যশোর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়ন (JnUcsu) এবং হল ইউনিয়ন নির্বাচন ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রফেসর ড. মোস্তফা হাসান ২৬ ডিসেম্বর ১২টি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছেন। এই নির্দেশিকাগুলি ভোটারদের জন্য বাধ্যতামূলক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রবেশের শর্ত নির্ধারণ করে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকায় না থাকা কেউই নির্বাচনের দিনে ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি পাবে না। তাই প্রত্যেক ভোটারকে নিজের নাম তালিকায় আছে কিনা আগে থেকেই যাচাই করা জরুরি। তালিকায় নাম না থাকলে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হবে।
ভোটারদের বৈধ বিশ্ববিদ্যালয় আইডি কার্ড দেখাতে হবে। আইডি মেয়াদ উত্তীর্ণ বা হারিয়ে গেলে, ভোটার তালিকার পাশে থাকা QR কোড স্ক্যান করে ভোটার স্লিপ সংগ্রহ করা যাবে। এই স্লিপটি ভোটের দিন আইডি হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে এবং ভোটারকে ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দেবে।
ভোটারদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের আগে নির্ধারিত কিউতে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে। ভোটের ঘরে ব্যাগ, মোবাইল ফোন বা যেকোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে যাওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এমন কোনো বস্তু নিয়ে আসলে, তা রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে এবং ভোট শেষের পর নিজ দায়িত্বে পুনরুদ্ধার করতে হবে।
প্রতিটি ভোটারকে তিনটি ব্যালট পেপার প্রদান করা হবে, যা রিটার্নিং অফিসার স্বাক্ষরিত ও সিলযুক্ত থাকবে। ব্যালট পেপারকে কখনো ভাঁজ করা, ছিঁড়ে ফেলা বা ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না; অতিরিক্ত কোনো পেপার সরবরাহ করা হবে না। ভোটের পরে, পেপারগুলো নির্ধারিত সিরিয়াল নম্বরের ব্যালট বক্সে ফেলতে হবে।
ব্যালট পেপার জমা দেওয়ার আগে, কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়ন ভোটের জন্য বাম থাম্বে এবং হল ছাত্র ইউনিয়ন ভোটের জন্য ডান থাম্বে অম্লিন ইঙ্ক প্রয়োগ করা হবে। ইঙ্কের চিহ্ন ভোটের বৈধতা নিশ্চিত করে এবং একাধিকবার ভোট দেওয়া রোধ করে।
নির্দেশিকায় আরও উল্লেখ আছে যে, ভোটারদের ভোটের সময় কোনো ধরনের সহায়তা গ্রহণ করা যাবে না এবং ভোটের পরে ব্যালট বক্সে প্রবেশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ভোটারদের দায়িত্ব হল প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ সঠিকভাবে অনুসরণ করা, যাতে ফলাফল নির্ভরযোগ্য থাকে।
এইসব নিয়মাবলী মেনে চলা না হলে ভোটারকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হতে পারে এবং ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হতে পারে। তাই সকল ছাত্র-ছাত্রীকে পূর্বে নির্দেশিকা মনোযোগ সহকারে পড়ে নেয়া এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভোটার তালিকা, QR কোড এবং ইন্ডেলিবল ইঙ্কের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে, যাতে ভোটারদের কোনো অসুবিধা না হয়। ক্যাম্পাসের প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে ভোটার স্লিপ সংগ্রহ, কিউতে দাঁড়ানো, ব্যালট পেপার গ্রহণ এবং শেষ পর্যন্ত ভোট জমা দেওয়া পর্যন্ত সব প্রক্রিয়া একসাথে পরিচালিত হবে।
প্রতিটি ভোটারকে সময়মতো ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে হবে, যাতে কিউতে অতিরিক্ত অপেক্ষা না হয়। এছাড়া, ভোটের দিন মোবাইল ফোন ও ব্যাগ না নিয়ে আসা অথবা সেগুলো নিরাপদে জমা রাখার ব্যবস্থা করা সুবিধাজনক হবে।
শেষে, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ: ভোটের আগে আপনার আইডি কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়েছে কিনা যাচাই করুন এবং যদি প্রয়োজন হয় QR কোড থেকে ভোটার স্লিপ প্রিন্ট করে হাতে রাখুন। আপনার ভোটের দিন কীভাবে পরিকল্পনা করবেন? প্রস্তুত থাকলে শৃঙ্খলাপূর্ণ এবং নির্ভরযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা সহজ হবে।



