বিসিবি ও বিপিএল দলের সহকারী কোচ মাহবুব আলি জাকি, ৫৯ বছর বয়সে, আজ দুপুরে টিম বাসে করে মাঠে পৌঁছানোর পরই হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন। প্রথম ম্যাচের শুরুর ঠিক আগে হার্ট অ্যাটাকের শিকার হওয়া কোচকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু ঘটেছে।
মাহবুব জাকি দুপুরে টিম বাসে করে মাঠে পৌঁছেছিলেন এবং দলের গরমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছিলেন। তিনি আগে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করিয়েছিলেন, তবে দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার মাঠে ফিরে আসেন। সেই দিনই তিনি কফিনবন্দি হয়ে মাঠে প্রবেশ করেন এবং ম্যাচের আগে তার মৃত্যু ঘটে।
২০০৮ সাল থেকে তিনি বিসিবির কোচিং স্টাফের অংশ হিসেবে কাজ করছিলেন এবং গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের অধীনে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে তিনি বিপিএলের ঢাকা ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ হিসেবে দলকে কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিচ্ছিলেন।
মাহবুবের আকস্মিক মৃত্যুর পর দেশের বর্তমান ও প্রাক্তন ক্রিকেটাররা সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। তাদের মন্তব্যে কোচের ব্যক্তিত্ব, পেশাগত দক্ষতা এবং তরুণ পেসারদের ওপর তার প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে।
মাশরাফে বিন মর্তজা বলেছিলেন, তিনি এবং জাকি বহুবার বোলিং সংক্রান্ত আলোচনা করেছেন এবং জাকিকে বাংলাদেশের বায়োমেকানিক্সের সর্বোত্তম জ্ঞানী হিসেবে স্মরণ করেন। তিনি জাকির বিদায়ের পর তার আত্মার শান্তি ও স্বর্গে উচ্চ স্থান কামনা করেছেন।
শাকিব আল হাসান তার শোক প্রকাশে উল্লেখ করেছেন, কোচ জাকির সঙ্গে তার পরিচয় পেশাদার ক্রিকেটের শুরুর দিন থেকে। শাকিবের মতে, জাকির শেষ মুহূর্তই সেই মাঠে কাটে, যেখানে তিনি সর্বোচ্চ আনন্দ পেতেন। তিনি জাকির পরিবারকে আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।
মুস্তাফিজুর রহমান ও হাসান মাহমুদ দুজনই জাকির প্রশিক্ষণকে তাদের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা বলছেন, জাকির নির্দেশনা তাদেরকে শক্ত পায়ে পথ চলতে শিখিয়েছে এবং তার ছাড়া পেসারদের উন্নয়ন কল্পনা করা কঠিন।
তাসকিন আহমেদ জাকির অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, তার কোচিং পদ্ধতি ও পরামর্শ দেশের পেসারদের জন্য অমূল্য ছিল। তাসকিনের মতে, জাকির ছাড়া তরুণ বোলারদের বিকাশে বড় ফাঁক থাকবে।
তামিম ইকবালও জাকির মৃত্যুকে গভীর শোকের কারণ হিসেবে প্রকাশ করেছেন। তিনি বলছেন, জাকির সঙ্গে কাটানো সময় এবং তার বোলিং জ্ঞান সবসময়ই তার জন্য অনুপ্রেরণার উৎস ছিল।
মাহবুব জাকির মৃত্যু কেবল তার পরিবার নয়, পুরো ক্রিকেট জগতে শোকের ছায়া ফেলেছে। তার দীর্ঘায়ু কোচিং ক্যারিয়ার, তরুণ পেসারদের গড়ে তোলায় অবদান এবং বিভিন্ন দলের সঙ্গে কাজ করা তাকে দেশের ক্রিকেটের অন্যতম বিশ্বাসযোগ্য নাম করে তুলেছে।
কোচের আকস্মিক বিদায়ের পর ক্রিকেট সমিতি ও ক্লাবগুলো তার স্মৃতিকে সম্মান জানাতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করছে। তবে এখন সবচেয়ে বড় কাজ হল তার শিখা থেকে শিখে ভবিষ্যৎ পেসারদের গড়ে তোলা, যাতে তার নাম ও কাজের ছাপ ক্রীড়া মঞ্চে অম্লান থাকে।



