ঢাকা ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ মাহবুব আলি জাকি, ৬৪ বছর বয়সী, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দলের প্রি‑ম্যাচ ওয়ার্ম‑আপের সময় হঠাৎ মাটিতে গিয়ে মারা গেছেন। তিনি রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাকি মাঠে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তৎক্ষণাৎ সিপিআর (CPR) করা হয় এবং জরুরি গাড়ি তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসা সেবা সত্ত্বেও, তার জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
দলীয় সিইও আতিক ফাহাদ এই ঘটনার পর দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়ে দেন যে জাকি আর জীবিত নেই। তিনি জাকির মৃত্যুর শোক প্রকাশের পাশাপাশি দলের জন্য এই ক্ষতি কতটা বড় তা উল্লেখ করেন।
মাহবুব আলি জাকি ২০২০ সালে বাংলাদেশি আন্ডার‑১৯ দলের বিশ্বকাপ জয়ী কোচিং প্যানেলে ছিলেন। সেই সময়ে তিনি তরুণ খেলোয়াড়দের কৌশলগত দিকনির্দেশনা ও মানসিক প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করার পর থেকে জাকি বিভিন্ন বয়সের দলকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তিনি জাতীয় স্তরে বিভিন্ন গ্রুপের অধীনে কাজ করেছেন এবং দেশের ভবিষ্যৎ ক্রিকেটারদের গড়ে তোলায় অবদান রেখেছেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কোচ হিসেবেও তিনি বহু সময় কাজ করেছেন। এই দায়িত্বে তিনি উচ্চ পর্যায়ের টুর্নামেন্টে দলকে প্রস্তুত করতে সহায়তা করেন এবং ট্যাকটিক্যাল পরিকল্পনা তৈরি করেন।
বিএপিএল (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ) দলের সঙ্গে তার সম্পর্কও দীর্ঘস্থায়ী। তিনি বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজের জন্য কোচিং স্টাফের অংশ হিসেবে কাজ করেছেন, যেখানে তার অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
জাকির মৃত্যু সংবাদ প্রকাশের পর, ক্রিকেট জগতে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যদিও মূল প্রতিবেদনে সরাসরি মন্তব্য নেই, তবে তার দীর্ঘদিনের অবদানকে স্মরণ করে সমগ্র ক্রিকেট পরিবার তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে।
ঢাকা ক্যাপিটালসের রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের সঙ্গে নির্ধারিত ম্যাচটি একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। জাকির অনুপস্থিতিতে দলটি কিভাবে প্রস্তুতি নেবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে ক্লাবের ব্যবস্থাপনা দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, যেখানে এই ঘটনা ঘটেছে, বাংলাদেশের অন্যতম আধুনিক ক্রিকেট ভেন্যু। এখানে নিয়মিত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রশিক্ষণ সেশনের জন্যও এটি প্রায়ই ব্যবহৃত হয়।
মাহবুব আলি জাকির তীব্র কর্মজীবন ও প্রশিক্ষক হিসেবে তার অবদান এখনো স্মরণীয় থাকবে। তার অকাল প্রয়াণ ক্রিকেট জগতে একটি বড় শূন্যতা রেখে গেছে, তবে তিনি যে তরুণ খেলোয়াড়দের গড়ে তুলেছেন, তাদের পারফরম্যান্সে তার শিক্ষা জীবিত থাকবে।



