কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে সেন্ট মার্টিন গন্তব্যে যাত্রা প্রস্তুত করছিলেন পর্যটন জাহাজ ‘দি আটলান্টিক ক্রুজে’। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ভোর প্রায় ছয়টায় জাহাজের ইঞ্জিন রুমে অগ্নিকাণ্ড ঘটার ফলে জরুরি অবস্থা সৃষ্টি হয়। যাত্রী ওঠার আগে আগুন ধরা পড়ায় কোনো প্রাণহানি বা আঘাতের ঘটনা রেকর্ড করা যায়নি।
অগ্নিকাণ্ডের মুহূর্তে জাহাজটি যাত্রী গ্রহণের জন্য ঘাটে জমায়েত ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাহাজটি যাত্রীদের চূড়ান্তভাবে বোর্ডিং করার ঠিক আগে ইঞ্জিন রুমে অগ্নি ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত সাড়া দিয়ে ঘাটের কর্মীরা জাহাজ থেকে যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়।
প্রতিবেদন অনুসারে, জাহাজে প্রায় ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় যাত্রীদের বোর্ডিং শুরু হয়নি, ফলে তারা ঘাটে অপেক্ষা করছিলেন। নিরাপত্তা কর্মীদের ত্বরিত পদক্ষেপে সব যাত্রীকে অন্য উপলব্ধ জাহাজে স্থানান্তর করা হয় এবং কোনো আহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সিএ ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর ঘটনাটির পর মন্তব্য করেন, “যাত্রী ওঠার আগে আগুন ধরা পড়ায় কোনো ক্ষতি হয়নি। সকল যাত্রীকে দ্রুত নিরাপদ জাহাজে স্থানান্তর করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও তদন্তাধীন।
অগ্নি নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘাটে উপস্থিত ফায়ার ব্রিগেড দ্রুত কাজ শুরু করে। ইঞ্জিন রুমের অগ্নি নিভিয়ে জাহাজের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যায়। ফায়ার ফাইটাররা অগ্নি নিভে যাওয়া পর্যন্ত জাহাজের আশেপাশে সতর্কতা বজায় রাখে।
এই ঘটনার ফলে সেন্ট মার্টিন গন্তব্যে যাত্রা পরিকল্পনা করা পর্যটক ও ভ্রমণ সংস্থাগুলি অস্থায়ীভাবে তাদের সূচি পুনর্বিবেচনা করেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কিছু সংস্থা বিকল্প রুট বা ভিন্ন জাহাজের মাধ্যমে যাত্রা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।
কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের জন্য এই অগ্নিকাণ্ড একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষ জাহাজের নিরাপত্তা মানদণ্ড এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া প্রোটোকল পুনরায় পর্যালোচনা করার আহ্বান জানিয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় জাহাজের ইঞ্জিন রুমে কী ধরনের ত্রুটি ঘটেছিল তা জানার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ইঞ্জিনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে কোনো ত্রুটি বা জ্বালানি লিকের সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
স্থানীয় মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে ঘটনাটির ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। অনেকেই জাহাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যাত্রী সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে, পর্যটক ও ভ্রমণ সংস্থাগুলি নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন।
অগ্নিকাণ্ডের পর জাহাজের মালিক ও পরিচালনাকারী সংস্থা জাহাজের মেরামত ও নিরাপত্তা পরীক্ষা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। মেরামত কাজ শেষ হওয়ার পর পুনরায় সেবা শুরু করার আগে সকল নিরাপত্তা চেক সম্পন্ন হবে।
এই ঘটনার ফলে কক্সবাজারের পর্যটন অবকাঠামো এবং জাহাজ পরিচালনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব পুনরায় জোরদার হয়েছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে কঠোর নিয়মাবলী এবং নিয়মিত পরিদর্শন প্রয়োজনীয়তা বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, অগ্নিকাণ্ডের সময় দ্রুত সাড়া এবং সঠিক জরুরি ব্যবস্থার কারণে কোনো প্রাণহানি না হওয়া একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করা যায়। তবে, জাহাজের নিরাপত্তা মানদণ্ডের পুনর্মূল্যায়ন এবং পর্যটক সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও পর্যটন সংস্থাগুলি এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম এবং জরুরি পরিকল্পনা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।



