গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলা থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জের দিকে যাত্রা করা এক বিয়ের নৌকা, সন্ধ্যাবেলা ঘন কুয়াশার কারণে মাঝ নদীর মাঝখানে থেমে যায়। নৌকায় মোট ৪৭ জন যাত্রী ছিল, যার মধ্যে ১৭ জন নারী ও নয়জন শিশু অন্তর্ভুক্ত। কুয়াশা দৃশ্যমানতা শূন্যে নামিয়ে দেয়, ফলে নৌকা কোনো দিকে অগ্রসর হতে পারে না এবং শীতল বাতাসে ভিজে যায়।
নৌকা কালিতলা ঘাট থেকে প্রায় সন্ধ্যা ছয়টায় রওনা হয়। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে দম্পতি ও তাদের পরিবার গন্তব্যে ফেরার জন্য নৌকা বেছে নেয়। প্রায় সাতটায় ঘন কুয়াশা হঠাৎই নিকটবর্তী হয়ে আসে, যা নৌকার চালককে বাধ্য করে মাঝ নদীর মাঝখানে নোঙর ফেলতে। নৌকাটি তখন থেকে নীরবভাবে ভাসছে, কোনো সাহায্য পৌঁছায়নি।
যাত্রীদের মধ্যে দম্পতির আত্মীয় সুয়াইব ইসলাম জিয়ান জানান, নৌকায় ১৭ জন নারী ও নয়জন শিশু রয়েছে, যার মধ্যে চারজনের বয়স এক থেকে এক-and-a-half বছর। কুয়াশা ও শীতল বাতাসের কারণে সবাই শীতের ঝাঁকুনি অনুভব করছে। তীব্র ঠাণ্ডা ও তীব্র বাতাসের মধ্যে শিশুরা বিশেষভাবে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
যাত্রীরাও জরুরি সেবা ৯৯৯, পুলিশ ও অগ্নি সেবার সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছে, তবে এখনো কোনো রেসকিউ টিম নৌকায় পৌঁছায়নি। সামাজিক মাধ্যমে সাহায্যের আবেদনও ছড়িয়ে পড়েছে, তবে তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি।
নৌকার চালক আবদুল কাশেমের মতে, নৌকা বর্তমানে সারিয়াকান্দি ও জামথাল ঘাটের মাঝখানে অবস্থান করছে। কুয়াশা এতটাই ঘন যে নৌকার দিকনির্দেশনা নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। চালক নৌকাটি নিরাপদে তীরের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্ভব নয়।
যাত্রীর একজন রাশেদুল ইসলাম বাবু উল্লেখ করেন, বিয়ের অনুষ্ঠানটি বগুড়া শহরে অনুষ্ঠিত হয় এবং সন্ধ্যায় নৌকায় ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে কুয়াশা হঠাৎই নৌকাটিকে অচল করে দেয়, ফলে সবাই অপ্রত্যাশিতভাবে রাতের অন্ধকারে আটকে থাকে।
ঝুমুনা নদীতে বৃষ্টির মৌসুমে কুয়াশা প্রায়ই দেখা যায়, তবে এই ধরনের ঘন কুয়াশা নৌকা চলাচলে বড় বাধা সৃষ্টি করে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পূর্বে একই রকম ঘটনা ঘটেছে, তবে ততটা দীর্ঘ সময়ের জন্য আটকে থাকা দেখা যায়নি।
এই ঘটনার ফলে নদী পথে যাতায়াতের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। বিশেষ করে বিয়ের মতো সামাজিক অনুষ্ঠানের পর ফেরার সময়ে, যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য যথাযথ সতর্কতা ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
স্থানীয় প্রশাসন ও রেসকিউ সংস্থাগুলি এখনো নৌকায় পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে কুয়াশার ঘনত্ব ও রাতের অন্ধকারের কারণে কার্যক্রমে বিলম্ব হতে পারে। জরুরি সেবার দ্রুত সাড়া না পেলে যাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি বাড়তে পারে।
এই ধরনের পরিস্থিতি রোধের জন্য পূর্বাভাসমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান করা হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী এলাকায় কুয়াশা সতর্কতা ব্যবস্থা, রেডার ও যোগাযোগ সরঞ্জাম স্থাপন করা হলে অনুরূপ ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে। এছাড়া নৌকা চালকদের জন্য কুয়াশা পূর্বাভাসের প্রশিক্ষণ ও জরুরি নোঙর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
স্থানীয় জনগণ এই ঘটনার পর নৌকা চালকদের নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা আশা করে, রেসকিউ টিম দ্রুত পৌঁছে যাত্রীদের নিরাপদে তীরে নামিয়ে দিতে পারবে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ঘটনা নদী পথে যাতায়াতের ঝুঁকি ও জরুরি সেবার প্রস্তুতির গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে। কুয়াশা, শীতলতা ও রাতের অন্ধকারে আটকে থাকা যাত্রীদের জন্য দ্রুত রেসকিউ ব্যবস্থা, সঠিক তথ্য প্রচার ও স্থানীয় সংস্থার সমন্বয় অপরিহার্য। ভবিষ্যতে সমন্বিত পরিকল্পনা ও সতর্কতা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে, অনুরূপ দুর্ঘটনা কমে যাবে এবং নদী পথে যাত্রা আরও নিরাপদ হবে।



