ঢাকা, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩ – ২২ বছর আগে, ৩৮ বছর বয়সী তারেক রহমান, তখনকার বিএনপি জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, চ্যানেল আই-তে তার প্রথম টেলিভিশন সাক্ষাৎকার দেন। সাক্ষাৎকারটি ২৮ ডিসেম্বর ২০০৩-এ রেকর্ড করা হয় এবং ১ জানুয়ারি ২০০৪-এ সম্প্রচারিত হয়। তারেক, যিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে এবং বর্তমান বিএনপি চেয়ারপার্সনের পুত্র, তখন সরকারে না থাকলেও পার্টির অভ্যন্তরে তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলছিল।
সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় পদে আসার কোনো ইচ্ছা নেই এবং রাষ্ট্রক্ষমতার স্বপ্ন দেখেন না। তিনি রাজনৈতিক কর্মকে পেশা নয়, আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং বলেন, রাজনীতিবিদদের জীবিকা নির্বাহের জন্য অন্য কোনো পেশা থাকা প্রয়োজন। তারেকের মতে, কোনো সরকারের মূল দায়িত্ব হল দেশের সমস্যাগুলো সমাধানে আন্তরিকতা দেখানো।
তারেকের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে তিনি দুইজন জাতীয় নেতার অবদানকে স্বীকৃতি দেন। তিনি শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানের দেশের ও জনগণের জন্য অবদানকে উল্লেখ করেন এবং দৈনন্দিন রাজনীতিতে তাদের নাম টেনে আনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন। এই মন্তব্যগুলো তখনকার রাজনৈতিক পরিবেশে যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি করে।
সাক্ষাৎকারের পর থেকে তারেকের রাজনৈতিক জীবন উত্থান-পতনের ধারায় চলে। তিনি এক সময় জেলে বন্দী হন, এরপর প্রায় আঠারো বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসনে কাটান। ২৫ ডিসেম্বর ২০২২-এ দেশে ফিরে তিনি একটি বিশাল সমাবেশে উপস্থিত হন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রকাশের ইঙ্গিত দেন, যা বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে তাকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখার প্রত্যাশা জাগিয়ে তোলে।
বিএনপি-র বর্তমান চেয়ারপার্সন, খালেদা জিয়া, তারেকের ফিরে আসাকে পার্টির পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে বিরোধী দল ও বিশ্লেষকরা তারেকের দীর্ঘ নির্বাসন ও অতীতের আইনি সমস্যাকে রাজনৈতিক ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, তারেকের পুনরায় ক্ষমতার শীর্ষে ওঠা পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও জনমত গঠনকে প্রভাবিত করতে পারে।
সাক্ষাৎকারের মূল বিষয়গুলো পুনরায় প্রকাশের জন্য চ্যানেল আই-তে সম্প্রতি পুনঃপ্রচার করা হয়েছে। এতে তারেকের স্বাভাবিক স্বর ও সরল ভাষায় রাজনৈতিক আদর্শের ব্যাখ্যা দেখা যায়। তিনি দর্শকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে, নিজের পরিচয় না দিয়ে, সরাসরি বিষয়বস্তুতে প্রবেশ করেন। তারেকের এই পদ্ধতি, যা রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে দেয়, দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে, তারেকের দেশে ফিরে আসা এবং তার পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রকাশিত ইঙ্গিতগুলো বিএনপি-র নেতৃত্বে নতুন গতিপথের সূচনা করতে পারে। পার্টির অভ্যন্তরে তারেককে সমর্থনকারী গোষ্ঠী তার অভিজ্ঞতা ও পারিবারিক পটভূমিকে শক্তি হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে বিরোধীরা তার রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
সামগ্রিকভাবে, তারেকের প্রথম সাক্ষাৎকারের বিষয়বস্তু ও তার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান উভয়ই বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে। তারেকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও পার্টির কৌশল কীভাবে বিকশিত হবে, তা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে বড় প্রভাব ফেলবে।



