রাজধানীর আগারগাঁও নিবন্ধন কেন্দ্রে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) তারেক রহমানের এনআইডি প্রাপ্তির প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নির্বাচন কমিশনের এনআইডি শাখার মহাপরিচালক এস এম হুমায়ুন কবীর সাংবাদিকদের জানাতে পারেন যে, আবেদন তথ্য সিস্টেমে প্রবেশের পর নম্বর জেনারেট হতে কিছুটা সময় লাগে, যা সম্পূর্ণ সফটওয়্যার ভিত্তিক। অনুমোদন নিশ্চিত হলে এবং নম্বর তৈরি হলে এনআইডি তৎক্ষণাৎ প্রস্তুত হয়, ফলে প্রার্থীর নিবন্ধন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব।
নির্বাচনের শেষ তারিখের নিকটবর্তী হওয়ায় এই প্রক্রিয়ার গতি বিশেষ গুরুত্ব পায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ ২৯ ডিসেম্বর, তাই তারেক রহমানের এনআইডি দ্রুত পাওয়া নির্বাচন কমিশনের অগ্রাধিকার। প্রার্থীর নাম তালিকায় থাকা বাধ্যতামূলক শর্তের কারণে, তিনি গত বৃহস্পতিবার দেশে ফিরে শনিবারই সরাসরি নির্বাচন কমিশনে গিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেন।
হুমায়ুন কবীর উল্লেখ করেন যে, এনআইডি তৈরির প্রক্রিয়ায় মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই; সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে। কিছু আবেদনকারীর জন্য এই প্রক্রিয়া পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত নিতে পারে, আবার অন্যদের জন্য দশ ঘণ্টার বেশি সময় লাগতে পারে। তবে তারেকের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সব প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা করে রেখেছে, যাতে তিনি সর্বনিম্ন সময়ে এনআইডি পেয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল প্রকাশ করেন, যেখানে ভোটগ্রহণের তারিখ ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে। বগুড়া-৬ আসন থেকে তারেক রহমানের নামে ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে, যা তার প্রার্থীতা নিশ্চিত করে।
বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল ২২ ডিসেম্বর সিইসির সঙ্গে বৈঠক করে তার দেশে ফেরার এবং ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি আলোচনা করে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ২৭ ডিসেম্বর জানান যে, ভোটার ও এনআইডি সংক্রান্ত সব কাজ তারেক নিজেই সম্পন্ন করবেন, কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ হবে না।
নির্বাচন কমিশন ভবনের আশেপাশে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়িয়ে দেখা যায়। বিশেষ গার্ড এবং ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রার্থীর নিরাপদ প্রবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক পরিবেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক।
এই দ্রুত এনআইডি প্রাপ্তি তারেকের মনোনয়নপত্র সময়মতো জমা দেওয়ার সুযোগ দেবে এবং বগুড়া-৬ আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত করবে। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দৃঢ়তা আগামী নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।



