বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা তরিক রহমানের নেতৃত্বে সংস্কৃতি বিপ্লবের কথা জানিয়ে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু শনিবার বিকালে জাসাসের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তবে ৩১‑দফা ভিত্তিক একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে, যেখানে পূর্বের আওয়ামী সরকারে দেখা হত্যাকাণ্ড, লুটপাট ও অন্যান্য অপরাধের পুনরাবৃত্তি হবে না।
দুলু বলেন, আওয়ামী লীগ যে গণতন্ত্রহীনতা, হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও লুটপাটের মাধ্যমে দেশের শাসন চালিয়েছে, তা জনগণ ভুলে যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ অবৈধভাবে বারবার ক্ষমতায় এসে জাতির ঘাড়ে চড়ে বসে ছিল, ফলে জনগণ সঠিকভাবে ভোট দিতে পারেনি। এখন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে মুখিয়ে আছে এবং তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস প্রকাশ করেন, এইবার ভোটের মাধ্যমে জনগণ বিএনপিকে নির্বাচন করবে।
অনুষ্ঠানটি জাসাস নেতা মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাউল শিল্পী আব্দুল খালেকের সঞ্চালনায় বিভিন্ন বক্তা মঞ্চে আসেন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ, সদস্য কাজী শাহ আলম, নাসিম উদ্দিন নাসিম, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ আলী, দেওয়ান শাহিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সানোয়ার হোসেন, ভিপি তুষার এবং জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলাম সৃজনসহ বহু নেতার বক্তব্য শোনা যায়।
দুলু তর্ক করেন, পূর্বের সরকারে দেখা গিয়েছিল ন্যায়বিচারের অভাব এবং দুর্নীতির বিস্তার, যা দেশের উন্নয়নকে ব্যাহত করেছে। তিনি নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি হিসেবে ৩১‑দফা পরিকল্পনা তুলে ধরেন, যার মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প ও সংস্কৃতির উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত। তরিক রহমানের নেতৃত্বে সংস্কৃতি বিপ্লবের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয় ও ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যও তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপির এই ঘোষণার পর, উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা তরিক রহমানের নেতৃত্বে সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। তারা জোর দেন, নতুন সরকার যদি সত্যিকারের সংস্কার বাস্তবায়ন করে, তবে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার ফিরে আসবে। তদুপরি, তারা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের ফলাফল দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অবশেষে, দুলু উপস্থিত সকলকে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে জনগণ তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী সরকার গঠন করতে পারে। তিনি আশাবাদী যে, নতুন নেতৃত্বের অধীনে বাংলাদেশে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ সম্ভব হবে।



