মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত চতুর্থ টেস্টে ইংল্যান্ড দল দুই দিনের মধ্যে ম্যাচ শেষ করে ৪ উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার ওপর জয়লাভ করে। এই জয়টি ৫,৪৬৮ দিন, অর্থাৎ ১৫ বছর ও ১৮টি টেস্টের দীর্ঘ বিরতির পর অস্ট্রেলিয়ায় ইংল্যান্ডের প্রথম জয় হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।
সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ১৫২ রান সংগ্রহ করে নেতৃত্ব নিতে চাইল, তবে ইংল্যান্ডের দ্রুত বোলিং আক্রমণ তাদের লিডকে নষ্ট করে। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ব্যর্থতা প্রথম ইনিংসে তাদেরকে ১৫২ রানে আটকে রাখে, ফলে ইংল্যান্ডের পেসাররা শীঘ্রই চাপ সৃষ্টি করে।
দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ৩৪.৪ ওভারে মাত্র ১৩২ রান করে আটকে যায়। বোল্যান্ড ৬ উইকেট, হেড ৪৬ রান, ওয়েডারল্ড ৫, লাবুশেন ৮, স্মিথ ২৪* এবং অন্যান্য বোলারদের সমন্বয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইন‑আপ ভেঙে দেয়। অস্ট্রেলিয়ার স্কোরে উল্লেখযোগ্য ছিল অ্যাটকিনসনের একক উইকেট এবং কার্সের চারটি, টংয়ের দুইটি।
ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ছিল ১৭৫ রান, যা অর্জনের জন্য তারা ৩২.২ ওভারে ১৭৮/৬ স্কোর করে সফল হয়। ক্রলি ৩৭, ড্যাকেট ৩৪, বেটেল ৪০ এবং ব্রুকের অর্ধ‑অনটক ১৮* মূল অবদান রাখে। স্টার্কের ১০ ওভারে ২ উইকেট, নিসারের ৮ ওভারে কোনো উইকেট না থাকলেও রিচার্ডসনের ২ উইকেট সহ বোলিং ইউনিটটি ইংল্যান্ডকে লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করে।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে জশ টংের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট এবং তার নিজস্ব ১১‑২‑৪৪‑২ পারফরম্যান্স তাকে ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ের শিরোপা এনে দেয়। টংের এই অবদান ইংল্যান্ডের জয়ের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে স্বীকৃত হয়।
সিরিজের সামগ্রিক ফলাফল এখনো অস্ট্রেলিয়া ৩‑১ ব্যবধানে এগিয়ে আছে, তবে ইংল্যান্ডের এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাসকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। পরবর্তী ম্যাচে উভয় দলই শীর্ষ পারফরম্যান্স বজায় রাখার চেষ্টা করবে, যাতে সিরিজের শেষ ফলাফল নির্ধারিত হয়।
মেলবোর্নের গ্যালারিতে ইংলিশ সমর্থকরা গানের সুরে আনন্দের উল্লাসে মেতে উঠেছিল, এবং শেষ হয়ে যাওয়া দুই দিনের ম্যাচের পর তাদের চিৎকারে শোনা গেল, “অবশেষে ৫,৪৬৮ দিন পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট জয়!”। এই জয়টি ২০১১ সালের জানুয়ারিতে সিডনিতে অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের অধীনে ইংল্যান্ডের শেষ জয়ের পরের প্রথম বিজয়, যখন ইংল্যান্ড ১৮টি টেস্টের মধ্যে ১৬টি হারিয়ে এবং ২টি ড্র করে দীর্ঘ অপেক্ষা শেষ করেছে।



