মুম্বাইয়ের প্রান্তে প্যানভেল ফার্মহাউসে ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫-এ সালমান খান তার ৬০তম জন্মদিন উদযাপন করেন। পরিবার, বন্ধু ও কয়েকজন শিল্পী উপস্থিত ছিলেন, তবে উপস্থিতির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল।
উদযাপনটির প্রধান অতিথিদের মধ্যে ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি এম.এস. ধোনি এবং তার স্ত্রী। তারা কিছু সময়ের জন্য পার্টিতে অংশ নেন এবং ধোনি সালমানের গানে নাচতে দেখা যায়। উদযাপন শেষে ধোনি ও তার সঙ্গী মুম্বাইতে ফিরে যান।
পার্টির পরিবেশকে বেশ শান্ত ও মৃদু হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, তবে মেজাজে কোনো ঘাটতি ছিল না। অনুষ্ঠানে মদ্যপান প্রচুর ছিল, তবে সালমান নিজে কোনো পানীয় গ্রহণ করেননি। তিনি বারবার বলেন, “আমি এখনো ৬০ হতে পারিনি, বয়সটা অনুভবই করছি না,” এবং উপস্থিত সবাই তাকে আশ্বস্ত করেন যে তিনি তার বয়সের চেয়ে কম দেখাচ্ছেন।
সালমানের বাবা-মা, যদিও বয়সের কারণে ভ্রমণে দ্বিধা প্রকাশ করছিলেন, তবু ফার্মহাউসে উপস্থিত ছিলেন। তার পিতা, সলিম খান, ক্রিসমাস ও জন্মদিন একসাথে উদযাপন করার ইচ্ছা প্রকাশ করে সান্তা ক্যাপ পরিধান করে আনন্দের ছোঁয়া যোগ করেন।
বড়দিনের ছুটির সময়ে অন্যান্য খ্যাতনামা শিল্পীও উপস্থিত ছিলেন না। অমির খান ও শারুক খান নতুন বছরের ছুটিতে ছিলেন এবং পার্টিতে যোগ দিতে পারেননি। অমির খান আগেই জানিয়ে ছিলেন যে তিনি উপস্থিত হতে চেয়েছিলেন, তবে পূর্বনির্ধারিত কাজের কারণে তা সম্ভব হয়নি।
সালমানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কাজের সম্পর্ক থাকা কিছু পরিচালকও উদযাপন থেকে অনুপস্থিত ছিলেন। কবির খান, সঞ্জয় লীলা ভ্যান্সালি ও আলি আব্বাস জাফর—যারা সালমানের ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন—এই রাতে উপস্থিত ছিলেন না।
এছাড়াও, বর্তমানে সালমানের প্রকল্পের পরিচালক অপূর্বা লাখিয়া ট্রেলির শেষ পর্যায়ে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি গ্যালওয়ান যুদ্ধের ট্রেলার চূড়ান্ত সম্পাদনা কাজের জন্য রাত ২ টা পর্যন্ত কাজ করে থাকায় পার্টিতে অংশ নিতে পারেননি।
উদযাপন শেষ হওয়ার পরেও কিছু অতিথি ফার্মহাউসে রাত কাটিয়ে গেছেন, অন্যরা ধীরে ধীরে বেরিয়ে যাচ্ছেন। পার্টির শেষ মুহূর্তে উপস্থিতি ধীরে ধীরে কমে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ফার্মহাউসের শান্ত পরিবেশে পরিণত হয়।
সামগ্রিকভাবে, সালমানের ৬০তম জন্মদিনের পার্টি শান্ত, তবে মজাদার পরিবেশে পরিপূর্ণ ছিল। উপস্থিতদের মধ্যে মদ্যপানের প্রবাহ থাকলেও মূল উদযাপনটি সালমানের বয়সের অদ্ভুত অনুভূতি ও পরিবারিক উষ্ণতা নিয়ে গড়ে উঠেছিল।
বিনোদন ও লাইফস্টাইলের পাঠকদের জন্য এই ধরনের উদযাপন দেখায় যে, বড় মাইলফলক উদযাপনেও সাদামাটা পরিবেশ ও ঘনিষ্ঠ সঙ্গীসঙ্গের গুরুত্ব অপরিসীম। ভবিষ্যতে এমনই আন্তরিক ও স্বাভাবিক উদযাপন প্রত্যাশা করা যায়।



