মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত টেস্টের চূড়ান্ত দিনে ইংল্যান্ড ১৭৫ রান লক্ষ্য পূরণ করে অস্ট্রেলিয়ার ওপর চার উইকেটের পার্থক্যে জয়লাভ করে। সিরিজের সর্বোচ্চ লক্ষ্য ছিল এই ১৭৫, যা পূর্বের তিন ইনিংসের তুলনায় বেশি নির্ধারিত হয়েছিল।
ইংল্যান্ডের ক্যাপ্টেন বেন স্টোকসের নেতৃত্বে দলটি শেষ ইনিংসে সফলতা অর্জন করে। বেটেল, ২২ বছর বয়সী, সর্বোচ্চ স্কোর করে দলের জয় নিশ্চিত করে। তার পারফরম্যান্সের সময় গ্যালারিতে তার মা‑বাবা উপস্থিত ছিলেন, যা তাকে বিশেষভাবে উল্লসিত করেছে।
বেটেল জয় অর্জনে নিজের অবদানের জন্য আনন্দ প্রকাশ করেন, “দর্শকদের মধ্যে মা‑বাবা আছেন, তাদেরকে দেখতে পেয়ে ভালো লাগছে। রুটের সঙ্গে ব্যাট করা স্বপ্নের মতো, যদিও দুজনেই শেষ পর্যন্ত আসতে পারেনি।” তিনি ম্যাচের ফলাফলকে “অবিশ্বাস্য” বলে উল্লেখ করেন।
স্টোকসের জন্য এই জয় বিশেষ গুরুত্বের। সিরিজের প্রথম তিন টেস্টে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর সমালোচনার মুখে ছিলেন তিনি, তবে মেলবোর্নে দলকে জয়ী করে তিনি নিজের নেতৃত্বের মূল্য প্রমাণ করেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময়ের পর অস্ট্রেলিয়ায় জয়ী দলের অংশ হতে পেরে ভালো লাগছে।”
মেলবোর্নের পিচ সম্পর্কে স্টোকসের মন্তব্য স্পষ্ট। তিনি এটিকে টেস্ট ক্রিকেটের আদর্শ পিচ হিসেবে গণ্য করেন না, যদিও প্রথম দিনে ২০ এবং দ্বিতীয় দিনে ১৬ উইকেট নেমে এসেছে। “খেলাটি দুই দিনেরও কম সময়ে শেষ হয়েছে, যা আমাদের প্রত্যাশার বাইরে,” তিনি উল্লেখ করেন।
স্টোকস জোর দিয়ে বলেন, পিচের অবস্থা সত্ত্বেও দলকে সঠিক কৌশল বেছে নিতে হয়েছে এবং রান তাড়া করার পদ্ধতিতে তিনি গর্বিত। তিনি যোগ করেন, “মাঠের কন্ডিশনের মুখোমুখি হয়ে সাফল্য পেতে সেরা কৌশলই বেছে নিতে হয়।”
অস্ট্রেলিয়ার ক্যাপ্টেন স্টিভেন স্মিথ ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে, ম্যাচের দ্রুত সমাপ্তি নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “খেলাটি খুব দ্রুত শেষ হয়েছে, যদি আমরা দুই ইনিংসে ৫০‑৬০ রান বেশি করতে পারতাম তবে হয়তো ফলাফল ভিন্ন হতো।”
স্মিথ ইংল্যান্ডের বোলিং এবং আক্রমণাত্মক ব্যাটিংকে প্রশংসা করে, “আজ সকালে তারা দারুণ বোলিং করেছে এবং ব্যাটিংয়েও আক্রমণাত্মক ছিল,” বলে কৃতিত্ব দেন। পিচের পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি বলেন, “পিচ আসলে তেমন বদলায়নি।”
মেলবোর্নের পিচে মোট ৩৬ উইকেট নেমে এসেছে, যা দুই দিনের কম সময়ে ম্যাচের সমাপ্তি ঘটায়। এই দ্রুত ফলাফল উভয় দলের কৌশলগত অভিযোজনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
ইংল্যান্ডের জয় সিরিজের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে, কারণ এটি অস্ট্রেলিয়ার ঘরে প্রায় ১৫ বছর পর প্রথম জয়। দলটি এই জয়ের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করেছে এবং পরবর্তী ম্যাচে শক্তিশালী অবস্থান বজায় রাখবে।
স্টোকস এবং স্মিথ উভয়ই ম্যাচের পরস্পরকে সম্মান জানিয়ে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার মান বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। উভয় ক্যাপ্টেনই বললেন, “কঠিন শর্তে সাফল্য অর্জন করা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।”
সারসংক্ষেপে, মেলবোর্নের টেস্টে ইংল্যান্ডের ১৭৫ লক্ষ্য পূরণ, বেটেলের শীর্ষ স্কোর, স্টোকসের ক্যাপ্টেনশিপের সাফল্য এবং পিচের অপ্রত্যাশিত আচরণ—এই সবই ম্যাচকে স্মরণীয় করে তুলেছে।



