সৌদি আরবের মক্কা শহরে অবস্থিত পবিত্র কাবা শরীফের সংলগ্ন গ্রান্ড মসজিদে গত বৃহস্পতিবার একটি আত্মহত্যা প্রচেষ্টা ঘটেছে। মসজিদের উপরের তলা থেকে একজন ব্যক্তি লাফিয়ে পড়তে চেয়েছিলেন, তবে মসজিদের নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা রায়ান বিন সাঈদ বিন ইয়াহিয়া আল-আহমেদ তা রোধ করতে সক্ষম হন।
আত্মহত্যা চেষ্টাকারী যখন তলার দিকে ঝুঁকলেন, রায়ান দ্রুত তার দিকে এগিয়ে গিয়ে তাকে ধরার চেষ্টা করেন। যদিও পুরো ঘটনাটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঘটেছে, রায়ান তার দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্যক্তিকে মাটিতে পড়া থেকে রক্ষা করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যান্য নিরাপত্তা কর্মী এবং মসজিদের কর্মচারীরা তৎক্ষণাৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেন।
সেই সন্ধ্যায় রায়ানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। পরের দিন, অর্থাৎ শুক্রবার, সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুলআজিজ বিন সউদ বিন নাঈফ হাসপাতালে গিয়ে রায়ানের উপস্থিতি ও তার বীরত্বের প্রশংসা করেন। তিনি রায়ানের দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও মানবিক দায়িত্ব পালনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আত্মহত্যা চেষ্টাকারীর পরিচয়, তার নাগরিকত্ব এবং বর্তমান স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে কোনো সরকারি বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, ব্যক্তির পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখা হয়েছে এবং তার অবস্থা সম্পর্কে আপডেট দেওয়া হবে না।
সৌদি আইন অনুযায়ী, মসজিদে কোনো ধরনের হিংসাত্মক বা আত্মহত্যা সংক্রান্ত ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত চালু করে। বর্তমানে এই ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্তের দায়িত্ব মক্কা শহরের নিরাপত্তা বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ওপর। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মসজিদে নিরাপত্তা কর্মীদের ভূমিকা ও দায়িত্বের গুরুত্ব আবারও স্পষ্ট হয়েছে। গ্রান্ড মসজিদে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মুসলিম ধর্মীয় পর্যটক ও তীর্থযাত্রী আসেন; তাই নিরাপত্তা কর্মীদের সতর্কতা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া অপরিহার্য। রায়ানের কাজের মাধ্যমে মসজিদে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা পুনরায় নিশ্চিত হয়েছে।
প্রিন্স আব্দুলআজিজের প্রশংসা এবং রায়ানের বীরত্বের স্বীকৃতি মসজিদে কর্মরত সকল নিরাপত্তা কর্মীর মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার প্রতিরোধে সতর্কতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর, মসজিদে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন ও অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা কর্মীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ সেশন, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া কৌশল এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমর্থন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সৌদি সরকার এই ধরনের ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে এবং ভবিষ্যতে মসজিদে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি ও ফলাফল সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য জানানো হবে।



