20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতি২০২৫ সালের ব্যাংকিং সংকটের পরিসংখ্যান ও সরকারী পদক্ষেপের বিশ্লেষণ

২০২৫ সালের ব্যাংকিং সংকটের পরিসংখ্যান ও সরকারী পদক্ষেপের বিশ্লেষণ

২০২৫ সালের প্রথম দিকে ব্যাংকগুলো নতুন হিসাব খুলে দেখল যে, বহু বছর ধরে লুকিয়ে রাখা আর্থিক ক্ষতি আর গোপন রাখা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, ঋণদানের অনিয়ম, স্ক্যাম এবং নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা ব্যালান্স শিটকে শূন্যে নামিয়ে এনেছে। ফলে বছরের শেষ পর্যন্ত আর্থিক সূচকগুলো কঠিন বাস্তবতা প্রকাশ করেছে: নন‑পারফরমিং লোন (এনপিএল) রেকর্ড উচ্চে পৌঁছেছে, জমাকারীর আস্থা ক্ষীণ, এবং সংস্কারগুলো পুরনো ক্ষমতার কাঠামোর দ্বারা সীমাবদ্ধ।

সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং সেক্টরের এনপিএল ৬.৪৪ লাখ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশের সমান। এই অনুপাত এক বছর আগে থেকে দ্বিগুণের বেশি এবং ২০০০ সাল থেকে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। একই সময়ে এক ডজনেরও বেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক ৫০ শতাংশের বেশি ডিফল্ট অনুপাত রিপোর্ট করেছে, যা দেখায় যে আর্থিক সংকট কেবল কিছু দুর্বল প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নয়।

বড় কর্পোরেট গ্রুপগুলো নতুন ডিফল্টের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে, বিশেষ করে আগস্ট ২০২৪-এ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর। এই সময়ে বড় কোম্পানিগুলো ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে ব্যাংকগুলোর ক্ষতি বাড়িয়ে তুলেছে। আর্থিক সংকটের সঙ্গে সঙ্গে সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে; মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ৮ শতাংশে স্থির রয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য থেকে অনেক বেশি।

বেসরকারি খাতের ঋণ বৃদ্ধি রেকর্ড নিম্ন স্তরে নেমে এসেছে, কারণ ব্যাংকগুলো ঝুঁকি কমাতে ঋণ প্রদান কমিয়ে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদের হার ১০ শতাংশে স্থির রেখেছে, যা পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ। এই উচ্চ সুদের হার ব্যবসায়িক ঋণের খরচকে ১৬‑১৭ শতাংশে নিয়ে এসেছে, ফলে বিনিয়োগের গতি থেমে গেছে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

বছরের মাঝামাঝি সময়ে interim সরকার আর্থিক সংকট মোকাবিলায় বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ব্যাংক মার্জার, নন‑ব্যাংক লিকুইডেশন, নতুন আইন প্রণয়ন এবং তত্ত্বাবধানের কঠোরতা বাড়ানো এসবের মধ্যে রয়েছে। তবে এই সংস্কারগুলো পুরনো ক্ষমতার কাঠামোর প্রতিরোধের মুখে পড়েছে, যা তাদের কার্যকারিতা সীমিত করে।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা ঘটেছে। তরিক রহমান, যিনি ১৯ বছর পর তার পিতার সমাধিতে প্রার্থনা করেছেন, তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলো ফেলেছে। তার এই সফর বহু বছর পরের প্রথমবারের মতো হয়েছে এবং দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, ব্যাংকিং সংকটের সমাধান দীর্ঘমেয়াদী নীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর নির্ভরশীল। বর্তমান সরকার যদি শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীল ঋণদান সংস্কার চালিয়ে যায়, তবে ধীরে ধীরে আস্থা পুনর্গঠন সম্ভব হবে। তবে পুরনো ক্ষমতার গোষ্ঠী যদি সংস্কারকে বাধা দেয়, তবে আর্থিক সেক্টরের পুনরুদ্ধার দীর্ঘ সময় নিতে পারে।

সারসংক্ষেপে, ২০২৫ সালের ব্যাংকিং সংকটের পরিসংখ্যান দেখায় যে, নন‑পারফরমিং লোনের মাত্রা শীর্ষে পৌঁছেছে, ঋণদানের শর্ত কঠোর হয়েছে এবং বিনিয়োগের গতি থেমে গেছে। সরকারী পদক্ষেপের সত্ত্বেও পুরনো ক্ষমতার কাঠামো সংস্কারকে সীমাবদ্ধ করে। ভবিষ্যতে আর্থিক সেক্টরের স্বাস্থ্যের পুনরুদ্ধার নির্ভর করবে রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি, নিয়ন্ত্রক তত্ত্বাবধানের শক্তি এবং বাজারের আস্থার পুনর্গঠনের উপর।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments