ঢাকা শহরে অপরাধ প্রতিবেদক সমিতি (CRAB) আজ মানবশৃঙ্খল গঠন করে প্রথাম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার প্রকাশনাগুলোর ওপর সাম্প্রতিক ধ্বংসাত্মক হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের প্রতিবাদ জানায়। সমাবেশটি রাস্তায় ব্যানার ধরে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সাংবাদিকরা মিডিয়া স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের অধিকারকে সরাসরি হুমকি হিসেবে এই আক্রমণগুলোকে চিহ্নিত করেছে।
প্রদর্শনকারীরা তৎক্ষণাৎ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করে, দায়ী ব্যক্তিদের সনাক্তকরণ ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়। পাশাপাশি, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আইনগত ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
ধারাবাহিকভাবে, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (DRU) সভাপতি আবু সলেহ আকন্দ উল্লেখ করেন, প্রথাম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের ওপর আক্রমণগুলো শুধু প্রেসের স্বাধীনতা নয়, দেশের গণতন্ত্রের ওপরও আক্রমণ। তিনি বলেন, গত ১৬ বছর ধরে সাংবাদিকরা মিডিয়া স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য সংগ্রাম করেছে, যার সময় ১,৫০০েরও বেশি মানুষ নিহত এবং হাজারো মানুষ আহত হয়েছে।
আকন্দ আরও জানান, বর্তমান সরকারই সেই সংগ্রামের ফল, তাই এই ধরনের আক্রমণকে সরকারী দায়িত্বের অংশ হিসেবে গণ্য করা উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ ও প্রশাসনের কিছু বিভাগ পূর্বেই আক্রমণ সম্পর্কে তথ্য পেয়ে থাকলেও তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করেনি, ফলে সময়মতো হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ঘটনার পরিমাণ কমানো সম্ভব হতো।
অধিকন্তু, তিনি উল্লেখ করেন, কিছু সরকারি কর্মকর্তা এখনও পূর্বের দমনমূলক শাসনের মানসিকতা বজায় রেখেছেন, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি স্বরূপ। তিনি অতীতের ৬৫ থেকে ৭০ জন সাংবাদিকের হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে বলেন, অধিকাংশ মামলায় ন্যায়বিচার সম্পূর্ণভাবে প্রদান করা হয়নি, বিশেষ করে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রু্নির হত্যাকাণ্ডে।
আকন্দের মতে, নতুন সরকারের অধীনে ন্যায়বিচারের আশা করা হলেও, মিডিয়া হাউসগুলোকে অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংস করা দেখা গিয়েছে, যা সাংবাদিকদের একত্রে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আজ প্রথাম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার, আগামীকাল হয়তো অন্য কোনো মিডিয়া হাউস।” এই বক্তব্যে তিনি সকল সাংবাদিককে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
CRAB সভাপতি মির্জা মেহেদি তামাল উল্লেখ করেন, মিডিয়া আউটলেটের ওপর আক্রমণ নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পূর্বের তুলনায় অপ্রত্যাশিত মাত্রায় ঘটেছে। তিনি বলেন, এই ধরনের হিংসাত্মক কাজের ধারাবাহিকতা মিডিয়া স্বাধীনতার জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা উল্লেখ করেন, তদন্তের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও আক্রমণ ঘটতে পারে। তারা সরকারকে আহ্বান জানিয়ে, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় আনতে এবং মিডিয়া কর্মীদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রয়োগে ত্বরান্বিত করতে অনুরোধ করেন।
এই মানবশৃঙ্খল গঠন ও প্রতিবাদকে মিডিয়া সংস্থাগুলো ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোও সমর্থন জানিয়েছে, যা দেশের প্রেস স্বায়ত্তশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সঙ্কেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে কীভাবে তদন্ত ও শাস্তি কার্যকর হবে, তা এখনও অনিশ্চিত, তবে সাংবাদিকদের দাবি স্পষ্ট: স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত, দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি এবং মিডিয়া কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।



