শীতের হাওয়া, বড়দিনের ছুটি এবং সাপ্তাহিক ছুটির ধারাবাহিকতা নিয়ে দেশের প্রধান সমুদ্রতট কক্সবাজারে বিশাল সংখ্যক পর্যটক জমায়েত হয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী সহ বিভিন্ন জেলা থেকে পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী ও দলবদ্ধ ভ্রমণকারীরা এই দীর্ঘ ছুটির সুযোগে সমুদ্রতীরের দিকে রওনা হয়েছে। হোটেল ও মোটেলগুলো পূর্ণ, কোনো খালি ঘর পাওয়া যায় না, এবং সকালবেলা কুয়াশা ভেজা সাগরের ধারে পর্যটকদের পদচারণা শোনা যায়।
সৈকতের জনপ্রিয় পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত সমুদ্রতীরের পুরো অংশে সকাল থেকে জনসমাগম দেখা যায়। সূর্যোদয় না হলেও পর্যটকরা সাগরের ঢেউয়ের সান্নিধ্যে ছবি তোলার, বিচ বাইক, ঘোড়া, জেট স্কি ইত্যাদি বিভিন্ন রকমের জলক্রীড়া উপভোগের জন্য একত্রিত হয়। শীতের তাপমাত্রা উপেক্ষা করে অধিকাংশ ভ্রমণকারী সমুদ্রের তীরে সময় কাটাচ্ছেন, যা এই মৌসুমে কক্সবাজারের আকর্ষণকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বহু পর্যটকই ভিড়ের কারণে মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ তুলছেন। হোটেল ভাড়া, খাবার এবং পরিবহন খরচ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতি কিছু ভ্রমণকারীর জন্য ছুটির আনন্দকে নষ্ট করে দিয়েছে।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা এক পর্যটক জানান, অনলাইনে যে দামে হোটেল বুকিং করা হয়েছিল, সেখানে পৌঁছে তা থেকে অনেক বেশি টাকা দিতে হয়েছে। খাবারের দামও অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে, ফলে ছুটির অভিজ্ঞতা প্রত্যাশিত নয়।
চট্টগ্রাম থেকে আসা আরেকজন পর্যটক উল্লেখ করেন, পর্যটকদের ভিড়ের সুবিধা নিয়ে কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন; অটো রিকশা, ই-বাইক, রিকশা এবং খাবারের দাম সবই বাড়তি। তিনি প্রশাসনের তদারকি শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন।
কক্সবাজারের সমুদ্রতীরে ভিড়ের সময়ে দাম দ্বিগুণের বেশি হওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়, এমন মন্তব্য করেন আরেকজন পর্যটক, যিনি বন্ধুদের সঙ্গে ভ্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের মূল্যবৃদ্ধি কক্সবাজারের ইতিবাচক চিত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
কক্সবাজার শহর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত বিশ্বের দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভেও ছুটির সময়ে পর্যটকদের ভিড় দেখা গেছে। পাহাড়, সমুদ্র এবং বাঁকানো সড়কের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে ভ্রমণকারীরা ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল দিয়ে ড্রাইভে রওনা হয়।
মেরিন ড্রাইভে এক পাশে উঁচু পাহাড় আর অন্য পাশে বিশাল সমুদ্রের দৃশ্যের প্রশংসা করে একটি পর্যটক বলেন, কক্সবাজারে এসে এই পথটি না দেখলে সত্যিই অসম্পূর্ণ থাকবে। তিনি এই রুটকে কক্সবাজারের অপরিহার্য আকর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বর্ধিত ভিড় এবং মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও, সমুদ্রের স্বচ্ছ পানির স্নিগ্ধতা, সূর্যালোকে সোনালি বালির ঝলক এবং স্থানীয় খাবারের স্বাদ এখনও পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। তবে নিরাপদ ও স্বচ্ছ মূল্য নীতি নিশ্চিত করা, পর্যটক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীর মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করা জরুরি, যাতে ছুটির আনন্দ বজায় থাকে এবং কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প টেকসইভাবে উন্নতি করে।
যারা শীতের ছুটিতে কক্সবাজারের সমুদ্রতীর ভ্রমণ পরিকল্পনা করছেন, তাদেরকে আগাম হোটেল ও পরিবহন সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, স্থানীয় বাজারে দাম তুলনা করে সাশ্রয়ী বিকল্প বেছে নেওয়া এবং সরকারি পর্যটন তথ্য কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুসরণ করা নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের নিশ্চয়তা দেবে।



