20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধমিমিংসের ভলুকা জেলায় গার্মেন্ট কর্মীর গালিগালাজে মৃত্যু

মিমিংসের ভলুকা জেলায় গার্মেন্ট কর্মীর গালিগালাজে মৃত্যু

ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫ রাতের সময় মিমিংসের ভলুকা জেলায় গার্মেন্ট কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে এক ভিড় গুলিয়ে হত্যা করে। দাশের দেহ জাতীয় সড়কের মাঝখানে পুড়ে গিয়ে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

দীপু দাশকে ফেসবুকে ইসলাম ধর্মের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে ভিড়ের আক্রমণের শিকার করা হয়। তবে রোড ট্রাফিক পুলিশ (RAB) ১৪ নম্বর ব্যাটালিয়নের কমান্ডার পরে জানিয়ে দেন যে, মৃতের সামাজিক মিডিয়া প্রোফাইলে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ভিড়ের দাবি ছিল যে, দাশের পোস্টে ধর্মীয় অপমানের ইঙ্গিত রয়েছে, কিন্তু তদন্তে কোনো নির্দিষ্ট পোস্ট বা মন্তব্য সনাক্ত করা যায়নি। স্থানীয় কর্মী ও বাসিন্দারা উল্লেখ করেন, দাশের বিরুদ্ধে কোনো স্পষ্ট কাজের প্রমাণ নেই, যা ভিড়ের হিংসা বাড়িয়ে দেয়।

দীপু দাশ রাবিদাস সম্প্রদায়ের সদস্য, যা বাংলাদেশে ঐতিহ্যগতভাবে চামড়া কাজের সঙ্গে যুক্ত এবং সামাজিকভাবে বৈষম্যের শিকার। রাবিদাস সম্প্রদায়ের মানুষগুলোকে প্রায়ই ‘চামার’ নামে উল্লেখ করা হয় এবং তাদের ওপর দীর্ঘদিনের কলঙ্ক রয়েছে। এই সামাজিক পটভূমি ঘটনাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

মামলাটির তদন্তে রাবি ও স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। রাবি ১৪ নম্বর ব্যাটালিয়নের কমান্ডার উল্লেখ করেছেন যে, কোনো ডিজিটাল প্রমাণ না থাকায় মামলাটি মূলত গসিপ ও গুজবের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দল পাঠানো হয়েছে এবং মৃতের দেহের অবশিষ্টাংশ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাটির পরিপ্রেক্ষিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। মিমিংস জেলা প্রশাসক জানান, ভিড়ের অংশগ্রহণকারী সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

দীপু দাশের পরিবার ঘটনায় শোক প্রকাশ করে এবং ন্যায়বিচার চায়। পরিবার উল্লেখ করেছে, দাশ গার্মেন্ট খাতে কাজ করতেন এবং তার কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

এই ঘটনার পর, মানবাধিকার সংস্থা ও সামাজিক কর্মীরা গোষ্ঠীভুক্ত মানুষদের বিরুদ্ধে হিংসা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সতর্কতা জোরদার করেছেন। তারা দাবি করছেন, ধর্মীয় গুজবের ভিত্তিতে গৃহহিংসা ও হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা প্রয়োজন।

মামলাটির আইনি প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি, তবে রাবি ও পুলিশ দ্রুত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে আদালতে প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

এই ঘটনা দেশের বিভিন্ন অংশে ধর্মীয় গুজবের ভিত্তিতে হিংসা বাড়ার উদ্বেগকে তীব্র করেছে। সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি একসঙ্গে কাজ করে এমন গুজবের বিস্তার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে।

সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে, রাবিদাস সম্প্রদায়ের মানুষদের ওপর বিদ্যমান কলঙ্ক ও বৈষম্যকে দূর করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী নীতি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় উঠে এসেছে। এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয় তা নিশ্চিত করতে শিক্ষা, সচেতনতা এবং আইনি কাঠামোর শক্তিশালীকরণ অপরিহার্য।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments