সেন্ট্রাল আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র (CAR) আগামী রবিবার রাষ্ট্রীয় প্রেসিডেন্ট ও সংসদীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটারদের সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হবে। এই নির্বাচনটি দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট ফস্টিন-আর্চেঞ্জ টুয়াদেরাকে দুই মেয়াদ অতিক্রম করে পুনরায় শাসনকালে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ভোটদান প্রক্রিয়া জাতীয় ও স্থানীয় স্তরে একসাথে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে স্থানীয় নির্বাচন ৪০ বছর পর পুনরায় চালু করা হবে।
টুয়াদেরা ২০২২ সালে বিটকয়েনকে আইনি মুদ্রা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিতে দেশের অবস্থানকে উজ্জ্বল করেছেন। এরপর তিনি প্রেসিডেন্টের মেয়াদসীমা বাতিলের জন্য একটি গণভোটের আয়োজন করেন, যা ভোটারদের অনুমোদন পায়। এই পদক্ষেপের ফলে তিনি অতীতের দুই মেয়াদ সীমা অতিক্রম করে পুনরায় শাসনকালে আসার পথ তৈরি করেন।
বিপক্ষের কিছু দল এই প্রক্রিয়াকে ‘নকল’ বলে গণ্য করে ভোটে অংশগ্রহণের প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা উল্লেখ করে যে, দুইজন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রার্থনা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বিলম্ব ঘটেছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ফলে, এই দলগুলো ভোটের বৈধতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে এবং ভোটে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
স্থানীয় স্তরে, ৪০ বছর পর প্রথমবারের মতো পৌরসভা ও জেলা স্তরের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে সেলেকা ও অ্যান্টি-ব্যালাকা গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান গৃহযুদ্ধের ফলে এক মিলিয়ন মানুষ স্থানচ্যুত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে স্থানীয় নির্বাচন দেশের পুনর্গঠন ও শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নির্বাচন পরিচালনা সংস্থার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। দেশের সীমিত প্রশাসনিক কাঠামো ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কারণে বৃহৎ পরিসরের ভোটদান প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে দূরবর্তী গ্রাম ও গৃহযুদ্ধের প্রভাবিত এলাকায় ভোটার তালিকা ও ভোটের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জের মুখে।
ভৌগোলিকভাবে, CAR একটি ভূমি-আবদ্ধ দেশ, যার উত্তরে চাদ এবং দক্ষিণে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কংগো অবস্থিত। জনসংখ্যা প্রায় ৫.৫ মিলিয়ন, যেখানে ফরাসি ও সাঙ্গো সরকারি ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। জাতিগত ও ধর্মীয় বৈচিত্র্য বিশাল, মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সহাবস্থান দেশের সামাজিক কাঠামোকে জটিল করে তুলেছে।
প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও, স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে CAR আফ্রিকার অন্যতম দরিদ্র দেশ হিসেবে রয়ে গেছে। তেল, সোনা ও ইউরেনিয়ামের মতো সম্পদ রয়েছে, তবে সেগুলোর অধিকাংশই আন্তর্জাতিক কোম্পানির হাতে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটি রাশিয়ার সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে।
রাজধানী বানগুই উবাঙ্গি নদীর তীরে অবস্থিত, যা দেশের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র। বানগুই থেকে রত্ন, কাঠ ও সোনার রপ্তানি হয়, তবে অধিকাংশ জনগণ স্বনির্ভর কৃষিকাজে নির্ভরশীল এবং অর্থনৈতিক কার্যকলাপ সীমিত। দেশের অবকাঠামো দুর্বল, ফলে নির্বাচনের সময় ভোটারদের জন্য গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে।
এই নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যদি টুয়াদেরা পুনরায় নির্বাচিত হন, তবে তিনি তার পূর্বের নীতি চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে, যার মধ্যে ডিজিটাল মুদ্রা ও রাশিয়ান নিরাপত্তা সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, যদি বিরোধী দলগুলো ভোটে সফলতা অর্জন করে, তবে মেয়াদসীমা পুনরায় প্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক সংস্কারের দিকে চাপ বাড়তে পারে।
সামগ্রিকভাবে, CAR-এ এই নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ গঠন, শান্তি প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর গভীর প্রভাব ফেলবে। ভোটের স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।



