বিপিএল ১২তম মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের অধিনায়ক নাজমুল হাসান শান্তো ১০১ রান করে দলকে সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে জয়ী করালেন। শান্তোর আক্রমণাত্মক শৈলীর প্রতিফলন হিসেবে তিনি পাঁচটি চতুর্থ এবং দশটি ছয়কোটা মারলেন, মোট ৬০ রান সীমান্তে গড়ে তুললেন এবং বাকি ৪১ রান দ্রুত একক দৌড়ে সংগ্রহ করলেন। এই সেঞ্চুরি শান্তোর জন্য প্রথম এবং একই সঙ্গে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় মাইলফলক, যা তিনি উচ্ছ্বাসের সঙ্গে উদযাপন করেন।
ম্যাচের শুরুর দিকে দুজন ওপেনারই প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দিতে পারেননি, ফলে স্কোরে গ্যাপ তৈরি হয়। শান্তো ও মুশফিকুর রহিম যখন জুটি গঠন করলেন, তখন ওভারপ্রতি দশের বেশি রান গড়ে তোলার গতি বজায় রাখলেন, যা টিমের রুন রেটকে দ্রুত বাড়িয়ে দিল। শান্তোর আক্রমণাত্মক শটের ধারাবাহিকতা এবং মুশফিকুর স্থিতিশীলতা মিলিয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের স্কোর দ্রুত বাড়ল এবং শেষ পর্যন্ত ১০১ রান দিয়ে দলকে জয়ী করালেন।
শান্তোর এই পারফরম্যান্সের পেছনে তার দীর্ঘমেয়াদী পরিশ্রমের গল্প রয়েছে। গত মৌসুমে তিনি ফরচুন বারিশালের হয়ে মাত্র পাঁচটি ম্যাচে সুযোগ পেয়েছিলেন, যেখানে তিনি মোট ৫৬ রান সংগ্রহ করে ১১৯.১২% স্ট্রাইক রেট বজায় রেখেছিলেন। তদুপরি, তার পূর্বের সিজনে সিলেট স্ট্রাইকার্সের হয়ে ১২টি ইনিংসে ১৭৫ রান, গড় ১৪.৫৮ এবং স্ট্রাইক রেট ৯৩.৫৮% অর্জন করলেও কোনো ৪০ রানের অর্ধেক পার হতে পারেননি।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারেও শান্তোর পারফরম্যান্স মিশ্রিত। তিনি ৫০টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৯৮৭ রান করেছেন, গড় ২২.৯৫ এবং স্ট্রাইক রেট ১০৯.০৬%। তবে অধিনায়ক হিসেবে তার রেকর্ড তুলনামূলকভাবে কম; ২৪টি আন্তর্জাতিক ক্যাপের মধ্যে গড় ১৮.৭৬ এবং স্ট্রাইক রেট ১০৪.২৩%। এই পরিসংখ্যানগুলো দেখায় যে শান্তো এখনও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান।
শান্তোর লক্ষ্য স্পষ্ট: বিপিএলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশ্বকাপ নির্বাচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। তিনি টুর্নামেন্টের আগে জানিয়েছিলেন, বিপিএলে নিজের শো দেখিয়ে তিনি বিশ্বকাপের দরজায় কড়া নাড়া দিতে চান। উদ্বোধনী ম্যাচে সেঞ্চুরি করে তিনি নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছেন, যা তার ক্যারিয়ারের নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।
ম্যাচের পর শান্তো প্রকাশ করেছেন, জয় পাওয়া এবং নিজের অবদান রাখতে পেরে তিনি আনন্দিত। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, প্রথম ম্যাচের গুরুত্ব অপরিসীম এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে শুরুর মোমেন্টাম দলকে সাফল্যের পথে নিয়ে যায়। এই জয় এবং শুরুর শক্তিশালী গতি তাকে এবং দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের কোচও শান্তোর পারফরম্যান্সকে প্রশংসা করে দলের কৌশলগত দিক থেকে তার ভূমিকা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছিলেন, শান্তোর আক্রমণাত্মক শৈলী এবং নেতৃত্বের গুণাবলি দলকে সঠিক পথে নিয়ে গেছে এবং পরবর্তী ম্যাচগুলোতে এই গতি বজায় রাখার প্রয়োজন।
বিপিএল ১২তম মৌসুমের পরবর্তী ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স সিলেট টাইটান্সের পর আরেকটি শক্তিশালী দলকে মুখোমুখি হবে, যেখানে শান্তোর ধারাবাহিকতা পরীক্ষা হবে। শান্তো এবং মুশফিকুর রহিমের জুটি আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
শান্তোর এই সেঞ্চুরি শুধু ব্যক্তিগত মাইলফলক নয়, বরং রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের জন্য একটি শক্তিশালী সূচনা চিহ্নিত করে। দলটি এখন টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে শুরুর মোমেন্টামকে কাজে লাগিয়ে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে জয় ধারাবাহিকভাবে অর্জন করতে চায়।
বিপিএল সংগঠনও শান্তোর পারফরম্যান্সকে লিগের উচ্চমানের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে, যা তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। শান্তোর সেঞ্চুরি লিগের প্রতিযোগিতামূলকতা এবং উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে, যা ভক্তদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা জাগিয়ে তুলেছে।
সারসংক্ষেপে, শান্তোর ১০১ রান রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ী করিয়েছে, তার ব্যক্তিগত রেকর্ডকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে এবং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক সুযোগের দরজা খুলে দিয়েছে। তার লক্ষ্য স্পষ্ট, এবং এখন তার পারফরম্যান্সকে ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখাই তার পরবর্তী চ্যালেঞ্জ।



