ইলিলি নামে একটি এআই ইনফ্লুয়েন্সার গিগি, যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়েস বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ বছর বয়সী সিমোন ম্যাককেঞ্জি তৈরি করেছেন; গিগি টিকটকে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়ে কয়েক মাসে মিলিয়ন ভিউ অর্জন করেছে এবং সিমোনকে টিকটক ক্রিয়েটর ফান্ড থেকে হাজারো ডলার আয় করতে সহায়তা করেছে।
গিগি সাধারণ তরুণ ইনফ্লুয়েন্সারের মতোই চুল ও মেকআপে নিখুঁত দেখায়, তার ভিডিওতে খাবার খাওয়া, স্কিনকেয়ার রুটিন, লিপস্টিক লাগানো ইত্যাদি দেখানো হয়, এবং মাঝে মাঝে তার ছোট শিশুটিও উপস্থিত থাকে। তবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখা যায়, যেমন গিগি গলিত আগ্নেয়গিরির পিজ্জা খায়, তুষারফুল ও কটন ক্যান্ডি দিয়ে লিপ গ্লস তৈরি করে, অথবা তার হাত কখনো কখনো যে বস্তুটি ধরছে তার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে।
এই অদ্ভুত দৃশ্যগুলো কোনো বিশেষ শুটিং টিমের ফল নয়; সিমোন সহজ টেক্সট প্রম্পট ব্যবহার করে গুগল ভেও ৩ (Google Veo 3) সহ এআই চ্যাটবটগুলোকে নির্দেশ দেন, এবং সেগুলো কয়েক মিনিটের মধ্যে সম্পূর্ণ ভিডিও তৈরি করে। প্রম্পটে শুধু “গিগি ল্যাভা পিজ্জা খাচ্ছে” বা “গিগি তুষারফুল লিপ গ্লস ব্যবহার করছে” লিখলেই এআই সংশ্লিষ্ট অ্যানিমেশন ও রেন্ডারিং সম্পন্ন করে।
সিমোনের মতে, এক ভিডিও মাত্র চার দিনের মধ্যে ১,৬০০ ডলার (প্রায় ১,১৮৫ পাউন্ড) আয় করেছে, যা তাকে এই পদ্ধতি অব্যাহত রাখতে উৎসাহিত করেছে। টিকটকের ক্রিয়েটর ফান্ডের মাধ্যমে গিগি অর্জিত ভিউয়ের ভিত্তিতে সিমোনকে অতিরিক্ত আয় প্রদান করে, ফলে দুই মাসের মধ্যে গিগি মিলিয়ন ভিউ পেয়ে সিমোনকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আয় এনে দেয়।
এই ধরনের এআই-চালিত কন্টেন্টকে কিছু সমালোচক “এআই স্লপ” (AI slop) বলে অভিহিত করেন, কারণ এটি কম প্রচেষ্টা দিয়ে দ্রুত ভিউ অর্জনের একটি পদ্ধতি হিসেবে দেখা হয়। তবে একই সঙ্গে, এই প্রবণতা সামাজিক মিডিয়ার ফিডে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং নতুন স্রষ্টাদের জন্য সহজে ভিরাল হওয়ার সুযোগ তৈরি করছে।
ডিজিটাল সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ এবং পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক জেসা লিঙ্গেল উল্লেখ করেন, বর্তমানে এআই ইনফ্লুয়েন্সার তৈরি করার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে এবং ভবিষ্যতেও এই গতি অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, এআই ভিডিও উৎপাদন কয়েক মিনিটে যেকোনো বিষয়ের দৃশ্য তৈরি করতে সক্ষম, যা প্রচলিত ইনফ্লুয়েন্সার অর্থনীতিকে বড় পরিবর্তনের মুখে ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা এআই স্রষ্টাদের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে দুই দিকের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। একদিকে, এআই কন্টেন্টের অতিরিক্ত প্রবেশ সামাজিক মিডিয়ার গুণগত মানকে হ্রাস করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। অন্যদিকে, এআই প্রযুক্তি অর্থনৈতিক বা প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা না থাকা স্রষ্টাদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে পারে; যারা উচ্চমানের ক্যামেরা, স্টুডিও বা ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যারের সামর্থ্য না রাখলেও এখন সহজে ভিরাল হওয়া সম্ভব।
ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈধ পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, এবং এআই প্রযুক্তির সংযোজন এই ক্ষেত্রকে দ্রুত পরিবর্তন করছে। গিগির মতো এআই চরিত্রের সাফল্য দেখায় যে, ভবিষ্যতে ডিজিটাল স্রষ্টা শুধুমাত্র মানবিক উপস্থিতি নয়, অ্যালগরিদমের সৃষ্টিও হতে পারে, যা বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ডিং এবং অনলাইন কমিউনিটির গঠনকে নতুনভাবে গড়ে তুলবে।
সিমোনের অভিজ্ঞতা দেখায় যে, সঠিক প্রম্পট এবং এআই টুলের সমন্বয়ে কম সময়ে বড় আয় এবং ব্যাপক দর্শকসংখ্যা অর্জন করা সম্ভব, যা তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন আয় উৎসের দরজা খুলে দিচ্ছে। এআই ইনফ্লুয়েন্সার গিগি এখনো মানবিক সত্তা নয়, তবে তার জনপ্রিয়তা এবং আর্থিক সাফল্য এআই-চালিত কন্টেন্টের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত প্রদান করে।



