইংল্যান্ডের জয়, পিচের অনন্য শর্ত এবং দ্রুত উইকেট পতনের মাধ্যমে টেস্ট ক্রিকেটের বৈচিত্র্য ও চ্যালেঞ্জকে পুনরায় উদ্ভাসিত করেছে। এই ম্যাচটি ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত হিসেবে রেকর্ডে থাকবে।



