রবিবার ম্যানডালেতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী র্যালি, দেশের সামরিক শাসনের অধীনে প্রথম ভোটের সুযোগের সূচনা চিহ্নিত করে। ইরাওয়াদি নদীর তীরের কাছাকাছি একটি খসখসে মাটির মাঠে, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট-জেনারেল তায়জা ক্যাও, ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (USDP) এর প্রার্থী, ভোটারদের সামনে ভবিষ্যৎ উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে কথা বলেন।
USDP, যা সামরিক বাহিনীর সমর্থন পায়, অঙ্গম্যায়থাজান নামক ম্যান্ডালেতে একটি নির্বাচনী এলাকা প্রতিনিধিত্ব করে। তায়জা ক্যাও, সামরিক পটভূমি সম্পন্ন প্রাক্তন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, তার বক্তৃতায় দেশের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন, যদিও উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে উত্তেজনা সীমিত ছিল।
র্যালিতে উপস্থিত ৩০০ থেকে ৪০০ জনের মধ্যে বেশিরভাগই পার্টি সরবরাহ করা লোগোযুক্ত টুপি ও পতাকা ধরে রেখেছেন। গরমের তাপে কিছু অংশগ্রহণকারী শুয়ে পড়ে বিশ্রাম নেয়, আর শিশুরা চেয়ারগুলোর মাঝে দৌড়ে খেলছে। এই পরিবারগুলোর বেশিরভাগই মার্চ মাসে ম্যান্ডালেতে ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত, এবং তারা র্যালি শেষ হলে দ্রুতই অদৃশ্য হয়ে যায়, কারণ তারা সাহায্যের প্রত্যাশা নিয়ে এখানে এসেছিল।
মায়ানমার সামরিক কুপের পর পাঁচ বছর পর, এই নির্বাচন দেশের নাগরিকদের জন্য প্রথম ভোটের সুযোগ প্রদান করে। তবে কুপের পর থেকে চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে বহু অঞ্চল এখনও যুদ্ধের ছায়ায় আচ্ছন্ন, যেখানে ভোটদান সম্ভব নয়। নির্বাচনের সময়সূচি এক মাসের মধ্যে তিনটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে, তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় প্রক্রিয়াটি কার্যকর করা কঠিন।
জাতীয় লিগ ফর ডেমোক্রেসি (NLD), যা পূর্বে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল, এখন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং তার নেতা অং সান সু কী অজানা কারাগারে বন্দি। এই পরিস্থিতি নির্বাচনকে ব্যাপকভাবে নকল হিসেবে চিহ্নিত করেছে, কারণ মূল প্রতিপক্ষের অংশগ্রহণের সুযোগই নেই।
র্যালিতে উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় বহু গোপনীয়তা রক্ষাকারী সামরিক গোয়েন্দা, যাদের পোশাক সাধারণ নাগরিকের মতো। তাদের উপস্থিতি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়, কারণ সামরিক শাসন ফেসবুক পেজে সমালোচনামূলক মন্তব্য বা ‘বিপ্লব’ শব্দ ব্যবহারকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। ফলে, পার্টি কর্মকর্তারা বিদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করেন, যাতে কোনো ভুল শব্দে গিয়ে শাস্তি না পায়।
এই র্যালি এবং সামগ্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। যদিও ভোটদান আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে, তবে বাস্তবে তা সীমিত এলাকায় এবং ভয়-ভীতির পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছে। সামরিক শাসনের অধীনে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ভবিষ্যতে, যদি ভোটদান প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে এবং ফলাফল সামরিক শাসনের পক্ষে যায়, তবে দেশের রাজনৈতিক পুনর্গঠন ও শান্তি প্রক্রিয়ার পথে আরও জটিলতা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়লে সামরিক শাসনকে কিছুটা হলেও গণতান্ত্রিক কাঠামোতে ফিরে আসতে বাধ্য করা সম্ভব হতে পারে।
ম্যান্ডালেতে র্যালির শেষের সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত জনগণ দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে, কারণ তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল সাময়িক সহায়তা পাওয়া, না যে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি শোনার। এই পরিস্থিতি দেশের ভোটারদের বাস্তব চাহিদা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে গভীর ফাঁককে প্রকাশ করে।
সামরিক শাসনের অধীনে পরিচালিত এই নির্বাচন, দেশের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও গণতন্ত্রের পুনর্গঠনের পথে কী ভূমিকা রাখবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে। বর্তমান পর্যায়ে, ভোটের ফলাফল এবং তার পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপগুলোই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি হবে।



