অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গীত জগতের ৭৬ বছর বয়সী আইকন জন ফার্নহাম, মুখের ক্যান্সার চিকিৎসার পর কয়েক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে উপস্থিত হয়েছেন।
বছরের শেষের ছুটির সময় তিনি পরিবারসহ একত্রিত হয়েছেন, যা তার দুই পুত্রের সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা ছবিতে ধরা পড়ে।
রব ফার্নহাম ফেসবুকে পোস্ট করা ছবিতে দেখা যায় গায়কটি তার স্ত্রী জিল এবং সন্তানদের সঙ্গে টেবিলের চারপাশে বসে হাসছেন। ছবিটি বক্সিং ডে তে তোলা, এবং ক্যাপশনে “বক্সিং ডে শেনানিগান্স” উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্য পুত্র জেমস ইনস্টাগ্রামে একই রকম পারিবারিক ছবি শেয়ার করেছেন, যেখানে সবাই একসাথে আনন্দময় মুহূর্ত কাটাচ্ছেন। ক্যাপশনে “ফার্নহাম পরিবার থেকে শুভ বড়দিন” লেখা ছিল।
এই ছবিগুলো জন ফার্নহামকে প্রকাশ্যে দেখা প্রথমবারের মতো করে তুলেছে, যা শেষ ২০২৫ সালের শুরুর দিকে তার স্ত্রীর জন্মদিনে উপস্থিতির পর থেকে ঘটেছে।
সেই সময়ের পর থেকে তিনি জনসাধারণের দৃষ্টিগোচর হওয়া থেকে দূরে ছিলেন, কারণ ২০২২ সালে মুখে টিউমার ধরা পড়ার পর একটি বড় স্বাস্থ্য সংগ্রাম শুরু হয়।
ডাক্তাররা ১২ ঘণ্টার দীর্ঘ অপারেশন করে তার মুখ ও চোয়াল থেকে কিছু অংশ অপসারণ করেন, এরপর আট সপ্তাহের রেডিয়েশন থেরাপি চালিয়ে যান।
অপারেশনের পর তিনি ক্যান্সারমুক্ত ঘোষিত হলেও, শল্যচিকিৎসার ফলে তার কথা বলা ও গাওয়ার ক্ষমতা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে।
২০২৪ সালে প্রকাশিত তার আত্মজীবনীতে তিনি শল্যচিকিৎসার শারীরিক ও মানসিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন; মুখের বিকৃতি তাকে স্প্যাগেটি এমনকি গানের নোটও সঠিকভাবে উৎপাদন করতে বাধা দেয় এবং চলার সময় ব্যথা অনুভব করেন।
এই শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তার সঙ্গীত ক্যারিয়ার তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে গৌরবময়। “ইউ আর দ্য ভয়েস” সহ বহু হিট গানের মাধ্যমে তিনি অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গীতের এক অমলিন চিহ্ন হয়ে রয়েছেন।
তিনি অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র শিল্পী, যিনি পাঁচটি ধারাবাহিক দশকে শীর্ষস্থানীয় অ্যালবাম অর্জন করেছেন।
এই ক্রিসমাসের সমাবেশে তিনি প্রথমবার দাদার ভূমিকায়ও ছিলেন, যা তার পরিবারকে নতুন আনন্দের সঞ্চার করেছে।
ভক্তরা তার স্বাস্থ্যের উন্নতি ও ভবিষ্যতে আবার মঞ্চে ফিরে আসার আশায় অপেক্ষা করছেন।



