27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিটিইউসি প্রধান ইউরোইউনিয়নের সঙ্গে কাস্টমস ইউনিয়ন বাদ না দেওয়ার আহ্বান জানালেন

টিইউসি প্রধান ইউরোইউনিয়নের সঙ্গে কাস্টমস ইউনিয়ন বাদ না দেওয়ার আহ্বান জানালেন

ইউকেতে ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেসের (টিইউসি) সর্বোচ্চ পদস্থ নেতা পল নোয়াক, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংযোগের পক্ষে মত প্রকাশ করেন। তিনি সম্প্রতি ব্রিটিশ সম্প্রচার সংস্থা (বিবিসি) তে ইইউয়ের সঙ্গে কাস্টমস ইউনিয়ন বাদ না দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছিলেন, এটি যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যিক বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। নোয়াকের মতে, জীবনের মান উন্নত না হলে সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক আস্থা দ্রুত হ্রাস পাবে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার, ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্নির্মাণের ইচ্ছা প্রকাশ করলেও, তিনি একক বাজার ও কাস্টমস ইউনিয়নে পুনরায় যোগদানের সম্ভাবনা বাদ দিয়েছেন। স্টারমার যুক্তি দেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলি যদি ইইউয়ের সঙ্গে পুনরায় সংযুক্তি হয় তবে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

লেবার পার্টির নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে স্পষ্টভাবে ইইউর বিদ্যমান কাস্টমস ইউনিয়নে যোগদানের প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তবে পার্টির কিছু উচ্চপদস্থ মন্ত্রী, যেমন স্বাস্থ্য মন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং এবং ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি, ব্রেক্সিটের অর্থনৈতিক ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইইউয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পক্ষে মত দেন। তারা ইইউয়ের সঙ্গে বাণিজ্যিক বাধা কমিয়ে দেশের অর্থনীতিকে ত্বরান্বিত করার সম্ভাবনা উল্লেখ করেন।

এই মাসের শুরুর দিকে, লিবারেল ডেমোক্র্যাটের একটি বিলের পক্ষে ১৩জন লেবার সংসদ সদস্য স্বাক্ষর করেন, যা সরকারকে ইইউয়ের সঙ্গে একটি স্বনির্ধারিত কাস্টমস ইউনিয়ন নিয়ে আলোচনা শুরু করার দাবি করে। এই উদ্যোগটি কাস্টমস ইউনিয়নের মাধ্যমে শুল্ক ও কর হ্রাস, বাণিজ্যিক প্রক্রিয়ার সরলীকরণ এবং দু’দেশের মধ্যে পণ্য চলাচল সহজ করার লক্ষ্য রাখে।

অন্যদিকে, কনজারভেটিভ পার্টি ও রিফর্ম ইউকে এই ধারণার বিরোধিতা করে, যুক্তি দেন যে কাস্টমস ইউনিয়নে ফিরে যাওয়া ব্রেক্সিটের অর্জিত সুবিধাগুলি নষ্ট করবে। তাদের মতে, ইইউয়ের সাধারণ বহিরাগত শুল্ক ও মানদণ্ডের অধীন হওয়া যুক্তরাজ্যের স্বতন্ত্র বৈশ্বিক বাণিজ্য চুক্তি করার ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করবে।

কাস্টমস ইউনিয়নের সমর্থকরা জোর দিয়ে বলেন, এটি শুল্কমুক্ত পণ্য প্রবাহের মাধ্যমে ব্যবসায়িক ব্যয় কমাবে এবং কাগজপত্রের কাজ কমিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে দ্রুততর করবে। তবে সমালোচকরা সতর্ক করেন, ইইউয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়া মানে যুক্তরাজ্যকে ইইউর বহিরাগত শুল্ক নীতি মেনে চলতে হবে এবং একই মানদণ্ডে পণ্য উৎপাদন করতে হবে, যা দেশের স্বতন্ত্র নীতি নির্ধারণের স্বাধীনতাকে সীমিত করবে।

নোয়াকের মতে, ২০২৬ সালকে সরকারকে জীবনের মান সংকট মোকাবেলায় বাস্তবিক পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সুপারমার্কেটের দাম বাড়ার একটি কারণ হল ব্রেক্সিটের ফলে সৃষ্ট বাণিজ্যিক অপ্রতুলতা। এই পরিস্থিতি উন্নত করতে ইইউয়ের সঙ্গে কাস্টমস ইউনিয়ন পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজনীয় বলে তিনি জোর দেন।

ভবিষ্যতে, যদি সরকার কাস্টমস ইউনিয়নের সম্ভাবনা বাদ না দেয়, তবে তা যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যিক নীতি ও আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলিতে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, যদি ইইউয়ের সঙ্গে পুনরায় সংযুক্তি না হয়, তবে দেশের বাণিজ্যিক পরিবেশে বর্তমান সীমাবদ্ধতা বজায় থাকবে এবং জীবনের মান উন্নয়নে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। এই দ্বিমুখী পরিস্থিতি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়ে যাবে, যেখানে সরকার, বিরোধী দল এবং শ্রমিক সংগঠনগুলির মতামত পারস্পরিকভাবে প্রভাবিত করবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments