বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত শুক্রবার রাত ১০ঃ০৪ টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করে ১৯৭১ সালের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পরিদর্শন‑বইতে স্বাক্ষর করেন। তিনি নিজের পরিচয় ‘রাজনৈতিক কর্মী’ লিখে ২৮‑১২‑২০২৫ তারিখ উল্লেখ করে, আত্মার শান্তি ও মাগফিরাতের প্রার্থনা করেন।
সন্ধ্যা দশটায় তারেক রহমান স্মৃতিসৌধের প্রবেশদ্বার পার করে বেদির দিকে অগ্রসর হন। বেদির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি এক মিনিটের নীরবতা পালন করেন, যা শিহরণময় পরিবেশে উপস্থিত সকলের সম্মানসূচক কাজ হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে জানান, রাস্তায় জনস্রোতের কারণে কিছুটা দেরি হয়েছে, তবে অপেক্ষা করার জন্য সকলকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শ্রদ্ধা সমাপ্তির পর তিনি স্মৃতিসৌধের বেদি এলাকা ত্যাগ করে, তাকে বহনকারী বাসে ওঠেন। বাসে বসে তিনি একই রাতে ১০ঃ৩৭ টায় পরিদর্শন‑বইতে স্বাক্ষর করেন। বইতে তারিখের স্থানে বাংলায় ‘২৮-১২-২০২৫’, নামের স্থানে ‘তারেক রহমান’ এবং পরিচয়ের ঘরে ‘রাজনৈতিক কর্মী’ লিখে, মন্তব্যে ‘১৯৭১ এর শহীদের প্রতি জাতি চির কৃতজ্ঞ। তাদের আত্মার প্রতি আল্লাহর দরবারে মাগফিরাত কামনা করি। জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।’ উল্লেখ করেন।
প্রায় ১০ঃ৪০ টায় বাসটি স্মৃতিসৌধের এলাকা ত্যাগ করে, তারেক রহমানকে বাসভবনের দিকে নিয়ে যায়।
বিএনপির ঢাকা জেলা কমিটির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক এই ঘটনার পর মন্তব্য করে, দলটি আগে থেকেই ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়েছে। তিনি জানান, তারেক রহমান বেদির সামনে এক মিনিটের নীরবতা পালন করে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধৈর্যের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং পরিদর্শন‑বইতে স্বাক্ষর করার পর বাসে চড়ে গন্তব্যে রওনা হয়েছেন।
তারেক রহমানের দেরি হওয়ায় স্মৃতিসৌধের নিয়ম অনুসারে বিকেলেই দলের নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে সম্মানসূচক অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছিল। এই প্রাথমিক অনুষ্ঠানটি দলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়।
সেই সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায়, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা।
এই পরিদর্শন ও স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি দলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জাতীয় স্মৃতিসৌধের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দেশের মুক্তিযুদ্ধের শীর্ষস্থানীয় শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।



