যুক্তরাজ্যের যুবকদের জন্য সরকার একটি নতুন সামরিক গ্যাপ ইয়ার প্রোগ্রাম চালু করতে যাচ্ছে, যা ২০২৬ সালের শুরুর দিকে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সের প্রায় ১৫০ প্রার্থীর জন্য উন্মুক্ত হবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল তরুণদের মধ্যে সামরিক ক্যারিয়ারের আকর্ষণ বাড়িয়ে দেশের প্রতিরক্ষা শক্তি শক্তিশালী করা, বিশেষ করে রাশিয়ার ইউক্রেনের ওপর আক্রমণ বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে।
প্রোগ্রামটি ‘সামগ্রিক সমাজ’ ভিত্তিক কৌশলের অংশ হিসেবে গৃহীত হয়েছে, যেখানে যুবকদেরকে বেতনসহ এক বছরের প্রশিক্ষণ ও কাজের সুযোগ দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে মাত্র ১৫০ জনকে গ্রহণ করা হবে, তবে চাহিদা অনুযায়ী ভবিষ্যতে বার্ষিক ১,০০০ জনেরও বেশি যুবক-যুবতীকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বেতন সংক্রান্ত তথ্য এখনও চূড়ান্ত না হলেও, সরকারি সূত্র অনুযায়ী এটি নিয়মিত রিক্রুটের বেসিক বেতনের সমান হবে, যা প্রায় £২৬,০০০ (প্রায় $৩৫,০০০) হিসেবে অনুমান করা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য যে, গ্যাপ ইয়ার প্রোগ্রামের অংশগ্রহণকারীরা সক্রিয় যুদ্ধময় মিশনে পাঠানো হবে না, ফলে তারা নিরাপদ পরিবেশে সামরিক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে।
সামরিক প্রশিক্ষণের সময়সীমা ক্ষেত্রভেদে ভিন্ন হবে। সেনাবাহিনীর জন্য ১৩ সপ্তাহের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে দুই বছরের মেয়াদে কাজ করা হবে, আর নৌবাহিনীর ক্ষেত্রে এক বছরের প্রশিক্ষণ ও সেবা নির্ধারিত হয়েছে। রয়্যাল এয়ার ফোর্সের অংশগ্রহণের শর্তাবলী এখনও চূড়ান্ত করা বাকি, তবে তারা ভবিষ্যতে এই কাঠামোতে যুক্ত হতে পারে।
প্রতিবাদী সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা ডিফেন্স সেক্রেটারি জন হিলি এই উদ্যোগকে ‘প্রতিরক্ষার নতুন যুগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং যুবকদের জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলে দেওয়ার কথা বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রোগ্রাম দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে আধুনিকায়ন এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বাড়াতে সহায়ক হবে।
ইউরোপের অন্যান্য দেশও অনুরূপ জাতীয় সেবা পরিকল্পনা চালু করেছে। ফ্রান্স, জার্মানি এবং বেলজিয়াম এই বছরই তাদের নিজস্ব গ্যাপ ইয়ার বা জাতীয় সেবা প্রোগ্রাম শুরু করেছে, যা রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকির প্রতিক্রিয়ায় সামরিক বাহিনীর জনশক্তি বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। এই প্রবণতা ইউরোপীয় নিরাপত্তা নীতিতে একটি নতুন দিক নির্দেশ করে।
ব্রিটেনের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ, রিচার্ড নাইটনও সামরিক প্রস্তুতির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের ‘পুত্র ও কন্যা’দেরকে সম্ভাব্য রাশিয়ান আগ্রাসনের মুখে প্রস্তুত থাকতে হবে। যদিও সরাসরি রাশিয়ান আক্রমণ অসম্ভব বলে তিনি মনে করেন, তবে হাইব্রিড হুমকি এবং সাইবার আক্রমণ বাড়ছে।
নাইটন সাম্প্রতিক একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, রাশিয়ার একটি গোয়েন্দা জাহাজ যুক্তরাজ্যের উপকূলে প্রবেশ করে মানচিত্রায়ন কাজ করছিল, যা নিরাপত্তা সংস্থার সতর্কতা বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ধরনের ঘটনা সামরিক প্রস্তুতি ও নাগরিক সচেতনতাকে ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
গ্যাপ ইয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য যুবকদেরকে পেশাগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা এবং দেশপ্রেমের অনুভূতি প্রদান করতে চায়। একই সঙ্গে এটি রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে এই প্রোগ্রাম কীভাবে বিকশিত হবে এবং কতজন যুবক এতে অংশ নেবে তা দেশের সামরিক নীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



