বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ঢাকা-১৭ গুলশান এলাকার ১৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ভোটার তালিকায় নাম লেখানোর আবেদন করেন। আবেদনটি শনিবার ২৭ ডিসেম্বর সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি ইলেকশন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদকে জানিয়ে দেন। এ ঘটনার পেছনে ইসির এমন একটি বিধান রয়েছে যা প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে যেকোনো সময় ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার অনুমতি দেয়।
তারেক রহমানের ভোটার হওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইসির সচিব আইনগত দিকটি স্পষ্ট করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯-এর ধারা ১৫ অনুসারে, কমিশন প্রাপ্তবয়স্ক ও ভোটার যোগ্যতা সম্পন্ন যে কোনো ব্যক্তিকে যেকোনো সময় তালিকায় যুক্ত করতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো আইনি বাধা নেই বলে তিনি জোর দেন।
আখতার আহমেদ আরও জানান, এক দিনের মধ্যে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলে বা কমিশনের সভা হলে তা দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব। তিনি রোববার, ২৮ ডিসেম্বর, তারেক রহমানের নাম তালিকায় যুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। এই সময়সীমা ইসির দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।
তারেকের আবেদন প্রক্রিয়ার সময় তার পরিবারও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। একই সকালে তার কন্যা জাইমা রহমান, তারেকের সঙ্গে, আগারগাঁও নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে উপস্থিত হন। সেখানে তারেকের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও ছিলেন, যাঁরা দুজনেই ভোটার তালিকায় নাম লেখানোর প্রয়োজনীয়তা ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন।
বিএনপির চেয়ারম্যানের এই পদক্ষেপটি গুলশান এলাকার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় নতুন নাম যুক্ত করার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি নিজেই গুলশান এলাকার বাসিন্দা হওয়ায়, তার ভোটার হওয়া স্থানীয় নির্বাচনী কাঠামোতে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইসির সচিবের মন্তব্যের ভিত্তিতে দেখা যায়, ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি এখনো কোনো রাজনৈতিক পার্থক্য না রেখে, শুধুমাত্র আইনগত মানদণ্ডের ওপর নির্ভরশীল। এই নীতি অনুসারে, যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ করা সম্ভব, যা ভোটার তালিকার আপডেটকে সহজতর করে।
বিএনপির নেতৃত্বে থাকা তারেকের এই আবেদনকে কিছু বিশ্লেষকরা পার্টির কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। তারা মনে করেন, আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে পার্টি তার সদস্যদের ভোটার তালিকায় যুক্ত করে ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করতে চাচ্ছে। তবে সচিবের স্পষ্টীকরণে দেখা যায়, এই প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অনুমতি নেই।
ইসির এই প্রকাশনা ভবিষ্যতে ভোটার তালিকা আপডেটের প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছতা ও দ্রুততা প্রদান করবে বলে আশা করা যায়। বিশেষত, নির্বাচনের আগে দ্রুত তালিকা সংশোধন করা হলে ভোটারদের অংশগ্রহণে বাধা কমে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া মসৃণ হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারেকের আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর ইসির অফিসে নথি যাচাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নথি যাচাইয়ের পর, যদি কোনো আপত্তি না থাকে, তবে রোববারের সভায় তার নাম তালিকায় যুক্ত হবে। এই ধাপটি ইসির স্বচ্ছতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অধিকন্তু, তারেকের কন্যা ও স্ত্রীর উপস্থিতি ভোটার তালিকায় নাম লেখানোর প্রক্রিয়ার সামাজিক দিকটিকেও তুলে ধরে। পরিবারিক সমর্থন ও অংশগ্রহণ ভোটার নিবন্ধনের গুরুত্বকে বাড়িয়ে দেয় এবং নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
ইসির সচিবের মতে, ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি কোনো সময়সীমা বা বিশেষ শর্তের অধীন নয়; প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের আবেদনই যথেষ্ট। এই নীতি ভবিষ্যতে ভোটার তালিকায় আপডেটের জন্য একটি মানদণ্ড স্থাপন করবে, যা নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়াবে।
সারসংক্ষেপে, তারেক রহমানের ভোটার হওয়ার আবেদন এবং ইসির দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও আইনি কাঠামোর স্পষ্টতা প্রদর্শন করে। রোববারের শেষ পর্যন্ত তার নাম তালিকায় যুক্ত হবে কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।



