গত বছর ২৭ ডিসেম্বর, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোলপ্লাজায় একটি বেপারী পরিবহনের বাসের ধাক্কা প্রাইভেট গাড়ি ও মোটরসাইকেলকে আঘাত করে। এই সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজনসহ দুইটি যানবাহনের মোট ছয়জনের প্রাণ শেষ হয়, আর চারজন আহত হয়। ঘটনাটির পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং ২৮ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট চারজনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দায়ের করে।
দুপুরের প্রায় ১১ টার দিকে, টোলপ্লাজার প্রবেশপথে বাসটি দ্রুত গতি বজায় রেখে প্রাইভেট গাড়ি ও মোটরসাইকেলকে আঘাত করে। গাড়ি ও সাইকেল উভয়ই সোজা পথে চলছিল, ফলে সংঘর্ষের ফলে গাড়ির চালক ও যাত্রীসহ মোট ছয়জনের মৃত্যু ঘটে। আহতদের মধ্যে দুইজনকে জরুরি সেবার মাধ্যমে নিকটস্থ হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তারা চিকিৎসা গ্রহণ করে।
মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিরা হলেন মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান গ্রাম নন্দনকোনার ইকবাল হোসেনের স্ত্রী আমেনা আক্তার (৪৫), তার বড় মেয়ে ইসরাত জাহান (২৬), ছোট মেয়ে রিহা মনি (১১) এবং ইসরাত জাহানের সন্তান আইয়াজ হোসেন (২)। এছাড়া মোটরসাইকেল চালকের স্ত্রী নিপা আক্তার রেশমা (২৬) এবং তাদের সাত বছর বয়সী সন্তান মো. আবদুল্লাহ (৭) ও প্রাণ হারায়।
দুর্ঘটনা ঘটার পরপরই, মৃতের ভাই নুরুল আমিন দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় সড়ক পরিবহন আইনের অধীনে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, বাসের চালক নুর উদ্দিন (২৯), বাসের মালিক মোস্তফা রাঢ়ী (৬৫), তার ছেলে পারভেজ রাঢ়ী (২৭) এবং বেপারী পরিবহনের ব্যানার ব্যবহারকারী ডাবলু বেপারী (৪৭)কে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযোগপত্রটি তদন্ত কর্মকর্তা মুন্সীগঞ্জের হাসাড়া হাইওয়ে থানার এসআই মো. আবদুর রহমানের তত্ত্বাবধানে প্রস্তুত করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা আবদুর রহমান জানান, “বিপর্যয়টি সম্পূর্ণভাবে বাসের মালিক-চালকের দোষে ঘটেছে। তাদের অযৌক্তিক গতি ও নিয়ম লঙ্ঘনের ফলে এই মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটেছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তদন্ত শেষে চারজনকে অপরাধমূলক দায়ে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট না হয়ে বাদী নুরুল আমিন ১৮ ডিসেম্বর নারাজি আবেদন দাখিল করেন। তিনি দাবি করেন, “পুলিশ একতরফাভাবে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে, আমাদের সাক্ষ্য ও প্রমাণ যথাযথভাবে গ্রহণ করা হয়নি।” তিনি আরও দাবি করেন যে, ঘটনাটিতে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল করা হয়েছে এবং মামলায় ধারা ৩০২ যুক্ত করে পুনরায় তদন্তের অনুরোধ করেন।
নুরুল আমিনের নারাজি আবেদন অনুযায়ী, আদালতে শুনানির তারিখ ২১ জানুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে। শুনানিতে ঢাকা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাদুর রহমান মামলাটি শোনাবেন। বাদী এই সময়ে সুষ্ঠু বিচার ও দায়িত্বশীল তদন্তের দাবি পুনরায় তুলে ধরবেন।
বাদীর আইনজীবী রিপন হোসেন মামলার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, “আমরা চাই এই ঘটনার দায়িত্বশীলরা যথাযথ শাস্তি পান এবং ধারা ৩০২ যুক্ত করে মামলাটি পুনরায় তদন্ত করা হোক।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান চার্জশিটে শুধুমাত্র রাস্তায় গতি নিয়ন্ত্রণের দোষই নয়, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ঘটনা ঘটানোর অভিযোগও যুক্ত করা প্রয়োজন।
সামগ্রিকভাবে, ধলেশ্বরী টোলপ্লাজায় ঘটিত এই দুর্ঘটনা এখন আদালতে শোনার অপেক্ষায় রয়েছে। তদন্তের ফলাফল ও বাদীর আপত্তি উভয়ই বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিবেচিত হবে, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।



