১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩-এ হিউস্টন অ্যাস্ট্রোডোমে অনুষ্ঠিত টেনিসের ঐতিহাসিক ম্যাচে বিলি জিন কিং ববি রিগ্সকে পরাজিত করে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৯০ মিলিয়ন দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। পাঁচ সেটের শর্তে খেলা এই ম্যাচটি নারী-পুরুষের সমতা নিয়ে গঠিত এক সিরিজের দ্বিতীয় পর্ব ছিল।
ম্যাচের শেষের দিকে কিংকে $১০০,০০০ (প্রায় £৭৪,৭৬৫) পুরস্কার চেক প্রদান করা হয়, যা সময়ের সবচেয়ে বড় নগদ পুরস্কারগুলোর একটি হিসেবে স্বীকৃত। এই অর্থের পাশাপাশি ম্যাচের পৃষ্ঠপোষকতা, শোভা-সজ্জা এবং মিডিয়ার বিশাল প্রচারও ছিল।
এই জয়টি শুধুমাত্র ক্রীড়া জয় নয়; এটি ১৯৭০-এর দশকের নারীর অধিকার আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। কিং নিজেই উল্লেখ করেন, তার বিজয় সমাজিক পরিবর্তনের জন্য একটি রাজনৈতিক মিশন ছিল, যা নারীর সমতা ও স্বীকৃতির পথে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
আজকের টেনিস জগতে আরি সাবালেনকা ও নিক কিরগোসের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচকে “ব্যাটল অফ দ্য সেক্সেস” শিরোনামে উপস্থাপন করা হয়, তবে তার গুরুত্ব ১৯৭৩ সালের কিং-রিগ্স ম্যাচের তুলনায় অনেক কম। কিং বলেন, “একজন পুরুষ ও একজন নারী, এটাই একমাত্র সাদৃশ্য।”
কিং তার সময়ের সামাজিক পরিবেশকে তুলে ধরে বলেন, “আমাদের লড়াই ছিল সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য। আমি জানতাম, রিগ্সকে পরাজিত করা মানে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো।” তার এই মন্তব্যগুলো ম্যাচের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে।
ম্যাচের সময় কিং ২৯ বছর বয়সী, দশবার গ্র্যান্ড স্ল্যাম সিঙ্গেলস চ্যাম্পিয়ন এবং তার ক্যারিয়ারের শীর্ষে ছিলেন। অন্যদিকে রিগ্স ৫৫ বছর বয়সী, ১৯৩৯ সালে উইম্বলডনে পুরুষ একক, যুগল ও মিক্সড ডাবলস শিরোপা জিতেছিলেন, তবে তার ক্যারিয়ার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।
রিগ্স দুই বছর ধরে কিংকে চ্যালেঞ্জ করছিলেন, কিন্তু কিং ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যান করতেন। শেষ পর্যন্ত তিনি সম্মতি দেন, যখন অস্ট্রেলিয়ার মার্গারেট কোর্ট, তখনকার বিশ্ব নম্বর এক নারী টেনিস খেলোয়াড়, রিগ্সের বিরুদ্ধে প্রথম “ব্যাটল অফ দ্য সেক্সেস”-এ হারে যান।
কোর্টের পরাজয় প্রথম ম্যাচের ফলাফলকে আরও নাটকীয় করে তুলেছিল এবং রিগ্সের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিল। তবে কিংয়ের বিজয় রিগ্সের আত্মবিশ্বাসকে ভেঙে দিল এবং নারীর টেনিসের ভবিষ্যৎকে নতুন দিক দেখাল।
এই ম্যাচের পর থেকে নারীর টেনিসে অংশগ্রহণ ও স্বীকৃতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং সমতা সংক্রান্ত আলোচনায় ক্রীড়া একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিং এবং রিগ্সের এই মুখোমুখি হওয়া কেবল একটি খেলাধুলার প্রতিযোগিতা নয়, বরং সামাজিক পরিবর্তনের এক মাইলফলক হিসেবে স্মরণীয়।
আজকের টেনিস ক্যালেন্ডারেও “ব্যাটল অফ দ্য সেক্সেস” শিরোনাম ব্যবহার করা হয়, তবে ১৯৭৩ সালের ঐতিহাসিক মুহূর্তের তুলনায় তার প্রভাব ও গুরুত্ব কমে গেছে। তবু কিং-রিগ্সের লড়াই ক্রীড়া ও সমাজের সংযোগস্থলে একটি মাইলফলক রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণা জোগায়।



