টেসলা সম্প্রতি তার সর্বশেষ স্বয়ংচালিত সফটওয়্যারের জন্য টেক্সটিংকে অনুমোদনযোগ্য বলে ইঙ্গিত দিয়েছে, যা স্বয়ংচালিত গাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা তীব্র করে তুলেছে। টেসলার এই পদক্ষেপটি স্বয়ংচালিত প্রযুক্তির বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে তুলতে পারে, তবে একই সঙ্গে চালকদের আচরণে ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
টেক্সাসের অস্টিনে ৬১ বছর বয়সী প্রযুক্তি নির্বাহী গেফ পার্লম্যান গত কয়েক সপ্তাহ ধরে টেসলার নতুন স্বয়ংচালিত সফটওয়্যারের বিনামূল্যের ট্রায়াল চালাচ্ছেন। তিনি নিজে গাড়ি চালিয়ে সফটওয়্যারের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করছেন এবং বেশ কয়েকটি জটিল লেন পরিবর্তন ও ব্যস্ত পার্কিং লটে গাড়ি পার্ক করার ক্ষমতাকে প্রশংসা করেছেন।
পার্লম্যান সফটওয়্যারের কার্যকারিতা দেখে তার ৮৯ বছর বয়সী শাশুড়িকে একই সিস্টেম আপগ্রেড করার কথা ভাবছেন। টেসলার এই অতিরিক্ত ফিচারটির মূল্য প্রায় ৮,০০০ ডলার, যা প্রায় ৫,৯৫০ পাউন্ডের সমান। তিনি বিশ্বাস করেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংচালিত সহায়তা শাশুড়ির জন্য উপকারী হতে পারে।
তবে পার্লম্যান নিজে গাড়ি চালানোর সময় ফোনে টেক্সট না করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, হাজারো পাউন্ড ওজনের গাড়ি হাইওয়ে দিয়ে চলার সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা অযৌক্তিক এবং বিপজ্জনক। তাই তিনি সফটওয়্যার ব্যবহার করার সময় চোখ রাস্তার দিকে রাখেন।
টেসলার সিইও ইলন মাস্কের মতে, কোম্পানি নিরাপত্তা পরিসংখ্যানের ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখবে, তবে টেক্সটিংকে মূলত অনুমোদন করা হবে। মাস্ক গত মাসে বিনিয়োগকারীদের সামনে এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি স্বয়ংচালিত গাড়িতে টেক্সটিংকে সীমাবদ্ধ না রাখার সম্ভাবনা উল্লেখ করেন।
টুইটার (X) প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীর প্রশ্নে মাস্ক উত্তর দেন যে, ট্রাফিকের পরিস্থিতি অনুযায়ী টেক্সটিং করা সম্ভব হতে পারে। তিনি বলেন, “পরিবেশের প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করে টেক্সটিং করা যাবে।” এই মন্তব্যের ফলে টেসলার নীতি সম্পর্কে আরও বিশদ ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
টেসলা এই প্রশ্নের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রদান করেনি, ফলে মিডিয়ার কাছে স্পষ্টতা পাওয়া কঠিন হয়েছে। কোম্পানির এই নীরবতা নিরাপত্তা সংস্থার উদ্বেগকে বাড়িয়ে তুলেছে।
নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিনিধিরা টেসলার এই দৃষ্টিভঙ্গিকে আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। সেন্টার ফর অটো সেফটির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মাইকেল ব্রুকস উল্লেখ করেন, টেসলা সম্ভবত চালকদেরকে আইন ভঙ্গের সুযোগ দিচ্ছে। তিনি বলেন, স্বয়ংচালিত প্রযুক্তির পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রভাবগুলো টেসলা পুরোপুরি বুঝতে পারছে না।
গুগলের ওয়েমো সহ অন্যান্য স্বয়ংচালিত গাড়ি নির্মাতাদের অগ্রগতি টেসলাকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চাপিয়ে দিচ্ছে। এই প্রতিযোগিতার মধ্যে টেসলা তার বাজার শেয়ার বজায় রাখতে নিরাপত্তা ও ব্যবহারিকতার মধ্যে সঠিক সমন্বয় খুঁজতে হবে।
টেসলার স্বয়ংচালিত সিস্টেমের মধ্যে ‘অটোপাইলট’ অন্যতম, যা লেন সেন্টারিং, স্বয়ংক্রিয় গতি নিয়ন্ত্রণ এবং পার্কিং সহ বিভিন্ন সহায়ক ফিচার প্রদান করে। তবে নতুন সফটওয়্যারের টেক্সটিং অনুমোদনের সম্ভাবনা এই ফিচারগুলোর নিরাপদ ব্যবহারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
সারসংক্ষেপে, টেসলার স্বয়ংচালিত সফটওয়্যারে টেক্সটিংকে অনুমোদনযোগ্য করার ইঙ্গিত নিরাপত্তা সংস্থার তীব্র সমালোচনা ও ব্যবহারকারীর সতর্কতা বাড়িয়েছে। ভবিষ্যতে টেসলা কীভাবে এই বিতর্ক সমাধান করবে এবং স্বয়ংচালিত গাড়ির নিরাপত্তা মানদণ্ডকে কীভাবে রক্ষা করবে, তা শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।



