ব্রিটিশ-ইজিপ্টীয় লেখক ও গণতন্ত্র সমর্থক আলা ফাতাহ গতকাল যুক্তরাজ্যের ব্রীটন বিমানবন্দরে অবতরণ করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা উঠার পর দেশে ফিরে আসেন। তিনি সেপ্টেম্বর মাসে এক দশকেরও বেশি সময় জেলে কাটিয়ে মুক্তি পেয়েছিলেন এবং এখন প্রথমবারের মতো তার সন্তানকে দেখতে পারছেন। সরকারী অনুমোদন ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বাতিলের পরই তিনি বিমান ধরেন, যা তার পরিবার ও আন্তর্জাতিক সমর্থকদের জন্য নতুন সূচনা নির্দেশ করে।
আলা ফাতাহের জেলাভর্তি সময়ের মূল কারণ ছিল ২০১৯ সালে তিনি ফেসবুকে ইজিপ্টে নির্যাতন সংক্রান্ত একটি পোস্ট শেয়ার করার পর “ভুয়া খবর ছড়ানো” অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়া। এই মামলায় তাকে কয়েক বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যদিও তিনি নিজে তা ভুল তথ্যের প্রচার নয়, বরং মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রকাশ হিসেবে দাবি করেন।
সেপ্টেম্বর মাসে ইজিপ্টের প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাতাহ আল-সিসি তার ওপর ক্ষমা প্রদান করেন, তবে একই সময়ে তাকে দেশের বাইরে যাওয়া থেকে বাধা দেওয়া হয়। এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক চাপের পর অবশেষে শিথিল করা হয়, ফলে আলা ফাতাহ যুক্তরাজ্যের দিকে রওনা হন।
ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা উঠার আগে আলা ফাতাহের মা লায়লা সওয়েইফ দুবার ক্ষুধা-হত্যা করেন, যা তার মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার ১৪ বছর বয়সী পুত্র ব্রীটনে বসবাস করায় এই ভ্রমণ তার জন্য পারিবারিক পুনর্মিলনের সুযোগ হয়ে দাঁড়ায়।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কেয়ার স্টার্মার টুইটারে প্রকাশ্যে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং আলা ফাতাহের মামলাকে তার সরকারীর অগ্রাধিকার তালিকায় উল্লেখ করেন। আলার বোন মোনা জানান, বিশ্বব্যাপী শত শত মানুষ ও সংগঠন এই মুহূর্তে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে, ফলে পরিবার অবশেষে শোক ও বিচ্ছিন্নতার পর শারীরিকভাবে একত্রিত হতে পারবে।
অবসরের পর অক্টোবর মাসে আলা ফাতাহ বেইজিং-এ একটি সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি ধীরে ধীরে জীবনের স্বাভাবিক রুটে ফিরে আসছেন এবং নিজের স্বাস্থ্যের উন্নতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হয়েছে। তিনি নিজের পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে “জীবনে ফিরে যাওয়ার শেখা” হিসেবে বর্ণনা করেন, যা তার দীর্ঘ সময়ের কারাবাসের পর মানসিক ও শারীরিক পুনরুদ্ধারকে নির্দেশ করে।
আলা ফাতাহের মুক্তি ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পেছনে তার পরিবার, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এবং ব্রিটিশ সরকারী লবিংয়ের সমন্বিত প্রচেষ্টা রয়েছে। জুডি ডেঞ্চ ও অলিভিয়া কলম্যানের মতো বিশ্ববিখ্যাত অভিনেত্রীদের সমর্থনও মিডিয়ায় ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করে, যা ইজিপ্টের মানবাধিকার নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনাকে ত্বরান্বিত করেছে।
এই ঘটনা ইজিপ্ট-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের নতুন মোড় নির্দেশ করতে পারে; মানবাধিকার সংক্রান্ত চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দু’দেশের কূটনৈতিক সংলাপ ও সহযোগিতা পুনর্মূল্যায়ন হতে পারে। আলা ফাতাহের পুনরায় যুক্তরাজ্যে বসবাসের মাধ্যমে ইজিপ্টের রাজনৈতিক বন্দী ও মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক মনোযোগ অব্যাহত থাকবে, যা ভবিষ্যতে আরও মুক্তি ও নীতি পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করতে পারে।



