19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিককক্সবাজার-হাতিয়ায় ২৯-৩০ ডিসেম্বর মিসাইল অনুশীলন, নৌযান চলাচল বন্ধ

কক্সবাজার-হাতিয়ায় ২৯-৩০ ডিসেম্বর মিসাইল অনুশীলন, নৌযান চলাচল বন্ধ

বাংলাদেশ নৌবাহিনী ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কক্সবাজার ও হাতিয়া দ্বীপের মধ্যে অবস্থিত সমুদ্র অঞ্চলে মিসাইল চালনা অনুশীলন করবে, এ বিষয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) শনিবার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। একই সঙ্গে সকল বাণিজ্যিক নৌযান, মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসহ অন্যান্য জাহাজকে উক্ত জোনে অবস্থান ও চলাচল থেকে বিরত থাকতে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অনুশীলনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সামুদ্রিক এলাকা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে এবং নৌযান চলাচল সীমাবদ্ধ থাকবে। নৌবাহিনী কর্তৃক নির্ধারিত নিরাপত্তা পরিধি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে এই অঞ্চল অতিক্রম করতে হবে।

কক্সবাজার ও হাতিয়ার মধ্যবর্তী সমুদ্র অঞ্চলটি পূর্বে বাণিজ্যিক রুট, মাছ ধরার জাল এবং পর্যটন নৌকাসহ বিভিন্ন ধরণের নৌযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই এলাকায় মিসাইল অনুশীলন পরিচালনা করা নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় সাধনের একটি অংশ।

বাংলাদেশ নৌবাহিনী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আধুনিকীকরণ প্রকল্পে অগ্রসর হয়ে বিভিন্ন ধরনের শিপ ও মিসাইল সিস্টেম যুক্ত করেছে। পূর্বে অনুষ্ঠিত সমুদ্র প্রশিক্ষণগুলোতে জাহাজের গতি, লক্ষ্যবস্তু সনাক্তকরণ ও দূরত্বে মিসাইল নিক্ষেপের দক্ষতা পরীক্ষা করা হয়েছে। এই অনুশীলনটি দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা কৌশলকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পরিকল্পিত।

ইন্ডো-প্রশান্ত মহাসাগরের নিরাপত্তা পরিবেশে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নৌবাহিনীর এই ধরনের প্রশিক্ষণ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমুদ্র নিরাপত্তা সংক্রান্ত সহযোগিতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও মায়ানমারসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলো এই ধরনের কার্যক্রমকে নজরে রাখছে।

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চ্যানেলে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে এই অনুশীলনের সময়সূচি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য শেয়ার করেছে। সংশ্লিষ্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নৌবাহিনীর প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, কোনো অনিচ্ছাকৃত সংঘর্ষ এড়াতে সকল পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা হবে।

একজন সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, “এ ধরনের মিসাইল অনুশীলন শুধু প্রশিক্ষণ নয়, বরং আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখা উচিত, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে নৌবাহিনীর সক্ষমতা প্রদর্শন করে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এই ধরনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখা পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে আস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ।

মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসহ স্থানীয় জেলেদের জন্য এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা কিছুটা অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে, তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নৌবাহিনী স্থানীয় সম্প্রদায়কে বিকল্প মাছ ধরার জোন ও সময়সূচি সম্পর্কে তথ্য প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

অনুশীলনের শেষের দিকে নৌবাহিনী একটি সমাপনী প্রতিবেদন প্রকাশ করবে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা জানাবে। এই সময়ে নৌবাহিনীর নজরদারি ও সমুদ্র ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে রিয়েল-টাইম আপডেট প্রদান করা হবে, যাতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে।

সারসংক্ষেপে, কক্সবাজার-হাতিয়া সমুদ্র অঞ্চলে নির্ধারিত মিসাইল অনুশীলন দেশের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, এবং নৌযান চলাচল সংক্রান্ত সতর্কতা অনুসরণ করলে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি না থেকে কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments