কক্সবাজারের নুনিয়াচড়া এলাকায় অবস্থিত বিআইডব্লিউটিএ জেটিতে সকাল প্রায় সাতটায় স্ট মার্টিন দ্বীপের দিকে যাত্রা করা একটি যাত্রীবাহী ক্রুজ জাহাজে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। জাহাজের নাম ‘দ্য আটলান্টিক ক্রুজ’, যা তখন জেটিতে নোঙর ফেলেছিল। আগুনের ফলে জাহাজের সম্পূর্ণ কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে কোনো প্রাণহানি বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি।
অগ্নিকাণ্ডের সূচনা সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে, জাহাজের অভ্যন্তর থেকে ধোঁয়া বেরিয়ে আসতে শুরু করে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে শিখা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। জাহাজে তখন কোনো পর্যটক উপস্থিত ছিল না, ফলে মানবিক ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
সামুদ্রিক ক্রুজ অপারেটর মালিকদের সমিতি (SCOAB) এর সাধারণ সম্পাদক হোসেন ইসলাম বাহাদুর জানান, আগুনের প্রাথমিক দৃষ্টিগোচর হওয়ার পরই জাহাজের নিকটবর্তী এলাকায় অবস্থিত ফায়ার ব্রিগেড দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং শিখা নিয়ন্ত্রণে আনে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা শারমিন উল্লেখ করেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা পর্যটক বহরের পর্যবেক্ষণের জন্য জেটিতে উপস্থিত ছিলেন, যা সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী করা হয়। এই উপস্থিতি ঘটনাস্থলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সহায়তা করেছে।
অগ্নি নিভানোর কাজের সময় ফায়ার ফাইটাররা জাহাজের আশেপাশে থাকা অন্যান্য নৌকা ও জাহাজে আগুন ছড়িয়ে পড়া রোধে সতর্কতা অবলম্বন করেন। দ্রুত পদক্ষেপের ফলে পার্শ্ববর্তী নৌকা ও জাহাজে কোনো ক্ষতি হয়নি।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুল আলম ঘটনাস্থলে তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ধারণের জন্য একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে।
তদন্তের আওতায় জাহাজের যান্ত্রিক অবস্থা, ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম এবং নিরাপত্তা মানদণ্ডের যথাযথতা যাচাই করা হবে। এছাড়া, জাহাজে থাকা কর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবৃতি সংগ্রহ করে সম্ভাব্য দোষী দিকগুলো নির্ণয় করা হবে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় জাহাজে কোনো যাত্রী না থাকলেও, স্থানীয় পর্যটন শিল্পে এই ধরনের ঘটনা উদ্বেগের কারণ হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বিবেচনা করছে।
বিএসইউ (বিডি) ও স্থানীয় মিডিয়া সূত্রে জানানো হয়েছে যে, জাহাজের মালিক ও পরিচালনাকারী সংস্থা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা প্রোটোকল পুনর্বিবেচনা করবে এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ বাড়াবে।
অগ্নিকাণ্ডের পর জাহাজের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোকে দ্রুতই রিকভারি ও মেরামতের জন্য উপযুক্ত শিপইয়ার্ডে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে, মেরামত কাজের সময়সূচি ও খরচের বিস্তারিত এখনো প্রকাশিত হয়নি।
স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পর্যটক নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতি পুনরায় পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে জাহাজের নিরাপত্তা সরঞ্জাম, অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা এবং জরুরি পালানোর পরিকল্পনা শক্তিশালী করা হবে।
এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে, তবে দ্রুত তদন্ত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটনার পরিণতি কমাতে সহায়তা করবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা ও জনসাধারণের সহযোগিতা এই ধরনের দুর্যোগের মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



