মেলবোর্নের মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত চতুর্থ টেস্টে ইংল্যান্ড দল অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জয়লাভ করে দীর্ঘ সময়ের পর টেস্ট জয় অর্জন করে। সিরিজের ফলাফল ৩-০ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে হলেও, শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্সকে দলীয় নেতৃত্বে সাহসিকতা ও দৃঢ়তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইংল্যান্ডের ক্যাপ্টেন বেন স্টোকস এবং শীর্ষ ব্যাটসম্যান জো রুট উভয়েই ম্যাচের পর তাদের দলের মনোভাবের প্রশংসা করেন। রুট উল্লেখ করেন যে, সিরিজ হারানো সবসময়ই দুঃখজনক, তবে পুরো সিরিজে দলটি যে চরিত্র দেখিয়েছে তা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, টেস্টের প্রস্তুতি সময়ে দলকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে, তবে দুই দিন জুড়ে তাদের প্রতিক্রিয়া চমৎকার ছিল।
রুট আরও যোগ করেন যে, ম্যাচের পিচ দ্রুতগতির এবং কঠিন ছিল, তবে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা তা অনুযায়ী নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে এবং সুযোগ পেলে তা কাজে লাগিয়েছে। ব্যাটিংয়ে তারা যে সাহসিকতা দেখিয়েছে, সেটিই শেষ পর্যন্ত জয়ের মূল কারণ। তিনি অস্ট্রেলিয়ার ঘরে এমন পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা না থাকলেও, আজকের জয়কে একটি ইতিবাচক সিগন্যাল হিসেবে দেখেন এবং আগামী সপ্তাহের ম্যাচগুলোতে আরও উন্নতি করার আশা প্রকাশ করেন।
স্টোকসও একই রকম মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, টেস্টের আগে দলের ওপর নানা ধরনের চাপ আর বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছে, যার মধ্যে নোউসা সফরের পর্যালোচনা, বেঞ্চে বেন ডাকেটের ভিডিও লিক এবং ইসিবি তদন্তের বিষয় অন্তর্ভুক্ত। এসবের মাঝেও দলটি কাজের উপর মনোযোগ বজায় রেখেছে এবং আজকের পারফরম্যান্সে তা স্পষ্ট হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের মোকাবিলা করার সময় মনোযোগী থাকা এবং সঠিক পরিকল্পনা অনুসরণ করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
দলটি আজকের জয়কে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক সঞ্চার হিসেবে দেখছে, যা পরবর্তী টেস্টে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। সিরিজের শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্সকে একটি ইতিবাচক সূচনা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, যদিও সিরিজের ফলাফল অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে রয়ে গেছে। পরবর্তী টেস্টের সময়সূচি এখনও নির্ধারিত, তবে দলটি এই জয়কে ভিত্তি করে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করবে।
ইংল্যান্ডের এই জয়কে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বিশ্লেষকরা দলীয় মনোবল ও কৌশলগত মানিয়ে নেওয়ার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। দ্রুত পিচে ব্যাটিংয়ের সাহসিকতা এবং কঠিন পরিস্থিতিতে দলের ঐক্যকে মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ভবিষ্যতে ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্যালেন্ডারেও এই ধরনের মানসিকতা বজায় রাখলে ফলাফল আরও উন্নত হতে পারে।



